• রাত ৩:০৬ মিনিট বুধবার
  • ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে বাড়তে যাচ্ছে ট্রেনের সংখ্যা আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হবে নিয়ামক শক্তি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি বারদি জাতীয়পার্টির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত ১১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা আজ কি চমক দেখাবে পারবে ব্রাজিল? মাদক মামলায় ফেঁসে যাচ্ছে না.গঞ্জের ৪ পুলিশ সদস্য ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সেক্রেটারী সহ বিএনপি ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার দলিল লিখক মোশারফ এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সোনারগাঁয়ে এক সঙ্গে তিন পুত্র সন্তানের জম্ম প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সোনারগাঁয়ে শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা নদী খনন করে নৌ-জেটি নির্মাণ ও আনন্দবাজারের নিম্ন অংশ ভরাটে চেয়ারম্যানের অভিনন্দন সোনারগাঁয়ে চেয়ারম্যানের পুত্রসহ দুইজন ইয়াবাসহ গ্রেফতার কাঁচপুর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ নিখোঁজ সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযানে আরো ৪ জন গ্রেপ্তার সাংবাদিক পরিমল বিশ্বাস এর মায়ের পরলোক গমন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে থানা বিএনপির নিন্দা সোনারগাঁয়ে ৬ বিএনপির নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি সভা বন্দরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ॥ আটক-২ নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশী তল্লাসীর নিন্দা স্বপনের
২৫ টাকার পেয়াজ কেন ২৫০ টাকা ?

২৫ টাকার পেয়াজ কেন ২৫০ টাকা ?

Logo


হুসাইন রবিউল
যে টাকায় আগে ১০ কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যেত এখন সে টাকায় কিনতে হচ্ছে মাত্র ১ কেজি পেঁয়াজ। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙ্গে এখন বাংলাদেশে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ। পেঁয়াজ বিক্রেতাদের নির্মম সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ এখন অসহায়। ২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো পেঁয়াজের কেজি ৫০০ টাকা ছুঁয়ে যাবে। কেন আমাদেরকে ২৫ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে? এর জবাব কে দেবে? বর্তমানে বাংলাদেশে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত দামে পেঁয়াজ বিক্রির কোন রেকর্ড নেই। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বাংলাদেশি টাকায় সর্বোচ্চ ৩১টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ এছাড়া মিয়ানমারে ৫৬, নেপালে ৩৮, পাকিস্তানে ৩০, রাশিয়ায় ৩৯, যুক্তরাজ্যে ৩৫, কাজাখস্তানে ২৭ ও মিসরে বিক্রি হচ্ছে ৩১ টাকায়।
দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ১৫-১৬ লাখ টন। বাকি ৮-৯ লাখ টন আমদানি করা হয়। কিন্তু চাহিদার বাইরেও সরবরাহ লাইনে থাকে আরও ৬-৭ লাখ টন।
ফলে দেশে বছরে পেঁয়াজের দরকার হয় ৩০-৩১ লাখ টন। উৎপাদনের বাইরে গত অর্থবছরে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এ হিসাবে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। ভারতে দাম বাড়ানোর আগেই যেসব পেঁয়াজ দেশে এসেছে সেগুলো এখনও রয়ে গেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, মিশর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে কম দামে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত কিছুর পরও সরকার পেঁয়াজের বাজার কেন নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। মূল সমস্যাটা কোথায়?
আসলেই কি বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আছে নাকি সবই সাজানো নাটক? এটি সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল নয়তো! দেশে যদি পেঁয়াজের ঘাটতিই থাকে তাহলে এখনো কেন বাজারে দেশী পেঁয়াজ পাওয়া যায়? এসব পেঁয়াজ আসে কোথা থেকে? ঘাটতির কারণে তো সব দেশী পেঁয়াজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বার বার বলছেন ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করছি, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে’। কিন্তু বাস্তবে এ কথার কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলেছেন সিন্ডিকেটের কথা। তবে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে দু একটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা আর জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কার্যক্রম।
ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলেও মালদ্বীপে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। আবার দাম না পেয়ে কৃষকের পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার খবরও ভারতের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বাংলাদেশকে পেঁয়াজ না দিয়ে ভারত মালদ্বীপে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যাহত রাখার কারণ কি? নিশ্চয় এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি।
মোদ্দা কথা হচ্ছে বাংলাদেশে কিছু দিন পর পরই হয় লবন না হয় চিনি অথবা পেঁয়াজ এসব নিত্য পন্যের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়। কিছু ব্যক্তি রাতারাতি হয়ে যায় কোটিপতি। সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। কেন হয়? কারণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের এমপি মন্ত্রীরা জড়িত থাকে। দাম কমানোর ইচ্ছা তাদের থাকে না। তাছাড়া আমাদেশে নিত্যপন্য আমদানীর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উপর একচ্ছত্র নির্ভরশীলতাও এজন্য দায়ী। সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন বিকল্প রাষ্ট্র চিহ্নিত করে সেখান থেকে পন্য আমদানী করতে হবে। তা নাহলে ভারত হুট করে রপ্তানি বন্ধ করে দেবে আর হা হুতাশ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

লেখকঃ সম্পাদক,চারদিক


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution