• দুপুর ১:২৩ মিনিট রবিবার
  • ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার নৌকার প্রার্থীর চোখের পানি না শুকাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আওয়ামীলীগে যোগদান ‘মা’ কম্পিউটার ইনষ্টিটিউট অব টেকনোলজি-এর সনদ বিতরণ সোনারগাঁয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে বসুন্ধরা. ইঞ্জি: মাসুম বন্দরে একসাথে তিন বান্ধবী নিখোঁজ কমপ্লেক্সে ঢুকে পড়া ছাগলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভুড়িভোজ, মামলা স্ত্রী’র অন্তরঙ্গ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার আইভীকেই নৌকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী জাকেরপাটির চেয়ারম্যানের দোয়া নিলেন মেয়র আইভি যেসব খাবার খেলে নতুন চুল গজায় সাদিপুরে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ কাউন্সিলর হত্যার প্রধান আসামির জানাজা ছাড়াই দাফন সোনারগাঁয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তিন বাড়িতে ডাকাতি সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের মনোনয়নপত্র বিতরন সোনারগাঁয়ে মাদকসহ আটক ২, পিকআপ জব্দ রূপগঞ্জ আ.লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৬ ভোট পূর্ণগননার দাবি ইউপি সদস্যের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ১৬ জানুয়ারী
সামাজিক অবক্ষয়ের কারনে উৎকৃষ্ট মানুষের নিৎকৃষ্ট আচরন

সামাজিক অবক্ষয়ের কারনে উৎকৃষ্ট মানুষের নিৎকৃষ্ট আচরন

Logo


নিউজ সোনানগাঁ২৪ডটকমঃ  আশরাফুল আলমঃ বর্তমান সময়ে অবক্ষয় একটি অনিরাময় সামাজিক ব্যাধি। চোখের সামনেই যে যা করছে সব নিজের ইচ্ছাতেই করছে। কে কার বাঁধ সাধে। কথায় বলে, সময় এখন বর্ষাকাল, বিড়াল চাটে বাঘের গাল। সবই ঠিকঠাক চলছে মানুষের মাঝে নেই কোন সামাজিক মূল্যবোধ নেই কোন আমুল পরিবর্তন। শুধু বাড়ছেই তো বাড়ছে। শিক্ষাঙ্গনে ভাল শিক্ষা নেই, চিকিৎসাঙ্গনে সুচিকিৎসা নেই, সেবাঙ্গনে ভাল সেবা নেই, আইন আছে তো ফাঁকি জুকির অভাব নেই, বিচার আছে তো সুবিচার নেই। শ্রদ্ধার কমতি হলেও অশ্রদ্ধার কমতি নেই। গান আছে তো ভাল গায়েক নেই, নায়েক আছে তো ভাল ছবি নেই, সাধু আছে তো শয়তানের অভাব নেই, পীর ফকির আছে তো ভন্ডার অভাব নেই, মানুষ আছে মনুষত্ব নেই, চরিত্র আছে কিন্তু চরিত্রহীনের অভাব নেই, প্রবিত্র সর্ম্পক প্রেম ভালবাসায় প্রতারনার শেষ নেই, ধর্ম আছে কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধ নেই, অন্যায়, অপরাধ, অবিচার আছে তো প্রতিবাদী কন্ঠ নেই, ধনাঢ্য বক্তি আছে কিন্তু চাটুকার ও চামচার অভাব নেই, ন্যায় নীতি ঠিকই আছে কিন্তু মানুষের মধ্যে আদর্শ নেই। অপসংস্কৃতির চর্চা এখন সব খানে। বেশির ভাগ মানুষের মাঝে এখন শুধু প্রতারনা, প্রবঞ্চনা, লোভ, লালসা বিদ্যমান। সৌজন্যবোধ বলতে এখন আর কিছুই বিদ্যমান নেই বিলুপ্ত প্রায় অথবা শেষাংশে, যার ভিতরে কিছুটা সৌজন্যবোধ বিরাজমান রয়েছে সে এখন ভিক্ষা করে অমানুষের দুয়ারে। তাইতো চলার পথে দেখা যায় মানুষের মাঝে লজ্জা সরমের বালাই নেই। সে জন্য শুধুই বেড়ে চলছে সমাজে নানা অসঙ্গতি। মুখে মুখে সবাই সব কিছু মানী আসলে নিজের বেলায় কেউ কিছুই মানতে নারাজ। যার যার অবস্থান থেকে সবাই শুধু দেয় ফাঁকি। যার ফলে দিনদিন বেড়েই চলছে সামাজিক অবক্ষয়, শিকার হচ্ছে মানুষ নানা হয়রানী ও ভোগান্তির। পাশাপাশি সীমা লংঘন করেই চলছে অপরাধ প্রবনতা। প্রতিদিন কোন না কোন সমাজে ঘটেই চলছে রোমহর্ষক অনেক ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় লাগামহীন হয়ে পড়ছে খুন, ধর্ষন, রাহাজানি, হিংসা, বিদ্বেস, হানাহানি। জ্ঞানী লোকের জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ নেই, জ্ঞান চলে যাচ্ছে আইসিউতে। মানী লোকের মান রয়েছে বিবেক নামের গাছের ডালে বাধা। তাইতো সমাজে অযোগ্য লোকের প্রাধান্য বেশি হওয়ায় বিবেক রয়েছে সিসিউতে। তাইতো ধারাবাহিক ভাবে চলছে সমাজে আদিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতা প্রয়োগের প্রদর্শনী। একটা সময় ছিল মানুষ যোগ্যতা অর্জন করতো কঠিন তপসার বিনিময়ে। তখন অমানুষেরা অযোগ্যতা প্রদর্শন করতো রাস্তা ঘাটে। সে সময় বলা হত যোগ্যতা অর্জনের বিষয় আর অযোগ্যতা প্রদর্শনের বিষয়। বর্তমানে খেয়ে পড়ে মানুষের জীবন মানের অনেক অগ্রগতি সাধিত হলেও জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি, ন্যায় পরায়নতা, দিনের পর দিন চোখের সামনেই ক্রমাগত বিলিন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এরকম এক পর্যায় চলে যাচ্ছে উদাহরন সরূপ বলা যায়। সালা তুই মাইরও খাবি, সালামও দিবি, আবার সালামি শুদ্ধ দিবি। নইলে তোর খাওয়া নেই। আফসোস করে অনেক সচেতন লোক বলে মূর্খ্যতার প্রভাবেই চলছে অনেক সমাজবাদী মানুষ। শিক্ষার কোন বালাই নেই, অর্থ, বিত্ত, পাচুর্য থাকলেই সে এখন গান বাজনা, শিক্ষা বিনোদন সাংস্কৃতি ও খেলাধুলা, ওয়াজ মাহফিল যে কোন মঞ্চে প্রধান অতিথি। সমাজের কতিপয় অসাধু সমাজ পতি দিবালোকে প্রকাশ্যে সাধারন মানুষের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করে অবৈধ অর্থ বিত্তবৈভব উপার্জন করেও কিছু শয়তান রূপের সাধু সন্যাসী সঙ্গে নিয়ে সাজে দাতা সংস্থার সভাপতি। সমাজে ঘৃনীত, প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত, অপরাধী তবুও সে অন্ধ সমাজের মানুষের কাছে সেলুব্রেটি। সমাজে সে যা বলে তাহাই চলে। কিছু অসৎ, স্বার্থ লোভী মানুষের কারনে সাধারন মানুষ প্রতিবাদী না হয়ে এখন নীরব ভোগী। প্রায় প্রতিটি সমাজেই এই অপসংস্কৃতিই বেশি প্রাধান্য বিস্তার করে চলছে স্বার্থ লোভী কিছু চামচাদের কারনে। কথায় আছে, সাধু মহৎ সাজতে, হজ্ব করিতে মক্কা যেতে তুমি খরচ করলে যে টাকা, এই টাকা গরীবকে দিলে সমাজে গরীব আর থাকে কেডা। সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ অনিয়মকে নিয়ম মেনে চালু করেছে বিলাসিতা। ভিত্তশালী কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার স¦জনারা বিশাল আয়োজনে মিলাদ মাহফিলের নামে করে মৃত ব্যক্তির কুলখানি। যেই খাবার এতিম, অসহায়, ভিক্ষুকদের জন্য আয়োজন হলেও কিন্তু সেই খাবারই ধনী মানুষের সামনে পরিবেশন করে শুরু করে তাবেদারী। আজকাল রাস্তায় চলা যায় না পর্দাশীন নারীদের ভিড়ে। দেখলে মনে হয় না জানি কত খোদা ভীতি নারী। রাস্তাঘাটে, হোটেল, রেস্তোরায়, বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে যেকোন জায়গায় চলছে এখন শরীর প্রদর্শনী। প্রতিদিন রাতভর ডিস লাইনে বিদেশী চ্যানেল দেখে অন্য ধর্মের তালিম নিয়ে ধর্মের লেবাস পড়ে করছে শুধু নোংরামী আর নষ্টামী। একটা সময় ছিল নারীরা ধর্মীয় শিক্ষায় পুরুষের তুলনায় ছিল বেশ অগ্রগামী। সে সময় সমাজের প্রায় ঘরেই ছিল সকালে কোরআনের ধ্বনি। এখন মূমুর্ষ কোন রোগীর পাশেও শুনতে পাইনা কোরআনের ধ্বনি। আবার কোন কোন সমাজে প্রকাশে সুদখোর, ঘুষখোর দখল করে আছে মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারী। তারা কিন্তু চায় আবার ইমাম সাহেবের তাবেদারী। এতোটা সহজেই সব কিছু বদলে গেলো ভাবা যায় না। এই হল আমাদের সমাজ ব্যবস্থা।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution