• দুপুর ১২:৫৮ মিনিট সোমবার
  • ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বর্ষাকাল
  • ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
বৃষ্টির পানিতে করোনার টিকা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি মুরগি, মাছ, খাসি নয়, বেশি করে গোমাংস খান’, পরামর্শ BJP মন্ত্রীর ৬ অগাস্ট পর্যন্ত রাশিফল অস্ট্রেলিয়ার ‘অদ্ভুত’ সিদ্ধান্তে যুক্তি দেখেন না ডমিঙ্গো কাল থেকে ঢাকায়, ৭ আগস্ট সারাদেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ পর্নোগ্রাফি তৈরীতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রী’কে নির্যাতনে ঘটনার বখাটে স্বামীর ১ বছরের কারাদন্ড সোনারগাঁয়ে একদিনে করোনা আক্রান্ত ২১, সুস্থ ১৫ সোনারগাঁয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিটা বাড়ী দখলের পায়তারা সোনারগাঁ করোনায় একজনের মৃত্যু, কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালে সেন্ট্রার অক্সিজেনের উদ্ধোধন সােনারগাঁয়ে ১৪ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক -১ সাধারণ মানুষকে ঘরে ফিরতে ইউএনও’র অনুরোধ সোনারগাঁয়ে একদিনে আরো ৩৪ জনের দেহে করোনা সনাক্ত টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলবদ্ধতায় ঘরবন্দি মানুষ সোনারগাঁয়ে একদিনে আক্রান্ত ২৯, সুস্থ ৩৬ লক ডাউনের ৭তম দিনে মোগরাপাড়া বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা ম্যাজিকের মত মুখের তেলতেলে ভাব দূর করুন মাত্র ২ মিনিটে লক ডাউনে দোকান খোলা রাখার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জেল সোনারগাঁয়ের করোনা রোগীদের জন্য এইচএম মাসুদ দুলালের ফ্রি অক্সিজেন সোনারগাঁ থানার মুল ফটকের সামনের দোকানে দূর্ধষ চুরি
সোনারগাঁয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত এক পরিবারের পাঁচ সদস্য

সোনারগাঁয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত এক পরিবারের পাঁচ সদস্য

Logo


নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকমঃ

সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের পাঁচানী গ্রামে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ভিটে মাটি বিক্রি করে এ পরিবার এখন নিঃস্ব প্রায়।

উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাঁচানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই গ্রামের সত্তর বছর বয়স্ক আব্দুর রশিদ সহ তার তিন ছেলে ও এক নাতি বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি হাটা চলা করতে পারেন না। প্রায় দুই বছর যাবত তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। তাঁর স্ত্রী শাহিদা বেগম(৫৮) জানান, বিয়ের পর হঠাৎ করে আমার স্বামীর দুই পা ফুলে যায়। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখানোর পরও তিনি আর সুস্থ হননি। তবে এতদিন কষ্ট করে কাজকর্ম ও চলাফেরা করতে পারলেও বছর দুই হলো তিনি একেবারেই হাটতে পারছেন না।

আব্দুর রশিদের তিন ছেলেও একই রোগে আক্রান্ত। বড় ছেলে জজ মিয়া(৪০)। তার বয়স যখন মাত্র আট বছর তখন হঠাৎ করে তার ডান পা ফুলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি প্রকট আকার ধারন করে। অপর দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম(৩৩) ও তাইজুল ইসলামেরও(২২) এই অবস্থা। তিন ছেলের মধ্যে জজ মিয়া ও জহিরুল কিছুটা হাটা চলা করতে পারলেও ছোট ছেলে তাইজুল এখন তার বাবার মতোই শয্যাশায়ী। তার দুই পা অস্বাভাবিক ফুলে গেছে। এছাড়া তাইজুলের একমাত্র ভাতিজা জজ মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলামও(১২) এ রোগে আক্রান্ত। সে সপ্তম শ্রেনিতে পড়াশুনা করে। তার ডান পা ইতি মধ্যে ফুলতে শুরু করেছে।

বিরল রোগে আক্রান্ত আব্দুর রশিদ জানান, তার বাবাও এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন তবে তিনি স্বাভাবিক ভাবে হাটাচলা করতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি বিগত দুই বছর যাবত হাটতে পারছেন না। একই অবস্থা ছোট ছেলে তাইজুলের সে গত তিন চার মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছেন।

আব্দুর রশিদ জানান, প্রাথমিক অবস্থায় ডাক্তাররা এটিকে গোদ রোগ বললেও পরীক্ষা নিরিক্ষা করে গোদ রোগ ধরা পড়েনি। ডাক্তাররা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না এটি কি রোগ।

তাইজুল ইসলাম বলেন, সে ২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল কিন্তু এ অসুখের কারনে পরীক্ষা দিতে পারেনি। চলতি বছর উন্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি প্রোগামে ভর্তি হলেও সে চলাফেরা করতে না পারার কারণে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। তাইজুলের বিছানার পাশে টেবিলে তার বই পড়ে আছে সেদিকে তাকিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে তাইজুল জানালো আমার বোধ হয় আর পড়াশুনা হবে না। এ রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাব? তাইজুল আরো বলেন, আমরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি কিন্তু কোন ডাক্তারই আমাদের রোগ ধরতে পারেনি। তারা বলেছেন দেশের বাইরে গেলে এ রোগের সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান,পরিবারের নারী সদস্য কারো এ রোগ নেই। তার দুই মেয়ে মিনারা ও হোসনে আরা অন্য দশজনের মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক তবে পরিবারের সকল পুরুষ সদস্যই এ রোগে আক্রান্ত। প্রতি মাসে একবার করে আক্রান্ত প্রত্যেকের প্রচন্ড জ্বর ও পায়ে ব্যাথা হয়। অস্বাভাবিক পা নিয়ে কেউই কাজ কর্ম করতে পারেন না। তাই সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে শাহিদাকে। কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার আশায় কাগজ পত্র জমা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। বিরল রোগে আক্রান্ত এ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ রোগের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution