• রাত ৮:০৪ মিনিট বৃহস্পতিবার
  • ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
বারদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান জেলেদের খাদ্য সহায়তার চাল পেতে সাড়ে ৫ ঘন্টা অপেক্ষা সোনারগাঁ সেন্ট্রাল হাসপাতালের যাত্রা শুরু নিয়ম ভেঙ্গে ফরম ফিলাপের চারগুণ টাকা আদায় করছে এস আর স্কুল সভাপতির যোগ্যতা স্নাতক করায় পদ হারাতে পারে সোনারগাঁয়ে অনেক নেতা সোনারগাঁয়ে দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক নাঃগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে স্থান পেলেন সোনারগাঁয়ের সামসুজ্জামান ও দুলাল ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের দোষলেন মালিকরা দ্বীন ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত রাজুকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ ২ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা সোনারগাঁয়ের আওলাদ হোসেনের ১৪ বছরের কারাদন্ড কায়সার বাদে যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলী সােনারগাঁয়ে সাহায্য দেওয়ার কথা বলে ২ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ সোহেল নামের এক যুবকের ২ মাসের কারাদন্ড সোনারগাঁ নয়াপুরে নাহিত ও রাজীব চোরের উপদ্রবে অতিষ্ট এলাকাবাসী স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে গেলেন মেয়র, ভয়ে চুপ স্বামী পুলিশের সোর্স পুলিশ পরিচয় দিয়ে ২ যুবককে অপহরন করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার ঘোষনা দিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা
চৈতী কম্পোজিটের বিষাক্ত পানিতে মাছ শুন্য হচ্ছে সোনারগাঁয়ের ৪ ইউনিয়ন

চৈতী কম্পোজিটের বিষাক্ত পানিতে মাছ শুন্য হচ্ছে সোনারগাঁয়ের ৪ ইউনিয়ন

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকম: সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভার টিপরদী এলাকায় চৈতী কোম্পাজিটের বিষাক্ত পানিতে মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন। নদীতে ও খালে ফেলা বিষাক্ত পানির কারনে বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতিক ভাবে সৃষ্টি মিটা পানির মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে খাল ও জলাশয়গুলো। বিষাক্ত পানিতে প্রকৃতির চাষের মাছের পাশাপাশি চাষ করা খামারগুলোতে পানি ঢুকে মারা গেছে কয়েক লাখ টাকার মাছ। এর আগে চৈতি কম্পোজিটের বিরুদ্ধে মাছ খামারীরা অভিযোগ করে কিছু ক্ষতিপূরন পেলেও বর্তমানে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, সোনারগাঁও পৌরসভার টিপরদী এলাকায় চৈতী কম্পোজিট নির্মানের পর থেকে এ কোম্পানীর বিষাক্ত বর্জের সাথে পানি গোপন সুয়ারেচের মাধ্যমে বিভিন্ন খালে ছেড়ে দেয়। এ পানি খাল ও জলাশয় হয়ে মোগরাপাড়া, সনমান্দি ও পিরোজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ খালগুলো নষ্ট হয়ে মেঘনা ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদীতে গিয়ে পড়ছে। এ চারটি ইউনিয়নের অধিকাংশ খাল বিষাক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে ও পানির র্দূগন্ধে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগসহ মাছ শুন্য হয়ে পড়ে চারটি ইউনিয়নের খাল বিল, জলাশয় ও পুকুরগুলো। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে চৈতীর বিষাক্ত পানি খাল হয়ে নিচু জলাশয়গুলোতে গিয়ে মিশে পানির রং কালো আকার ধারন করে র্দূগন্ধ ছড়ায়। কালো ও বিষাক্ত পানি ফসলি জমিতে মিশে জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট করে দেয়। এছাড়া বর্ষার মৌসুমে বিষাক্ত পানি খাল-বিল হয়ে বাঁধাই করা পুকুরগুলোতে গিয়ে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে গোসলসহ পানি ব্যবহার্য্য অন্যান্য কাজগুলো বন্ধ হয়ে বিষাক্ত গ্যাসে পুকুরের চাষ করা মাছ মরে যায়। এতে ক্ষতির মূখে পড়েছে মাছ চাষিরা।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ১০টি মাছ খামারের ভেতর বিষাক্ত পানি ডুকে মাছ মরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন মাছ চাষীরা। তারা জানান চৈতি কম্পোজিটের বিষাক্ত কেমিকেল যুক্ত পানি তাদের মাছ খামারে ঢুকে মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মূখিন হচ্ছে। এছাড়া চারটি ইউনিয়নের কয়েকটি বিল ও জলাশয়ের মরে গিয়ে মাছ শুন্য হয়ে পড়ছে বিল ও জলাশয়গুলো।

এ ব্যাপারে পৌরসভার রাইজদিয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি আমার ১০ একক জমিতে মাছ চাষ করে জীবন নির্বাহ করে আসছি। এবারের বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি জলাশয় হয়ে আমার পুকুরে ঢুকে ৫ লাখ টাকার মাছ মাছ মরে গেছে। এর আগের বছরও একই ভাবে আমার পুকুরের মাছ মরে গিয়ে ছিল সে সময় আমি সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ করেছিলাম। তখনকার তৎকালীন সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের চৈতী কম্পোজিট থেকে ক্ষতিপূরন হিসেবে কিছু টাকা আমাকে আদায় করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার ক্ষতিপূরন আদায় করার কোন ব্যবস্থা দেখছিনা। ফলে আমাকে আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়তে হবে।

রাইজদিয়া মসজিদের সভাপতি জানান, আমরা গ্রামবাসীরা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের মসজিদের পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। বর্ষাকালে চৈতীর বিষাক্ত কালো পানি ঢুকে আমাদের পুকুরের সব মাছ মরে গেছে।

সনমান্দি ইউনিয়নের জেলে সামাদ জানান, তিনি তার এলাকার খাল ও জলাশয়গুলো থেকে মাছ শিকার করে জীবন নির্বাহ করেন। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে চৈতী কম্পোজিটের পানি আমাদের এলাকার নিচু জমি খাল ও জলাশয়গুলোতে প্রবেশ করে সব মাছ নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে আমার এলাকার খালগুলো ক্রমেই মাছ শুন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমেই জলাশয়গুলোতে প্রকৃতিক ভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রজজন হয় কিন্তু বিষাক্ত পানির কারণে আমাদের খাল বিলগুলোতে সেই মাছের প্রজ্জজন ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশা ছেড়ে অন্য কোন পেশায় চলে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে চৈতি কম্পোজিটের এমজিএম মিজানুর রহমান জানান, বিষাক্ত পানি স্থায়ী ফিল্টারিংয়ের জন্য আমরা সরকারের কাছে ২ বছর সময় নিয়েছি। ইটিভি প্লানটি বড় আকারের স্থাপন করা হলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিষাক্ত পানির কারণে সোনারগাঁয়ের অনেক এলাকায় মিঠা পানির মাছের প্রজ্জজন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শিকার করে তিনি বলেন, এসব কোম্পানী এত শক্তিশালী তাদের বিরুদ্ধে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। এছাড়া বহু মাছ চাষি তাদের মাছ মরে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছ অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি অভিযোগগুলো উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution