• দুপুর ২:৪৮ মিনিট শনিবার
  • ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে নারীসহ ২ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী জয়ের ট্রাম্পকার্ড বিএনপি নৌকা জেতাতে মাঠ ছাড়ছেন না কালাম আজ মধ্যে রাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারনা নৌকা জেতাতে চেয়ারম্যান মাসুমের অবিরাম গণসংযোগ জামপুরে নৌকার সমর্থকদের উপর গুলি, সংঘর্ষে আহত ২০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের গুলি আচারন বিধি লঙ্ঘন করে আল-আমিন সরকারের মনোনয়নপত্র জমা মেম্বার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন আলমগীর মেঘনা শিল্প শিল্লাঞ্চলে আশরাফ প্রধানের ২ সমর্থককে পিটিয়ে আহত ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী ও জনগনের ভোটাধিকার হনন করতে মিথ্যা মামলা. সোহাগ রনি জনগনের সেবা ও ভালবাসায় পুনরায় প্রার্থী হয়েছি. চেয়ারম্যান রব দীর্ঘদিন পর সোনারগাঁয়ে ১ জনের দেহে করোনা সনাক্ত আমরা চোরের ভালবাসাও চাই আবার দলের মানও রাখতে চাই. কায়সার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতীক লাঙ্গলে ভোট দিবেন. ডালিয়া লিয়াকত চারদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোষ্টার ছেড়ার মহোৎসব চলছে. চুন্নু চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? হেঁশেলে ধনেপাতা আছে তো লাঙ্গলের দায়িত্ব আপনাদের হাতে দিয়ে গেলাম. ডালিয়া লিয়াকত সোনারগাঁয়ে তালাবদ্ধ ঘরে গলাকাটা লাশ উদ্ধার শম্ভুপুরায় পরিবর্তনের অঙ্গিকার চান আওয়ামীলীগ নেতারা সোনারগাঁয়ে তালাবদ্ধ ঘরে গলাকাটা লাশ উদ্ধার
২৫ টাকার পেয়াজ কেন ২৫০ টাকা ?

২৫ টাকার পেয়াজ কেন ২৫০ টাকা ?

Logo


হুসাইন রবিউল
যে টাকায় আগে ১০ কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যেত এখন সে টাকায় কিনতে হচ্ছে মাত্র ১ কেজি পেঁয়াজ। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙ্গে এখন বাংলাদেশে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ। পেঁয়াজ বিক্রেতাদের নির্মম সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ এখন অসহায়। ২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো পেঁয়াজের কেজি ৫০০ টাকা ছুঁয়ে যাবে। কেন আমাদেরকে ২৫ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে? এর জবাব কে দেবে? বর্তমানে বাংলাদেশে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত দামে পেঁয়াজ বিক্রির কোন রেকর্ড নেই। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বাংলাদেশি টাকায় সর্বোচ্চ ৩১টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ এছাড়া মিয়ানমারে ৫৬, নেপালে ৩৮, পাকিস্তানে ৩০, রাশিয়ায় ৩৯, যুক্তরাজ্যে ৩৫, কাজাখস্তানে ২৭ ও মিসরে বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকায়।
দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ১৫-১৬ লাখ টন। বাকি ৮-৯ লাখ টন আমদানি করা হয়। কিন্তু চাহিদার বাইরেও সরবরাহ লাইনে থাকে আরও ৬-৭ লাখ টন।
ফলে দেশে বছরে পেঁয়াজের দরকার হয় ৩০-৩১ লাখ টন। উৎপাদনের বাইরে গত অর্থবছরে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ হিসাবে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। ভারতে দাম বাড়ানোর আগেই যেসব পেঁয়াজ দেশে এসেছে সেগুলো এখনও রয়ে গেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, মিশর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে কম দামে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত কিছুর পরও সরকার পেঁয়াজের বাজার কেন নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। মূল সমস্যাটা কোথায়?
আসলেই কি বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আছে নাকি সবই সাজানো নাটক? এটি সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল নয়তো! দেশে যদি পেঁয়াজের ঘাটতিই থাকে তাহলে এখনো কেন বাজারে দেশী পেঁয়াজ পাওয়া যায়? এসব পেঁয়াজ আসে কোথা থেকে? ঘাটতির কারণে তো সব দেশী পেঁয়াজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বার বার বলছেন ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করছি, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে’। কিন্তু বাস্তবে এ কথার কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলেছেন সিন্ডিকেটের কথা। তবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে দু একটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা আর জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কার্যক্রম।
ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও মালদ্বীপে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। আবার দাম না পেয়ে কৃষকের পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার খবরও ভারতের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বাংলাদেশকে পেঁয়াজ না দিয়ে ভারত মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখার কারণ কি? নিশ্চয় এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি।
মোদ্দা কথা হচ্ছে বাংলাদেশে কিছু দিন পর পরই হয় লবন না হয় চিনি অথবা পেঁয়াজ এসব নিত্য পন্যের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়। কিছু ব্যক্তি রাতারাতি হয়ে যায় কোটিপতি। সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। কেন হয়? কারণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের এমপি মন্ত্রীরা জড়িত থাকে। দাম কমানোর ইচ্ছা তাদের থাকে না। তাছাড়া আমাদেশে নিত্যপন্য আমদানীর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উপর একচ্ছত্র নির্ভরশীলতাও এজন্য দায়ী। সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন বিকল্প রাষ্ট্র চিহ্নিত করে সেখান থেকে পন্য আমদানী করতে হবে। তা নাহলে ভারত হুট করে রপ্তানি বন্ধ করে দেবে আর হা হুতাশ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

লেখকঃ সম্পাদক,চারদিক


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution