• সকাল ৯:৩৬ মিনিট সোমবার
  • ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : শরৎকাল
  • ২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে ডিজিটাল উপায়ে সামাজিক ভাতা প্রদানে অবহিতকরণ সভা সোনারগাঁয়ে শীতলক্ষ্যার তীরে কারখানা ডকইয়ার্ড ৬তলা ভবনসহ অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ইমামের গলাকাটা লাশ : পুলিশের দাবি ‘ক্লুলেস মার্ডার’ ভ্যাপসা গরমেই বাজারে শীতের সবজি সোনারগাঁয়ে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর হোসেন ইয়াবাসহ গ্রেফতার বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোক সভায় হাজারো নেতাকর্মীদের ঢল সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মাদক প্রতিরোধ কমিটির নেতার বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট উপজেলা আওয়ামীলীগকে ওরা ওরস্যালাইনের মত বানাতে চায়..কালাম আহ্বায়ক কমিটি মাঠে নামলেই কোমর ভেঙ্গে দিন…মোশারফ হোসেন আগামী দিনে প্রমান হবে কারা থাকবে কারা থাকবে না.. মাসুদ দুলাল স্থানীয় প্রশাসনকে কায়সার হাসনাতের হুশিয়ারী সোনারগাঁয়ে শোকসভা উপলক্ষে জনসভা সোনারগাঁয়ে বিয়ের প্রলোভনে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, ধর্ষক আটক ইঞ্জিনিয়ার মাসুমকে নিয়ে নেতাকর্মীদের আবেকঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল আজ কায়সার, মোশারফ, কালাম ও দুলালের উদ্যোগে শোকসভা, জনস্রোতের প্রস্তুতি সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত-৪ সিদ্ধান্ত আমরা নিবো কোন পেতাত্মার খবরদারি চলবেনা..কায়সার হাসনাত দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালনের প্রত্যয়ে সোনারগাঁয়ে শোভাযাত্রা সোনারগাঁয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা কায়সার, মোশারফ, কালাম ও দুলালের উপস্থিতে বর্ধিত সভায় নিজেদের ঐক্য অটুট রাখার প্রত্যয়
সোনারগাঁয়ের চারণ কবি শারবিনের সুখ-দুঃখ

সোনারগাঁয়ের চারণ কবি শারবিনের সুখ-দুঃখ

রবিউল হুসাইন
জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাওয়া এক যোদ্ধা মোহাম্মদ শারবিন। উত্তাল মেঘনার তীরে ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা গ্রামে তার জন্ম। হয়তো মেঘনার ভাঙ্গা গড়ার নিষ্ঠুর খেলাই তার জীবনকে প্রভাবিত করেছে প্রবল ভাবে। তাই জীবনের বাঁকে বাঁকে দারিদ্রের কষাঘাতে পিষ্ট হয়েও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে।

স্বাধীনতার মাত্র এক বছর আগে সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসেরচর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন শারবিন। ভালই কাটছিল তার শৈশব। হঠাৎ মেঘনার প্রবল ভাঙ্গন তার পরিবারের সবকিছু এলোমেলো করে দেয় । চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় মেঘনার বুকে হারিয়ে যায় ভিটে মাটি ও সহায় সম্বল। তার নিস্ব পরিবার এসে আশ্রয় নেয় সাবেক আমিনপুর ইউনিয়ন(বর্তমান সোনারগাঁও পৌরসভার) ভট্টপুর গ্রামে। এখনো এখানেই আছে তারা। পরের জমিতে আশ্রিত হিসেবে।

চার ভাই ও এক বোনের সংসারে পড়াশুনা করার সুযোগ হয়নি শারবিনের। নদী ভাঙ্গা মানুষ হিসেবে ছোট বেলা থেকেই দারিদ্রের সাথে যুদ্ধে নামতে হয়েছে তাকে। কৃষক পরিবারের সন্তান শারবিন পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য ছৈয়ালের কাজে যুক্ত হন। কিন্তু এ কাজে কেন জানি তার মন বসে না। প্রতিনিয়ত মন ছুটে যায় সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে। সেই নদী, সেই গ্রাম, সেই সবুজ মাঠ কিন্তু সবই আজ অতীত।

শারবিন তার ছৈয়ালের কাজ ছেড়ে অটোরিক্সা চালানো শুরু করেন। এভাবেই কাটতে থাকে জীবন।

শারবিনের বাবা জিলানী মিয়া ছন্দে ছন্দে কথা বলায় পটু ছিলেন। অনেকেই তার এ ছন্দ পছন্দ করতেন। তিনি অনেকটা কবিয়ালদের মতো করে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করতেন। বাবার সে ধারা শারবিনের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। অটোরিক্সা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে সেও বিভিন্ন বিষয় ছন্দে ছন্দে বলতেন। বিষয়টি তার সহকর্মীদের নজরে এলে তারা তাকে ধরে মাঝে মধ্যেই এ ছন্দময় কথা শুনতেন। তাদের উৎসাহেই মূলত ছড়া কবিতা লেখায় হাত দেন তিনি। পরে স্থানীয় কবি লেখকদের অনুপ্রেরণায় আজকের অবস্থানে এসেছেন শারবিন।

শারবিন সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, দূর্ভোগ, সাফল্য,ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, শিক্ষা, বাল্য বিবাহ ও মাদকের কুফল নিয়ে সবচেয়ে বেশী ছাড়া কবিতা লিখে থাকেন। সোনারগাঁওয়ের বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ন সেতু ও ভাঙ্গা রাস্তায় জনদুর্ভোগ তিনি কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এবং বিষয়গুলো প্রশাসনের নজরে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার লেখা দেখে প্রশাসন পেতার বাড়ির ঝঁকিপূর্ন সেতুটি ভেঙ্গে সেখানে কালভার্ট নির্মান করে দিয়েছেন তাছাড়া পিঠাওয়ালীর সেতুর দুই পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা নির্মান করে দিয়েছেন বলে জানান শারবিন।

ভাড়ায় চালিত শারবিনের অটোরিক্সাটির গায়েও সাটানো আছে তার লেখা সমাজ সচেতন মূলক কবিতা। যারা তার অটোরিক্সাটিতে চড়েন তাদের নজরে পড়বে চালকের আসনের আসনে ও পেছনে বেশকিছু বই ও কবিতা লেখার খাতা। একটি বাংলা অভিধানও রয়েছে তার গাড়ীতে যখনই সময় পান তখনি লিখতে বসে যান। যাত্রীর অপেক্ষায় যখন থাকেন তখন খাতা নিয়ে নতুন কবিতা লেখায় নিমগ্ন হন।

এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় তিনশতটির বেশী ছড়া কবিতা রচনা করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তার লেখা। তবে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় এখনো বই আকারে প্রকাশ করার সুযোগ হয়নি তার।

১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে তার ছন্নছাড়া জীবনে সঙ্গী হয়ে আসেন মোসাম্মৎ রহিমা বেগম। অভাব অনটনের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে ভরন পোষনের পাশাপাশি পড়াশুনা করানো তার পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে দাড়ায়। তারপরও সে এ কঠিন কাজটি করে যাচ্ছেন হাসি মুখে। বড় মেয়ে আবিদা সুলতানা রাজিয়া স্থানীয় কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজে বিএ ২বর্ষে পড়ছেন। নাজনিন সুলতানা রাবিয়া সোনারগাঁও সরকারী ডিগ্রী কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে অনার্স ১বর্ষে পড়ছেন, তৃতীয় মেয়ে তামান্না সুলতানা জাকিয়া এবার জে এস সি পরীক্ষা দিয়েছে। আর সবার ছোট একমাত্র ছেলে মাহমুদুল ইসলাম সিয়াম স্থানীয় সীরাতুল মুস্তাকিম এতিমখানায় নজরানা কুরআন শরীফ শিখছে।

তাদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে দিয়ে শারবিনকে অনেক হিমশিম খেতে হয়। মাঝে মাঝে হতাশার কালো মেঘ তাকে জড়িয়ে ধরে। চারিদিকে ঋনের পাহাড়। কবে শোধ হবে। কবে মাথা গোজার একটু ঠাঁই হবে। মেয়েদের বিয়ে দিতে হবে। সব চিন্তা যখন তার মাথায় এসে ঘুরপাক খায় তখন উদাস নয়নে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

কিছুক্ষণ পরই নতুন কবিতার লাইন এসে সব ভুলিয়ে দেয় শারবিনকে।এভাবেই সময় কেটে যায় এক দুই তিন করে। নিজের অভাব অভিযোগ আর অপারগতার কথা শেয়ার করেন না কারো সাথে। নিজের কষ্টে নিজেই পুড়ে ছাই হোন।

শারবিনের মতো প্রান্তজনের কবি অর্থাৎ চারণ কবি না হয় স্বভাব কবি যাই বলি না কেন সমাজে এখন এমন কবি সচরাচর দেখা যায় না। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমারদের বাংলা ভাষাকে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে যেভাবে লালন করে যাচ্ছেন শারবিন এজন্য সে সাদুবাদ পেতেই পারেন।

শারবিনের অটোরিক্সাতে করে প্রতিদিন বহু যাত্রী কত সুখ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ঈদ কিংবা পালা পার্বণে ব্যাগ ভর্তি নতুন পোশাক নিয়ে যাত্রীরা হাসি মুখে প্রিয়জনদের কাছে যান। কিন্তু শারবিনকে ভাবতে হয় সংসার খরচ মিটিয়ে এবার ঈদে সন্তানদের পোশাক কিনে দিতে পারবে তো। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। এই তো জীবন। ভাঙ্গা গড়ার জীবন। আমরা চাইলেই হয়তো চারণ কবি শারবিনের মুখে হাসি ফোটাতে পারি কিন্তু কে প্রথম এগিয়ে আসবে তার সংকটকালের সঙ্গি হয়ে। সে আশায় পথ চেয়ে আছি আমরা।

লেখকঃ সম্পাদক,চারদিক

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution