• সকাল ৮:৩২ মিনিট বুধবার
  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : শরৎকাল
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
শাহ আহমাদ শফীর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে সাড়ে ১১ হাজার ইয়াবাসহ চালক ও হেলপার আটক, গাড়ী জব্দ সোনারগাঁয়ে ১৪ জনের রিপোর্টে ১৪ জনই নেগেটিভ, সুস্থ ৪ সোনারগাঁয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসাইনের গণসংযোগ বিএনপি নেতার নেতৃত্বে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রচারনা শুরু করেছেন পৌর মেয়র প্রার্থীরা আগামীকাল শাহ আহমাদ শফীর স্মরনে বিশেষ দোয়া সোনারগাঁয়ে ৩ জন করোনা রোগী সুস্থ হলেই শতভাগ সুস্থ ওসমান পরিবারের সকল সদেস্যের সুস্থতা কামনায় এমপি খোকা দোয়া মাহফিল মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ২০০০ বনাম ২০০২ ব্যাচ প্রীতি ক্রিকেট টূর্নামেন্ট সোনারগাঁ ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্টজাল জব্দ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি হলেন ইমতিয়াজ বকুল সোনারগাঁও পৌরসভায় পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু কাউন্সিলর রিপনকে সভাপতি ও শাহীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২নং ওয়ার্ড কমিটি গঠন যে সাত সাপ সবচেয়ে বিষধর, সাপে কাটলে যে তিনটি কাজ করবেন, যে পাঁচটি কাজ করবেন সোনারগাঁয়ে বসত ঘরে আগুন দিলো দুবৃর্ত্তরা, পুড়ল আসবাবপত্র মির্জা আজম এমপি’র সাথে আহবায়ক কমিটির সাক্ষাত সোনারগাঁয়ে একদিনে করোনা সনাক্ত ১, সুস্থ ১৩ চিকিৎসাধীন ১০ কায়সার, কালাম বিরু ভাই বুঝিনা, আমি চাই দলের ঐক্য…বাদল
করোনা নিয়ে সরকারী উদ্যোগ ও কিছু প্রশ্ন!

করোনা নিয়ে সরকারী উদ্যোগ ও কিছু প্রশ্ন!

Logo

রবিউল হুসাইন, বর্তমান বিশ্বে এখন প্রধান সংবাদ হচ্ছে করোনা। পাশাপাশি প্রধান আতংকের নামও এ করোনা। এ ভাইরাসের সংক্রমন মোকাবেলায় সারা বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে সেসময় বাংলাদেশও আক্রান্ত হয়েছে এ ভাইরাসে। চীনে সর্বপ্রথম এ ভাইরাসের আক্রমন হলেও বাংলাদেশে এ ভাইরাস প্রবেশ করেছে চীনের প্রায় দুই আড়াই মাস পর। এ দুই আড়াই মাসে বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত ছিল এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে সবার মাঝে। আমাদের দেশে প্রথম করোনা সনাক্ত হওয়ার পর সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সবাই দাবী তোলেন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য। সরকারের কাছ থেকে বলা হলো এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অবশ্য অনেকটা চাপের মুখে পরবর্তীতে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়। পরে সরকার ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালন স্থগিত করেন। ঘোষনা দেয়া হয় ১৭ মার্চ কোন শিশু সমাবেশ করা যাবে না কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেল ভিন্ন। দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিশুদের জড়ো করে আনুষ্ঠানিক ভাবে কেক কাটা হলো । শুধু এটা করেই ক্ষ্যান্ত হলেন না কিছু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোমলমতি শিশু কিশোরদেরকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে মহা ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে নাচ গানের ব্যবস্থাও করা হলো। প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্রের নির্দেশ উপক্ষো করে কেন এ আয়োজন? এ কোমলমতি শিশুরা যদি কেরোনায় আক্রান্ত হয়ে পরে এ দায় কে নেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেটও বন্ধের ঘোষনা দেয়া হয় কিন্তু অর্থলোভী কিছু শিক্ষক এটা অমান্য করে কোচিং ও প্রাইভেট অব্যাহত রাখেন এটা বন্ধে প্রশাসনকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হয়েছে। এজন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাও দায়ী। যাই হোক এবার আসা যাক স্বাধীনতা দিবস পালন প্রসঙ্গে। স্বাধীনতা দিবস পালনেও সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। বলা হলো স্বাধীনতা দিবসের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত। এ ক্ষেত্রেও বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ঘটা করে সদলবলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দিবসটি পালন করা হলো। বিষয়টি এমন যে তাদের চেয়ে বড় দেশ প্রেমিক আর কেউ নেই। যারা এ কাজটি করলেন তারাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করলেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বাধীনতা দিবসের কোন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেননি সেখানে কিছু নেতা ও আমলার এত উৎসাহের কারণ কি? সমাবেশ করে ফুল দেয়া আর জনসমাবেশ করার কারণে যদি কেউ করোনায় সংক্রমিত হয় সেক্ষেত্রে এটার দায় কে নেবে? কিছু কিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিক্ষকরা পতাকা উত্তোলন করেছেন। যেহেতু স্কুল বন্ধ । বন্ধ স্কুলে পতাকা উত্তোলনের মানে কি? যেখানে সরকার বলছেন কেউ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না সেখানে শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে গিয়ে পতাকা উত্তোলনের যৌক্তিকতা কি? কয়েকজন শিক্ষক বললেন এটা সরকারি নির্দেশনা। সরকারই বলছেন স্কুল বন্ধ আবার সরকারই বলছেন স্কুলে পতাকা উত্তোলনের কথা এটা কি পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত নয়?

সরকার ২৬ মার্চ থেকে সকল সরকারী অফিস বন্ধের পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধের নির্দেশনা দিলেন। এটা অবশ্যই একটি ভাল সিদ্ধান্ত কিন্তু গার্মেন্টস ও অনেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলো না। এছাড়া সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানও খোলা রাখার ঘোষনা দেয়া হলো। ২৬ তারিখ গার্মেন্টসকর্মী, বেসরকারী চকুরিজীবি ও হাসপাতালে কর্মরতরা পড়লেন বিড়ম্বনায়। গণপরিবহন বন্ধ কিভাবে তারা কর্মস্থলে যাবেন? যারা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদেরকেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সরকার বলেছেন গণপরিবহন বন্ধের কথা কিন্তু বাস্তবে প্রাইভেট গাড়িও বন্ধ করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় জরিমানাও করা হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল এ বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার বক্তব্য দেয়া। বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসকরা দাবি তুললেন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য তাদের পিপিই প্রয়োজন কিন্তু তারা তা পাচ্ছেন না। পিপিই না পেয়ে কেউ কেউ রেইনকোট পড়ে করোনা মোকাবেলায় নামার প্রস্তুতি নিলেন। এক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত পিপিই সরবরাহ করা প্রয়োজন। এবার আমাদের দেশের সাধারণ জনগনের প্রসঙ্গে আসা যাক। সাধারণ জনগন অনেকক্ষেত্রেই মানছেন না সরকারি বিধি নিষেধ। নিজেদের মর্জি মতো চলছেন তারা। তাদের ঘরে ঢুকানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। অথচ নিজের নিরাপত্তার জন্য নিজেই ঘরে অবস্থান জরুরি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমজীবি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করাটাও জরুরি।

এমন দূর্যোগপূর্ন অবস্থায় এদেশের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও মজুদদার নিত্যপন্যের দাম দিলেন বাড়িয়ে এটা ঠেকাতে প্রশাসনের লোকজনকে ছুটতে হলো ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার জন্য। প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন নাকি করোনা মোকাবেলা করবেন এ নিয়ে দিশেহারা অবস্থা। এত অস্থিরতার মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে এখনো বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রয়েছে। আশা করি সরকারি উদ্যোগ ও জনসচেতনতাই এ দূর্যোগ মোকাবেলায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।

লেখকঃ সম্পাদক, চারদিক

Logo
এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution