• সকাল ৯:৩২ মিনিট সোমবার
  • ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : শরৎকাল
  • ২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে ডিজিটাল উপায়ে সামাজিক ভাতা প্রদানে অবহিতকরণ সভা সোনারগাঁয়ে শীতলক্ষ্যার তীরে কারখানা ডকইয়ার্ড ৬তলা ভবনসহ অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ইমামের গলাকাটা লাশ : পুলিশের দাবি ‘ক্লুলেস মার্ডার’ ভ্যাপসা গরমেই বাজারে শীতের সবজি সোনারগাঁয়ে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর হোসেন ইয়াবাসহ গ্রেফতার বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোক সভায় হাজারো নেতাকর্মীদের ঢল সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মাদক প্রতিরোধ কমিটির নেতার বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট উপজেলা আওয়ামীলীগকে ওরা ওরস্যালাইনের মত বানাতে চায়..কালাম আহ্বায়ক কমিটি মাঠে নামলেই কোমর ভেঙ্গে দিন…মোশারফ হোসেন আগামী দিনে প্রমান হবে কারা থাকবে কারা থাকবে না.. মাসুদ দুলাল স্থানীয় প্রশাসনকে কায়সার হাসনাতের হুশিয়ারী সোনারগাঁয়ে শোকসভা উপলক্ষে জনসভা সোনারগাঁয়ে বিয়ের প্রলোভনে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষক আটক ইঞ্জিনিয়ার মাসুমকে নিয়ে নেতাকর্মীদের আবেকঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল আজ কায়সার, মোশারফ, কালাম ও দুলালের উদ্যোগে শোকসভা, জনস্রোতের প্রস্তুতি সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত-৪ সিদ্ধান্ত আমরা নিবো কোন পেতাত্মার খবরদারি চলবেনা..কায়সার হাসনাত দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালনের প্রত্যয়ে সোনারগাঁয়ে শোভাযাত্রা সোনারগাঁয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা কায়সার, মোশারফ, কালাম ও দুলালের উপস্থিতে বর্ধিত সভায় নিজেদের ঐক্য অটুট রাখার প্রত্যয়
প্রার্থনা তোমার তরে…. শাহাদাৎ হোসন চৌধুরী শিপন।

প্রার্থনা তোমার তরে…. শাহাদাৎ হোসন চৌধুরী শিপন।

নিউজ সোনারগঁ২৪ডটকম:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আবহমান বাংলার প্রধান অতিথি। জেগে উঠে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে গোটা দেশ জুড়ে এক প্রাণের স্পন্দনতা। নতুন সম্ভবনার দ্বার উন্মোচনের আশায় গভীর আবেগে পেছনে ফেলে দিতে চায় দু:খ,বেদনা, হতাশা, গ্লানি, হাহাকার, ব্যর্থতা, অস্থিরতা। বিশ্বের বেশ কিছু দেশের ন্যায় সরকারী বেসরকারী সর্বক্ষেত্রে যদিওবা ইংরেজীর ব্যবহার, তদুপরি বাংলা নববর্ষ বাঙালির মনের গভীরে আসন পেতে আছে বহুকাল আগে। বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছিল এ দেশের মানুষের জীবনধারা ও প্রকৃতির বিচিত্র আচরণের রূপ ধরে। সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা নববর্ষ পালন শুরূ হয়। যুগ যুগ ধরে এ দেশের চাষি তাঁতী জেলে কামার কুমারসহ সাধারণ মানুষ নববর্ষকে বরণ করে আসছে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। বাংলার কৃষক, প্রান্তজনেরা এখনো বাংলা সনের হিসাব ধরে সকল কার্য সম্পন্ন করে আসছে। হাটে বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নতুন খাতা খোলার এক মহাউৎসব লক্ষ্য করা যেত। তখন নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। দেনাদার জনেরা আপ্যায়িত হয়ে একে অপরের সাথে কুলাকুলির করে আবেগী সূরে বলতে থাকে এমনি ভাবে আবার যেন দেখা হয়। নববর্ষকে উৎসব মুখর করে তোলে বৈশাখী মেলা। বাঙালির এই একটি মাত্র উৎসব যেখানে মুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও উপজাতি গোষ্ঠী অনাবিল আনন্দে সকলে মিলে উদযাপন করেন বাঙালির প্রাণের মেলা বৈশাখী উৎসব। এটা মূলত লোকজ মেলা। কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, কুটির, হস্ত, মৃৎ শিল্প ও শিশু কিশোরদের খেলনা সামগ্রী, মেয়েদের সাজসজ্জা সামগ্রী এবং বিভিন্ন খাবার সামগ্রীর সমারোহ থাকে। আমরা বাঙালিরা সৌভাগ্যবান কেননা পৃথিবীর অনেক জাতির কোন নববর্ষ নেই। এই উৎসবে ঘটে মানুষে মানুষে মিলন ও সৌহার্দ্যের নবায়ণ। আর এমন মিলন মেলা শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখের মতন অসাম্প্রদায়িক উৎসবেই দেখা যায়। আমাদের আছে নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্য আর প্রাচীন ইতিহাস যা নিয়ে আমরা গর্ব করি।

প্রকৃতির পালাবদল ঘটবে বছরের সূচনা লগ্নে। পুরনো নিবে বিদায়। সামাজিক স্তরে মানুষ পুরনো ভেদাভেদ ভুলে নতুন মিলন ডানার এক ছায়া শান্তিময় পৃখিবীর খোঁজ করবে। সেই প্রশান্তির মাঝে বিরাজ করবে মন চেতনা বিবেক চিন্তা বুদ্ধি। তাইতো কবি লিখেছেন “বছরের আবর্জনা যাক দূরে যাক” আবর্জনা দুরে ঠেলে না দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিকে দিন দিন কুলুষিত করছি আমরা নিজেরাই। যার যা ধর্মের রীতি তা থাকনা গন্ডির ভিতরে। ছোট বড় সব অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো আজ প্রশ্ন তুলছে এক পায়ে।পিছনে ফিরে তাকালে বিগত বছর গুলোতে থার্টি ফাস্ট নাইট, বৈশাখী বৈকালিক লোকালয়ে কিংবা দোল নামক রংয়ের খেলায় আমরা যে ভাবে ঘটনার জন্ম দিচ্ছি তা কোনদিনই ইতিহাস বহন করে না। সম্প্রতি রং মাখা মুখ উচিয়ে হ্যাপী হলি ডাইলক ছুড়ে সেলফি দিচ্ছে ফেইসবুকে, সেখানে দেখা মিলছে মুসলমানদের আনাগোনা, যা কখনোই কাম্য ছিলনা। এই দোল নামক রং মাখামাখি শুধুমাত্র সনাতন ধর্মের আয়োজন কিন্তু তা আজ নেমে এসেছে রাজপথে। ধর্ম যার উৎসব তার এই হোক আমাদের শ্লোগান। সকল ধর্মের বাহক আমাদের বাংলা। আজ প্রশ্ন উঠছে এই ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী সাংস্কৃতির মিলন মেলার আয়োজন নিয়ে। এই উৎসবের আমেজ একদিনে একসাথে শুরু হয়নি, বর্ষবরণের ঢং আজ অনেকখানি এগিয়ে গেছে। ভাল কিছু ধরে না রেখে নতুন নোংরা চিন্তা চেতনার ফল স্বরূপ প্রশ্নের সম্মুখীন আজ জাতীর বিবেক। চৈত্র সংক্রান্তিতে এখনো গ্রামের বটতলায় হাটে মাঠে বৈশাখি মেলার আয়োজন হয় যাতে কিনা অনেক অসামাজিক অনৈতিক বিষয় স্থান পেয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে পণ্য সাজিয়ে লটারি, জুয়ার আসর, পুতুল নাচের নামে অশ্লিল নৃত্য, যাত্রার নামে চলে অশ্লিল নারী নৃত্য ইত্যাদি। ১৯৬৫ সালে ছায়ানটে ঢাকায় রমনার বটমুলে বর্ষবরণ অনুষ্টানের আয়োজন করে মূলত তা ছিল আইয়ুব সরকারের রবীন্দ্র সংগীত বিরোধীতার প্রতিবাদ। ১৯৮৫ সালে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে বাংলার সংস্কৃতির কালো দিনের ঘনঘটার রূপ নিতে থাকে ঠিক তখনি পাপীদের মুখোশ নিয়ে একটি শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত হয় আর সেটিই ছিল বাংলা নববর্ষর প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সালে চারুকলা ছাত্ররা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে আর পরের বছর তা মঙ্গল শোভাযাত্র নামে পরিচিতি লাভ করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা জাতীয় উৎসবে পরিনত হয়েছে। রাজধানী সহ সারা দেশে শহর কেন্দ্রীক বৈশাখি মেলায় নানা রঙ্গের ব্যানার পেস্টুন মুখোশ পরিহিত নানা বর্ণের নানা আয়োজন, জাকজমক বর্ণাঢ্য রাজপথ যাত্রা, গানের সুরে ঢাকঢোল বাদ্যিতে আবেগী সুরে ডাক দেয় নববর্ষকে। এসো হে বৈশাখ এসো হে। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে দেশীয় পোশাক খাদ্য রুচির মর্যাদা অনেকখানি বেড়ে গেছে। পান্তা ইলিশ খাওয়া নামে চলে হাজার টাকার অপব্যবহার যা কিনা দারিদ্র ক্ষুধাপিড়িত মানুষগুলোর মাথা মাড়িয়ে। কখনো কখনো সভ্য জাতির পরিচয় মেলে গরীব দু:খীদের নুন্যতম খাবারের আয়োজন করার মধ্যে দিয়ে যদিওবা তা সংখ্যায় অনেক নগন্য।

শতশত বছর ধরে বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী আয়োজন মানুষকে যে ভাবে আকর্ষিত করে রেখেছে তার পেছনে মূল কারণ আমাদের দেশ ঐতিহ্যগত ভাবে শান্তি সম্প্রীতিতে ভরপুর। পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনে মিলনের বার্তা বহন করে। বর্ষবরণ কোন নির্দিষ্ট ধর্মের বা সম্প্রদায়ের নয়। এটি সার্বজনীন উৎসব। নববর্ষের উৎসব বাঙালি জাতির অবিনশ্বর অহংকার অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক। কিন্তু আজ আমাদের চারপাশে অনৈক্য ও অসিহঞ্চুতার দাপট দিনদিন বেড়ে চলছে। যাতে করে শান্তি ও অগ্রগতির ব্যঘাত ঘটছে আর গুরূতর বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে।

প্রগতিকামী মুক্তমনের মানুষদের প্রতি আহ্বান আবহ বাংলার লোকজ সংস্কৃতির বিস্তর আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারা সমুন্নত রাখতে ১৪২৬ বঙ্গাব্দের ভোরের সূর্য উঠুক নতুন প্রত্যয়ে।বাংলার মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসোবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যে কোন মূল্যে তা ধারন করে রাখতে হবে। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের সর্ববৃহৎ একটি গণমূখী উৎসব। তাই বাংলা নববর্ষের নতুন প্রভাতে তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে বলা অন্যায় ও অসুন্দরের প্রতি ঘৃনা জন্মাবে আর অশৃঙ্খল পরিহার করে সত্যর পথে থাকব অনড় ও অটল। নিজ হাতে নিজের ও জাতির ভাগ্য গড়ে তোলতে সকলেই সচেষ্ট থাকা চাই। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার এই চেতনা সকলের মাঝে জাগ্রত থাকুক এই কামনা।

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন
লেখক:পরিচালক ”অন্বেষণ”

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution