• দুপুর ২:৩৩ মিনিট মঙ্গলবার
  • ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : গ্রীষ্মকাল
  • ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
দায়িত্ব বুঝে নিলেন নতুন প্রশাসক নির্বাচনের ঘোষনা দিলেন আরিফ মাসুদ বাবু ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে জামায়াত সোনারগাঁয়ে অস্ত্রসহ ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার মেয়াদের ১৫ মাস পর সোনারগাঁও পৌরসভার প্রশাসক নিয়োগ আহবায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আরিফ মাসুদ বাবু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুনামেন্টে জামপুর ইউনিয়ন ৫ – ০ গোলে জয়ী বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুনামেন্টে ২-০ গোলে বিজয়ী বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদ শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ভরাটে বদলে গেছে সোনারগাঁয়ের মানচিত্র বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টে জামপুর বনাম নোয়াগাঁও খেলা ড্র দবিরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সাথে মত মিনিময় সভা ওদের কাজ হলো ষড়যন্ত্র করা, এমপি খোকা সোনারগাঁ সংঘের নতুন কমিটি গঠন আরিফ মাসুদ বাবু’র সমর্থন চাইলেন সোহাগ রনি মনোনয়নের সংবাদ শুনে রাস্তায় সেজদায় লুটিয়ে পড়েন সোহাগ রনি’র নেতাকর্মীরা ভোজ্যতেলের ৮ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা জনস্বার্থ মামলা নিয়ে রসিকতা করবেন না, ‘তাজ-কাহিনি’ জানার আবেদন খারিজ আদালতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ছাত্রীকে ধাক্কা, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু পুরুষের টাক নিয়ে মন্তব্য নারীর স্তন নিয়ে মন্তব্যের সমান অপরাধ! গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা
সোনারগাঁয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত এক পরিবারের পাঁচ সদস্য

সোনারগাঁয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত এক পরিবারের পাঁচ সদস্য

Logo


নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকমঃ

সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের পাঁচানী গ্রামে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ভিটে মাটি বিক্রি করে এ পরিবার এখন নিঃস্ব প্রায়।

উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাঁচানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই গ্রামের সত্তর বছর বয়স্ক আব্দুর রশিদ সহ তার তিন ছেলে ও এক নাতি বিরল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি হাটা চলা করতে পারেন না। প্রায় দুই বছর যাবত তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। তাঁর স্ত্রী শাহিদা বেগম(৫৮) জানান, বিয়ের পর হঠাৎ করে আমার স্বামীর দুই পা ফুলে যায়। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখানোর পরও তিনি আর সুস্থ হননি। তবে এতদিন কষ্ট করে কাজকর্ম ও চলাফেরা করতে পারলেও বছর দুই হলো তিনি একেবারেই হাটতে পারছেন না।

আব্দুর রশিদের তিন ছেলেও একই রোগে আক্রান্ত। বড় ছেলে জজ মিয়া(৪০)। তার বয়স যখন মাত্র আট বছর তখন হঠাৎ করে তার ডান পা ফুলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এটি প্রকট আকার ধারন করে। অপর দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম(৩৩) ও তাইজুল ইসলামেরও(২২) এই অবস্থা। তিন ছেলের মধ্যে জজ মিয়া ও জহিরুল কিছুটা হাটা চলা করতে পারলেও ছোট ছেলে তাইজুল এখন তার বাবার মতোই শয্যাশায়ী। তার দুই পা অস্বাভাবিক ফুলে গেছে। এছাড়া তাইজুলের একমাত্র ভাতিজা জজ মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলামও(১২) এ রোগে আক্রান্ত। সে সপ্তম শ্রেনিতে পড়াশুনা করে। তার ডান পা ইতি মধ্যে ফুলতে শুরু করেছে।

বিরল রোগে আক্রান্ত আব্দুর রশিদ জানান, তার বাবাও এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন তবে তিনি স্বাভাবিক ভাবে হাটাচলা করতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি বিগত দুই বছর যাবত হাটতে পারছেন না। একই অবস্থা ছোট ছেলে তাইজুলের সে গত তিন চার মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছেন।

আব্দুর রশিদ জানান, প্রাথমিক অবস্থায় ডাক্তাররা এটিকে গোদ রোগ বললেও পরীক্ষা নিরিক্ষা করে গোদ রোগ ধরা পড়েনি। ডাক্তাররা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না এটি কি রোগ।

তাইজুল ইসলাম বলেন, সে ২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল কিন্তু এ অসুখের কারনে পরীক্ষা দিতে পারেনি। চলতি বছর উন্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি প্রোগামে ভর্তি হলেও সে চলাফেরা করতে না পারার কারণে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। তাইজুলের বিছানার পাশে টেবিলে তার বই পড়ে আছে সেদিকে তাকিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে তাইজুল জানালো আমার বোধ হয় আর পড়াশুনা হবে না। এ রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাব? তাইজুল আরো বলেন, আমরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি কিন্তু কোন ডাক্তারই আমাদের রোগ ধরতে পারেনি। তারা বলেছেন দেশের বাইরে গেলে এ রোগের সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান,পরিবারের নারী সদস্য কারো এ রোগ নেই। তার দুই মেয়ে মিনারা ও হোসনে আরা অন্য দশজনের মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক তবে পরিবারের সকল পুরুষ সদস্যই এ রোগে আক্রান্ত। প্রতি মাসে একবার করে আক্রান্ত প্রত্যেকের প্রচন্ড জ্বর ও পায়ে ব্যাথা হয়। অস্বাভাবিক পা নিয়ে কেউই কাজ কর্ম করতে পারেন না। তাই সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে শাহিদাকে। কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার আশায় কাগজ পত্র জমা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। বিরল রোগে আক্রান্ত এ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ রোগের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution