• রাত ১১:২৭ মিনিট রবিবার
  • ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
মেম্বার ফেল করা হুমায়ুন কবির এবার ইউপি চেয়ারম্যান ব্যালটে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ লেখা সিল! জামপুরে নৌকার প্রার্থী হুমায়ুন কবির জয়ী ব্যালটে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ লেখা সিল! শম্ভুপুরা, সাদিপুর ও নোয়াগাঁয়ে যারা চেয়ারম্যান হলেন সনমান্দিতে একটি কেন্দ্রের ভোট স্থাগিত সোনারগাঁয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহন শেষে চলছে গননা সোনারগাঁয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ইউপি নির্বাচন সোনারগাঁয়ে ১২ জনের নমুনায় ৩ জনের দেহে করোনা সনাক্ত উপজেলার প্রতিটি ইউপিতে শান্তিপূর্ন ভোট গ্রহন শান্তিপূর্ন ভাবে চলছে পিরোজপুর ইউপিতে ভোট গ্রহন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বাড়িতে হামলা এই নির্বাচন যেন বর্তমান ও সাবেক এমপি’র লড়াই সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষক কার্ড রাজনীতিবিদের হাতে রাত পোহালে ৮টি ইউপিতে ভোট যুদ্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে শংকা আগামীকাল সোনারগাঁয়ের ৩৮৯ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারন সোনারগাঁয়ে নারীসহ ২ মাদক কারবারী গ্রেপ্তার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী জয়ের ট্রাম্পকার্ড বিএনপি নৌকা জেতাতে মাঠ ছাড়ছেন না কালাম আজ মধ্যে রাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারনা
নদীর দেশে মাছের কষ্ট

নদীর দেশে মাছের কষ্ট

Logo


খায়রুল আলম খোকন, নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকমঃ বহু নদ-নদী ঘেরা আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। ওলি আঊলিয়া, পীর দরবেশের দেশ বাংলাদেশ। হাজারো গ্রাম বাংলার দেশ বাংলাদেশ। নদীতে মাঝি নৌকা চালাতে এবং মাছ ধরকে কত রকমের ধর্মীয় গান গেয়ে নদীতে মাছ ধরে আর নৌকা চালায়। জারিসারি, ভাটিয়ালী, মুর্শিদী, বিরহ বিচ্ছেদ গান গেয়ে নদী পথে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায় কেউ আবার ব্যবসা বাণিজ্য করতে।

মাছের জন্য নদীর পাড়ে জেলেদের বসবাস। মাছ ধরে বিক্রি করেই জেলেরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। নদীর সাথে যাদের বাড়ি তারা কোন না কোন ভাবে নদী আর মাছের সাথে যুক্ত আছেই। নদী যেন তাদের নাড়ীর সাথে এক সূত্রে গাঁথা।

মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের নায়ক কুবের বলে ছিল, মাছ ধরে আর জুইত নাই। এতো কষ্ট করে মাছ ধরে সে মাছের দাম পাই না তেমন।

সে সময় জেলেরা কত মাছ ধরত জাল দিয়ে তার কোন হিসাব ছিল না। আর এখন নদী নালা, খাল বিলে তেমন আগের মতো মাছ ধরা পরে না।

নদী থেকে জাল দিয়ে, বশি দিয়ে, ছোপ দিয়ে, পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে মাছ ধরে জেলেরা। আগে জেলেদের নৌকার কাছে গেলে ইচ্ছা করে খাবারের জন্য যে মাছ লোকদের দিত এখন সে মাছ গুলো জেলেরা সারা দিনেও পায় না।

সোনারগাঁ পরগনার হাদী মোবাল্লীগে ইসলাম সাধক মাওলানা নুরুল ইসলাম লালপুরী হুজুর তার লিখিত এক বইয়ে পেয়েছি, যে সোনারগাঁ উপজেলা উদ্ধবগঞ্জ এলাকায় শ্মশান ঘাটে তার পানসি নৌকা নোংগর করাছিল। এক হিন্দু জেলে তার সামনে দিয়ে যাচ্ছেন, তিনি ডেকে পূর্ব পরিচিত হিন্দু এক জেলেকে বললেন বাবু ডুলায় কিছু মাছ আছে কি? আর তোমার দিন কাল কেমন যাচ্ছে। হুজুর মাছ তেমন পাই না কিছু দিন ধরে। সময় ভাল যাচ্ছে না। তখন লালপুরী হুজুর বললেন, আমার নৌকার কাছে তোমার কনুই জাল ফেল তো দেখি মাছ পাওয়া যায় কিনা। জাল ফেলার পর এক ডুলা মাছ বজরি মাছ পেয়ে মহা খুশি হিন্দু জেলে বাবু। এখন মেঘনা নদীর তীরে নুনেরটেকে লালপুরী হুজুরের মাজার রয়েছে।

নুনেরটেক এলাকার কৃষক মমতাজ উদ্দিন বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাসে ধানের বীজ ফালাইতে গিয়ে কত মাছ ধরেছি যে তার কোন হিসাব নাই। ক্ষেতে গিয়ে দেখি দাম (কচুড়ি পানা, ঘাস) পরে আছে এগুলা ছাপ করতে দেখা গেছে, নানা ধরনের মাছ পেতাম। মাছ ধরতে গিয়ে কাজের বারোটা বাজত। কৈ, শিং, পুঁটি, ম্যানি, বাইম, শইলাপাতা, টেংড়া, গুতুম, শোল, গজার, বোয়াল মাছসহ অনেক মাছ পেতাম। সে মাছ নিজেরা খেয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে দিতাম। আর এখন এ ভরা মৌসুমে খাওয়ার জন্য মাছ পাই না।
শহিদ মিয়া জানান, নদী পাড় করে গরু সাতরিয়ে নিয়ে যাইতাম জমি চাষ করার জন্য। দেখতাম গরুর পায়ের সাথে ধাক্কা লেগে নৌকায় মাছ লাফিয়ে পরত। রুই, কাতলা, বোয়াল-মৃগেল মাছসহ আরো কত ধরনের মাছ পেতাম।
নদীর পাড়ে জেলেরা জাল টানলে বহু মানুষ খাওনের জন্য নিত কত মাছ। এখন জেলেরা দিনে-রাতে পরিশ্রম করেও মাছ পায় না। তাই অনেকে মাছ ধরার জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

যে মাছ সাধারণ মানুষকে বিলি করত এখন সে পরিমান মাছ জেলেদের জালে পরেই না। এমন কথা গুলো বললেন বৃদ্ধ তালেব মিয়া। তিনি জানান, আমরা নুনেরটেক, কমলাপুর ডেঙ্গুরকান্দি, ময়নাবাজ,চেঙ্গাকান্দি, তাতুয়াকান্দা, নয়াপাড়া, মৈশারচর, শান্তিরবাজার এলাকাবাসী আশ্বিন-কার্তিক মাস আসলে কেউ মাছ ধরে, কেউ বা আবার মাছ কিনে শুটকি তৈরি করে বিক্রি করতাম। এখন নদীতে মাছ নাই। কোথায় গেল সেই মাছ। জাতি পুঁটি, বাদা পুঁটি, চাপিলা, কাটাইড়া, বইছা, চান্দা, তিতানী, শোলটাকি, ইছারগুড়া, গজার, ভূলাটাকি এসব মাছ শুটকি দেওয়া হত।

আশ্বিনের শেষ দিকে কৈ, পাবদা, গুতুম, পুঁটি, খৈলশা, চান্দা, বৈছা, তাঁরা বাইম, ছোটবাইম, বড়বাইম, সুন্দরী, কাজলী মাছগুলো বিল-ঝিল থেকে নামত। আর নানা ধরনের ফাঁদ দিয়ে সাধারন মানুষ মাছ ধরত।

এত মাছ জালে উঠত মাছ কিনে বা এনে শেষ করতে পারতাম না। নৌকা বোঝাই করে নদীর তীরে রাখতাম। বিশ-ত্রিশজন নারী পুরুষ মিলে মাছ কেটে সে মাছ নদীর তীরে মাচা বেধে শুকাতে দিতাম। মনকে মন শুটতি মাছ নিয়ে, ঢাকা, মাধবদি, বাবুর হাট, গোপালদি যেতাম।

দশম শ্রেণির ছাত্রী জুয়েনা বলেন আমার বাবা-দাদা ছোট সময় থেকেই শুনি মাছের ব্যাবসা করছে। কিন্তু এখন শুনি আগের মতো মাছ বেশি পায় না। জেলেরা নাকি মাছ পায় না। মাছের ব্যাবসাও আগের মতো নেই। মনে হয় যেন নদীর দেশে মাছের কষ্ট।

বর্ষার শেষ সময়ে নদী, নালা, খাল-বিল,পুকুর ডোবা থেকে প্রচুর পরিমান দেশিয় জাতের ছোট বড় অনেক মাছ পাওয়া যেত। সে মাছ ধরার জন্য গ্রাম বাংলার সকল শ্রেণির মানুষ মাছের জন্য নদীর তীর, খাল, ডোবার পাশে মাছ ধরায় কাজে ব্যস্ত থাকত।

এখন সে মাছ নেই বললেই চলে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে পরে দ্রুত ফলন ফলাতে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারে মাছের ক্ষতি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে কীটনাশক মিশে নদীর পানিকে করছে দূষিত ফলে মরছে মাছ। ধ্বংস হচ্ছে মৎসকুল।

কোম্পানিগুলো নদীনালা খাল-বিল অবাদে ভরাট করে কলকারখানা গড়ে তুলছে। কলকারখানা বর্জ্য ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা নগরায়নরে ফলেও প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব পরছে। বিষাক্তবর্জ্য দুষিত করছে পানি আর বিলুপ্ত হচ্ছে দেশিয় মাছ। এর ফলে দিন দিন দেশিয় মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। ডোবা নালায় যে মাছ পাওয়া যেত এখন সে ডোবা নালা ভরাট করার ফলে ডোবা নালায় আর মাছ নেই। চাষের মাছের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে দেশের মাছের চাহিদা পূরন করতে। মাছের খাদ্য তৈরিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এসব চাষের মাছ খেলে শরীরে মরনঘাতি রোহ হওয়ার আশঙ্কাও আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

দেশিয় মাছ বিলুপ্ত হলে মাছের সেন্ট ব্যবহার করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution