• সন্ধ্যা ৭:১৩ মিনিট শনিবার
  • ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : গ্রীষ্মকাল
  • ৬ই জুন, ২০২০ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানে না অনেকেই সোনারগাঁয়ে আরো ৮ জনের দেহে করোনা সনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২৭৯ করোনার উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, ৬ ঘন্টা পর এমপি খোকার সহায়তায় দাফন সোনারগাঁয়ে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত নেই দুধঘাটা ও পাঁচানী সড়কে বৃষ্টি হলেই বন্যা ! মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের শোক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে রাষ্টীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানালেন ইউএনও সাইদুল ইসলাম বৈরী আবহাওয়ায়ও লক ডাউন পরিবারে পৌছে যাচ্ছে এমপি খোকার খাবার সোনারগাঁয়ে ২দিনে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা গড়ে সাড়ে ৩৮% সোনারগাঁয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহত সোনারগাঁয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ৬৩ জনের মধ্যে ২৮ জনের দেহে করোনা সনাক্ত সোনারগাঁয়ে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ গোপন করছে পরিবার মৃত ব্যক্তির দেহে কতক্ষণ সক্রিয় থাকে করোনা ভাইরাস প্রধানমন্ত্রীর উপহার অসহায়দের পৌছে দিলেন চেয়ারম্যান ইঞ্জি: মাসুম সোনারগাঁয়ে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামুলক নয়তো জরিমানা সোনারগাঁয়ে ৭৫ জনের মধ্যে ২৫ জনের দেহে করোনা সনাক্ত, মোট সনাক্ত ২৩৮ জান্নাতি ও জাহান্নামিদের মাঝে কথোপকথন!.. তুহিন মাহমুদ করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করলেন এমপি খোকার টিম বারদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে ২ ব্যক্তির মৃত্যু লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩০ তিরোধান উৎসব স্থগিত
আপন মানুষের ষড়যন্ত্রের আঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ!.. তুহিন মাহমুদ

আপন মানুষের ষড়যন্ত্রের আঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ!.. তুহিন মাহমুদ

Logo

আপন লোকদের ষড়যন্ত্র বড় কঠিন কেননা তারা দুর্বলতা সম্পর্কে খুব ওয়াকিফহাল এবং তারা দূর্বলতায় আঘাত করে যা হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে যায়। কখনো ভুলা যায়না।

পয়গম্বরদের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ আম্বিয়ায়ে কেরামগণ তাদের জাতির বা কওমের লোকদের থেকে বিভিন্নভাবে কষ্ট পেয়েছেন এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। কিন্তু আপন লোকদের থেকে সবাই কষ্ট পাননি।

২জন নবী আপন মানুষদের থেকে খুব কষ্ট পেয়েছেন এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে, আল্লাহ তায়ালা উনাদের দুজনকেই ষড়যন্ত্রকারীদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং তাদের উপর এক ঐতিহাসিক বিজয় দান করেছেন।

১জন হল ইউসুফ আলাইহিসসালাম। তিনি আপন মানুষদের এমন এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন যা পয়গম্বরদের ইতিহাসে ব্যতিক্রম।
ইউসুফ আলাইহিসসালামকে নিয়ে কেইস স্টাডি করলে দেখা যায়, তিনি যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তা ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টা নেই।

ভাইয়েরা মিলে ছোট ভাই ইউসুফ আলাইহিসসালামকে হত্যা করতে চাইলো। শেষ পর্যন্ত কূপে ফেলে দিলো। এই নির্মমতা তো প্রতিবেশী বা জাতির অন্য লোকেরা করেনি, করেছে নিজের ঘরের লোকেরা।
ফলে কি হয়েছে জানেন?

আল্লাহ তায়ালার হেকমত!
ভাইয়েরা উনাকে কূপে ফেলে দিল কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় মিশরীয়রা উনাকে কূপ থেকে তুলে নিয়ে রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দিলেন এবং তিনি মিশরীয়দের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন।

আরেকটা জিনিস লক্ষণীয়,
আল্লাহ তায়ালা ইউসুফ আলাইহিসসালাম এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ সন্তানের বাবাকে সন্তান হারানোর কান্না থেকে বাচিঁয়েছেন।
এটা আল্লাহর বিশেষ প্লান ছিলো। কারণ, তৎকালীন যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তার ভয়াবহতা থেকে বাচার জন্য খাবার সংরক্ষণ ও অর্থনীতিতে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার মত ইউসুফ আলাইহিসসালাম এর মত দ্বিতীয়জন ছিলনা। কেননা আল্লাহ তায়ালা উনাকে সেই জ্ঞান দিয়েছেন। আর সেই সময় যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেয়া হতো তাহলে অনেক মানুষ কষ্টে পতিত হত এবং মারা যেত। আর খাবার অভাবের দুর্ভিক্ষের প্রথম প্রভাব বা ধাক্কা পরিলক্ষিত হত শিশুদের উপর। না খেয়ে মরতে হত লক্ষ লক্ষ শিশুকে। ফলে, লক্ষ সন্তানের বাবাকে চোখের পানি ফেলতে হতো।

কিন্তু মনে হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা লক্ষ লক্ষ পিতার চোখের পানি একজন পিতা অর্থাৎ ইউসুফ আলাইহিসসালামের পিতা ইয়াকুব আলাইহিসসালামকেই দিয়েছেন। আর ইয়াকুব আলাইহিসসালামও উত্তম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আদরের মানিক ইউসুফ আলাইহিসসালামকে হারিয়ে ৩৭বছর (মতান্তর)একাই কেঁদেছেন।

সর্বশেষ, আল্লাহ তায়ালা ষড়যন্ত্রকারী ভাইদের উপর ইউসুফ আলাইহিসসালামকে বিশেষ মর্যাদা দান করলেন এবং বাবার কাছে সন্তানকে ফিরিয়ে দিলেন। যে ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে উনাকে কূপে ফেলেছে সে ভাইদেরকে ইউসুফ আলাইহিসসালাম বলেন, “তোমাদের বেপারে আজ আর আমার কোন অভিযোগ নেই”। তিনি ভাইদের ক্ষমা করে দেন। সুবহানআল্লাহ।

বলা দরকার, পয়গম্বরদের মধ্যে ইউসুফ আলাইহিসসালাম একমাত্র পয়গম্বর যাকে লোকেরা ঠাট্টা-মশকরার পাত্র বানায়নি। মিশরীয়দের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার সময় উনার সাথে কেউ ঠাট্টা-মশকরা করেনি। অনান্য পয়গম্বরেরা যখন লোকদের দ্বীনের দাওয়াত দিত তখন তাদেরকে নিয়ে মানুষেরা ঠাট্টা মশকরা করত। এটা ছিল মানুষের স্বভাব। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিসসালামের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। কেউ উনার কথা না মানতে চাইলেও উনার সামনে মন্দ কিছু বলেনি। কেননা, অর্থনীতিতে উনার অবদান মিশরবাসী স্বচক্ষে দেখেছে।

আর দ্বিতীয়জন হল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিসসালাম যার সাথে আপন-পর সবাই শত্রুতা করেছে। যেমনভাবে নির্যাতিত ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন আপন কিছু আত্নীয়দের কাছ থেকে, আবু লাহাব ছিল অন্যতম, তেমনিভাবে তিনি অত্যাচারিত ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নিজের বংশ ও মক্কার অন্যান্য লোকদের থেকেও।

উনার আদরের সন্তান ‘ইবরাহীম’ যেদিন মারা গেল। সেদিন তিনি ছিলেন শোকে শোকার্ত কিন্তু উনার আপন চাচা-চাচি উনাকে ‘নির্বংশ’ বলে গালি দিচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন কটুকথা বলে যাচ্ছেন। তিনি চোখের পানি ছেড়ে আল্লাহকে জানিয়েছেন।

এছাড়া মক্কাবাসী উনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে এমনকি হত্যা করতে চেয়েছে। তাই আল্লাহ আদেশ করেছেন মক্কা ছেড়ে চলে যেতে। সেখানেও মক্কাবাসী পিছু নিয়েছেন হত্যা করার জন্য। খুজে পেলেই হত্যা করে ফেলতো।আল্লাহর ইচ্ছায় গুহার কাছে গিয়েও খুজে পাননি।

মক্কাবাসী প্রত্যাখ্যান করলেও মদিনাবাসি ঠিকই উনাকে রাষ্ট্র নায়কের মর্যাদা দিয়েছেন।

এবং পরবর্তীতে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মক্কা বিজয় করেছেন। নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন বিজয়ী বেশে। যারা উনার সাথে শত্রুতা করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উনার সম্মুখে পরাজিত করেছেন। তাদের দম্ভ চুর্ণ করে দিয়েছেন। অনেককে করেছেন নির্বংশ।
মক্কাবাসীর উপর যেকোন ধরনের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিলো কিন্তু তিনি তা করেননি।

বরং নিজের জন্মভূমির লোকদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদেরকে ক্ষমা করেছেন যারা উনাকে দিন-রাত কষ্ট দিয়েছে। যারা হত্যা করতে চেয়েছে। যারা শুধু মক্কাতে নয় বরং মক্কা থেকে মদীনাতে গিয়েও উনাকে নিশ্চিহ্ন করবেন বলে বদরে, উহুদে যুদ্ধ করেছেন। এবং অন্যান্য গোত্রের সাথে চুক্তি করে সবাইকে সাথে নিয়ে বিশাল বাহিনী তৈরি করে একেবারে নির্মুল করতে মদীনা গিয়েছেন যা ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, উনি যাদের সাথে শৈশব-কৈশর, যৌবন কাটিয়েছেন সেই মক্কাবাসী উনাকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কি-না করেছেন? উনাকে মক্কায় হজ করতেও আসতে দেয়নি।মক্কার কাছ থেকে অর্থাৎ হুদায়বিয়া থেকে ফেরত পাঠিয়েছেন। এসব করেছেন উনার পরিচিত লোকেরা,বংশের লোকেরা যাদের সাথে ৫০এর বেশি বছর কাটিয়েছেন। তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।
ইতিহাসে ক্ষমার এর থেকে বড় নিদর্শন আর নেই!

সুতরাং, সঠিক থাকার পরও যদি আপন-পর মানুষ কষ্ট দেয় তবে ধৈর্য রাখতে হবে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, তাদের উপর একদিন বিজয় আসবেই। তাদের দম্ভ চুর্ণ হবেই।তাদের কৌশল আল্লাহর কৌশলের কাছে পরাজিত হবেই। কেননা, আল্লাহ উত্তম কৌশল অবলম্বনকারী।

তুহিন মাহমুদ।

 

Logo
এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution