• রাত ১২:২৩ মিনিট মঙ্গলবার
  • ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বর্ষাকাল
  • ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় ভ্রমন পিয়াসুরা ঘুরতে মেঘনা নদীতে সোনারগাঁয়ে এক প্রসূতির তিন সন্তান প্রসব সোনারগাঁয়ে ঘুরতে এসে পরিবার নিয়ে ভীড় করছে পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ দ্বারে আজ ঈদ, তাই আমরা মানুষ ! সোনারগাঁয় দুই বিয়াই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৪ কোরবানি বর্জ্য পরিষ্কারে ‘পাশে আছি আমরা’র অভিযান সোনারগাঁয়ে একদিকে করোনায় সুস্থ ৫, আক্রান্ত ২ মোট আক্রান্ত ৪৯৬ সোনারগাঁয়ে ১০ টাকা ধরে ছাগলের চামড়া বিক্রি, গরু ২০০ সোনারগাঁয়ে ঈদের দিনে কোরবানীর মাংসের হাট ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানীকে ব্যস্ত সোনারগাঁবাসী বেদে, জেলে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের ৫শত পরিবারের মাঝে সূর্বণগ্রাম সোনারগাঁয়ে পন্যবাহী ট্রাকে ডাকাতি, নগদ অর্থ ও মালামাল লুট আত্মত্যাগের কোরবানীই আসল কোরবানী… মঈন চিশতী মৃত বিএনপি নেতাদের পরিবারকে মান্নানের আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয়ে গরুশুন্য পশুর হাট, দিশেহারা ক্রেতারা শহিদুল্লাহ একদিন ধরে নিখোঁজ সোনারগাঁয়ে কনফিডেন্সের বিষাক্ত বর্জ্য মরছে লাখ টাকার মাছ বন্যা দূর্গতদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করলেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুম পৌরসভা ও পিরোজপুর ইউপিতে ২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত সোনারগাঁবাসী ব্যস্ত দা, চাপাতি, ছুরি, ও চাকু কিনতে
গ্রীষ্মের নয়নাভিরাম ফুলে বর্নিল প্রকৃতি

গ্রীষ্মের নয়নাভিরাম ফুলে বর্নিল প্রকৃতি

Logo

হুসাইন রবিউল
ঋতু চক্রের আবর্তনে নয়নাভিরাম ফুলের এক বর্নিল আয়োজন নিয়ে আমাদের প্রকৃতিতে আবারো হাজির হয়েছে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের বিচিত্র ফুলের বাহারি রংয়ে প্রকৃতি সেজে ওঠেছে নব বধুর সাজে। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে নজর কাড়া এসব ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে এনে দেয় প্রশান্তি। চোখ জুড়ানো গ্রীষ্মের বর্নিল ফুল বাঙ্গালী মনকে নাড়া দেয় গভীর ভাবে। ইট পাথরের শহরে অগ্নি ঝরা লাল কৃষ্ণচূড়া, বেগুনি রংয়ের জারুল, হলদেটে সোনালু ও রক্ত রাঙ্গা হিজল ফুল যেন প্রাণের সঞ্চার করে। বর্তমানে শহরাঞ্চলে কিছু কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু গাছ চোখে পড়লেও হিজল গাছ নেই বললেই চলে। দ্রুত নগরায়ন ও অবাধে বৃক্ষ নিধনের ফলে আমাদের চিরচেনা এসব ফুলেল বৃক্ষ বহু আগেই শহর থেকে নির্বাসিত হয়েছে। তবু প্রতি গ্রীষ্মে নানা রংয়ের ছটায় আমাদের মাঝে উঁকি দেয় এসব রংবাহারি ফুল।

কৃষ্ণচূড়া
কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের অতি পরিচিত একটি ফুল।বাঙ্গলা কাব্য, সাহিত্য, সংগীত ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়াফুলের কথা ব্যাপক ভাবে ওঠে এসেছে। কৃষ্ণচূড়া Caesalpinieae গোত্রের Delonix regia প্রজাতির আকর্ষণীয় ফুলবিশিষ্ট গাছ। কৃষ্ণচূড়ার আদিনিবাস মাদাগাস্কার। এ গাছ মধ্যম থেকে লম্বা গড়নের মাথা ছড়ানো হয়ে থাকে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ফুল ফোটে। আগষ্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩০-৬১ সেমি লম্বা শুঁটি অর্থাৎ ফল হয়ে থাকে। শোভাবর্ধকারী এ বৃক্ষটি গ্রামের পাশাপাশি এখনো কোন রকমে টিকে আছে শহরের পথে প্রান্তরে। আমাদের দেশে মূলত দুই ধরনের কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটতে দেখা যায়। একটি আগুনের মতো উজ্জ্বল লাল অন্যটি হলদেটে। তবে আমাদের দেশে লাল কৃষ্ণচূড়ার প্রাচুর্যতাই বেশী চোখে পড়ে । হলদেটে রংয়ের কৃষ্ণচূড়া বর্তমানে বেশ বিরল। সারা ঢাকা শহরে এখন সব মিলিয়ে গোটা দশেক হলদেটে ফুলের কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে বলে জানা গেছে।
হলদেটে ফুলের কৃষ্ণচূড়াকে অনেকে রাধাচূড়া বলে থাকে। গ্রীষ্মে যখন লাল – হলুদ কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া ফুলে ছেয়ে ওঠে সবুজ বৃক্ষ তখন দেখে মনে হয় কোন দক্ষ চিত্রশিল্পী বুঝি তার সুনিপুণ হাতে মেখে দিয়েছে রংয়ের ছটা। কৃষ্ণচূড়ার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য সত্যিই সবাইকে বিমোহিত করে। কৃষ্ণচূড়ার রূপে মুগ্ধ হয়ে ব্যস্ত পথচারীও থমকে তাকায় কিছু সময়ের জন্য।

জারুল
গ্রীষ্মের দাবদাহে চোখ ধাঁধানো বেগুনি রংয়ের বিচ্ছুরন নিয়ে প্রকৃতিতে নিজের আগমনের কথা জানান দেয় জারুল ফুল। গ্রামবাংলার এক অন্যতম আকর্ষনীয় গ্রীস্মের ফুল হিসেবে জারুল অতুলনীয়। সবুজ প্রকৃতির বুকে বেগুনি জারুলের হাতছানি কিছুক্ষনের জন্য হলেও উদাস করে তোলে প্রকৃতিপ্রেমীকে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে জারুল গাছের আধিক্য লক্ষ করা যায়। সারা বছর যে গাছটি বাড়ীর পাশে সবার অলক্ষ্যে অযতœ অবহেলায় বাড়তে থাকে গ্রীষ্মে সেই গাছটিই বেগুনি রংয়ে রঙ্গিন হয়ে সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। ফুলটির ইংরেজি নাম : Giant Crape-myrtle, পরিবার : Lythraceae, বৈজ্ঞানিক নাম : Lagerstroemia Speciosa। বৃক্ষ জাতীয় জারুল ফুলের আদি শ্রীলংকায়। পত্রঝরা এ বৃক্ষ শীতকালে পত্রশূন্য থাকে। বসন্তে গাঢ় সবুজ পাতা গজায়। জারুল গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরত পর্যন্ত এর ফুল ফোটে থাকে। জারুল ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। জারুল গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণ রয়েছে। এর বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতায় জারুল উপকারী। চমৎকার বেগুনি রংয়ে রাঙ্গানো এ জারুল ফুল আমাদের মনের গহিনে জাগ্রত করে এক অন্য রকম ভাললাগা।

সোনালু
ঝুমকার মতো ঝুলে থাকা সোনালু ফুল যে কারো মন ছুঁয়ে যায়। সোনালী বর্নের ফুল হওয়ায় এটির নামকরন হয়েছে ‘সোনালু’। ইংরেজি ভাষায় একে বলা হয় গোল্ডেন শাওয়ার ট্রি। সোনালুর বৈজ্ঞানিক নাম: Cassia fistula এবং Albizia inundata। হিমালয় অঞ্চল এর আদিনিবাস ধরা হলেও বাংলাদেশ, ভারত,পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চল জুড়ে এর বিস্তৃতি। মূলত সোনালু গাছ আমাদের দেশে ঔষধি গাছ হিসেবেই বেশী পরিচিত। গ্রামাঞ্চলে এ গাছকে অনেকে বানর লাঠি গাছও বলে থাকে। সোনালু গাছের ফল ঠান্ডা ও কাশি উপশমের জন্য বেশ উপকারী। এর বাকল ওপাতাও ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি ডায়রিয়া ও বহুমূত্র উপশম করে। আমাদের দেশে সোনালু গাছ আগের মতো তেমন একটা চোখে পড়েনা। তবে গ্রামে এখনো কিছু সোনালু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ঝুমকা ঝুমকা সোনালু ফুলের রূপ সৌন্দর্য সবাইকে নিয়ে যায় ভাবনার জগতে। গ্রীষ্মের বাতাসে হলুদ সোনালু ফুলের দোলা প্রকৃতিতে সৃষ্টি করে এক অন্য রকম আবহ। গ্রীষ্মের ফুল হিসেবে সোনালু ফুল এক কথায় অনন্য। প্রতি বছর গ্রীষ্মে হলুদ পরী হয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয় সোনালু ফুল।

হিজল
বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী গাছের মধ্যে হিজল গাছ একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম:Barringtonia acutangula। হিজল ডালপালা ছড়ানো দীর্ঘজীবী উদ্ভিদ। হিজল গাছের সংস্কৃত নাম নিচুল। এছাড়া কিছু কিছু স্থানে এটি জলন্ত, নদীক্রান্ত নামেও পরিচিত। হিজলের আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া। গাছটি আমাদের প্রকৃতি থেকে দিন দিনই যেন হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রামে কিছু হিজল গাছের উপস্থিতি চোখে পড়লেও শহরে হিজল গাছের কোন অস্থিত্ব চোখে পড়েনা। হিজল গাছ মূলত পুকুর, খাল ও জলাশয়ের ধারে বেশী জন্মায়। এ গাছের গর্তে নিশাচর পাখীরা বাসা বানাতে ভালবাসে। তবে হিজল গাছের সবচেয়ে বেশী ভাললাগার দিকটি হচ্ছে এর চমৎকার ফুল। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে হিজল গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে।রক্ত রাঙ্গা হিজল ফুলের লহরি আর মাতাল ঘ্রান সবাইকে বিমোহিত করে তোলে। সাধারণত রাতের বেলায় এ ফুল ফুটে সকালে ঝরে যায়। এসময় হিজল ফুল ঝরে পড়ে গাছের নিচে সৃষ্টি করে দৃষ্টি নন্দন পুষ্প শয্যা। হিজলগাছ যে কোন প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কয়েক মাস পানির নিচে নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকতে পারে। হাওর অঞ্চলে এ গাছের ডাল মাছের অভয়ারাণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। হিজলের ফল মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে থাকে। চিরায়ত বাংলার হিজল ফুলের প্রেমে পড়ে অনেক কবি -সাহিত্যিক রচনা করেছেন বহু গল্প ও কবিতা। তাই বাঙ্গালী হৃদয়ে হিজল ফুলের আবেদন হয়তো কখনো ফুরাবার নয়।

লেখকঃ সম্পাদক,চারদিক

Logo
এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution