• রাত ৮:০৫ মিনিট মঙ্গলবার
  • ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
এশিয়ান হাইওয়ে ঢাকা বাইপাস সড়কে ৬ কিঃমিঃ যানজট নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন বিষয়ক আলোচনা সভা ছোট হলো সোনারগাঁও পৌরসভার সীমানা উপজেলা আওয়ামীলীগে ঐক্য হতে না হতেই অনৈক্য, ভেস্তে গেল তৃনমুলের স্বপ্ন !!! বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় শতাধিক পরিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিলেন অধ্যক্ষ সোনারগাঁয়ে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি থানায় জিডি সোনারগাঁয়ে ১৬৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক-১ সোনারগাঁয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার সোনারগাঁয়ে ৮ জেলের বিরুদ্ধে নৌ-পুলিশের মামল ট্রাক চাপায় পুলিশ সদস্য নিহত সোনারগাঁ জাদুঘর পরিদর্শন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বিরু’র সমর্থক আমির গ্রেপ্তার নিশ্চুপ কায়সার-মোশারফ: মন্ত্রীর কাছে রাজাকার মুক্ত আ’লীগ চাইলেন কালাম সোনারগাঁ ১নং আমগাঁও বরগাঁও সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন নয়ন ভূইয়া জয় বাংলা আওয়ামীলীগের স্লোগান নয় এটি মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি – আকম মোজাম্মেল হক বন্দরে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক ১ সম্মেলনের মাধ্যমে অনেক নতুন মুখের জায়গা হবে: সোনারগাঁয়ে ওবায়দুল কাদের রোলারে ওড়না চুল পেচিয়ে গার্মেন্ট কর্মীর মৃত্যু মদনপুরে বরযাত্রী বাহি বাসে আগুন
সোনারগাঁয়ের ছেলে জি কে শামীম যুবদল থেকে যু্বলীগে, চলেন ৬জন দেহরক্ষী নিয়ে

সোনারগাঁয়ের ছেলে জি কে শামীম যুবদল থেকে যু্বলীগে, চলেন ৬জন দেহরক্ষী নিয়ে

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকম:  সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের খুবই ঘনিষ্ঠ। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।চলেন ৬ জন দেহরক্ষী নিয়ে।

ছবিতে ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী প্রটেকশন দিচ্ছেন। সবার হাতেই শটগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাঁদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। যাকে মাঝখানে রেখে তাঁরা পাহারা দিচ্ছেন তিনি উচ্চতায় পাঁচ ফুটের কিছু বেশি। ছোটখাটো মানুষ হলেও তাঁর ক্ষমতার দাপট আকাশসমান। তিনি যখন চলেন তখন সঙ্গে চলে নিরাপত্তা বলয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম।

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক গণপূর্ত মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের খুবই ঘনিষ্ঠ। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

বাসাবো ও এজিবি কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর এজিবি কলোনি, হাসপাতাল জোন এবং মধ্য বাসাবোতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শামীম। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের মাধ্যমেই তাঁর রজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা কালু ও মির্জা খোকনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং তাঁদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গণপূর্ত ভবনের ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদকের পদও বাগিয়ে নেন। বিএনপি আমলে গণপূর্ত ভবন ছিল তাঁর দখলে। শামীম ছাড়া ওই মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজ  অন্য কারো পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার।

ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও বদলে গিয়ে এখন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। পাশাপাশি তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও সহসভাপতি। একসময় মির্জা আব্বাস আর খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবিসহ সবুজবাগ-বাসাবো এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শোভা পেত জি কে শামীমের ব্যানার-পোস্টার। এখন শোভা পায় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসহ পোস্টার-ব্যানার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের মতোই আওয়ামী সরকারের আমলেও জি কে শামীমের একক আধিপত্য চলছে গণপূর্তে ঠিকাদারি ব্যবসায়।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিংবা যুবলীগের পার্টি অফিস, বিয়ে বাড়ি কিংবা বন্ধুর বাড়ি, যেখানেই তিনি যান, সঙ্গে  থাকে অস্ত্রধারী প্রটোকল বাহিনী। ভারী অস্ত্র নিয়ে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী আগে-পিছে পাহারা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। এবং নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

বাসাবো এলাকায় জি কে শামীমের বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। আর খুলবেনই বা কোন সাহসে, যখন দেখেন শামীম চলছেন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী নিয়ে। যাঁর গাড়ির আগে-পিছে থাকে ক্যাডারদের গাড়ি। জি কে শামীমের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গৃহায়ণ ও গণপূর্তের ঠিকাদাররাও।

তাঁর নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বৌদ্ধ মন্দিরের পাশেই একটি চায়ের দোকানে  বসে ষাটোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম চা খাচ্ছিলেন। জি কে শামীমের বাসাটা কোন দিকে জানতে চাইলে একটু এগিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু বাসার দারোয়ান জানালেন, বাসাবোর বাড়িতে তিনি কয়েক বছর ধরে থাকেন না, বসবাস করেন বনানীর ডিওএইচএসে এবং অফিসে বসেন নিকেতনে। স্থানীয় ৮ জনের কাছে শামীমের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেউ কথা না বলেই চলে যান। তবে থানা আওয়ামী লীগের সাবেক একজন নেতা—যিনি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রাজনীতিতে—তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেখুন মুখ খুললে তে জীবনটাই নাই হইয়া যাইবো, আগে-পিছনে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে চলে, কার বাপের সাধ্য আছে ওর বিষয়ে মুখ খোলার। মুখ খুললেই তো মাথার খুলি উইড়া যাইবো।’ তাঁর পাশে থাকা মাঝ বয়সী স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘চাচা কিন্তু কথা খারাপ কয় নাই। জীবনের রিস্ক নিয়ে রাজনীতি কইরা এখন দল ক্ষমতায়, কিন্তু ঘরে বইসা তিনি জিকির করেন। বিএনপি আমলে এই শামীমের উত্থান হইছে আর আওয়ামী লীগের আমলে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এখন সন্ত্রাসী লইয়া ঘোরে।’

একসময় মহানগর যুবদলের প্রভাবশালী নেতা কিভাবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পায়—এই প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান দাবি করেন, জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদে নেই। তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত কমিটির কোথাও জি কে শামীমের নাম নেই। কেউ যদি মুখে মুখে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলে থাকেন সেটা তো হবে না। তবে আমার জানা মতে, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে আছেন।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় যুবলীগের আরেক নেতা বলেন, ‘মূল কমিটি অনুমোদনের পর বেশ কয়েকজনকে সহসম্পাদক থেকে শুরু অনেক পদই দেওয়া হয়েছে। আর আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক এস এম মেজবাহ হোসেন বুরুজ ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর শূন্য পদটি দেওয়া হয়েছে জি কে শামীমকে। শামীম ওই পদ ব্যবহার করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সর্দার মামুন রশিদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম, কিন্তু যুবলীগের পদ পাই না। আর যুবদলের নেতা এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় পদে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চলেন ডজনখানেক অস্ত্রধারীর প্রটোকল নিয়ে।’ সুত্র: কালের কন্ঠ

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution