• ভোর ৫:১১ মিনিট রবিবার
  • ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বসন্তকাল
  • ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
লেখক মোশতাক হত্যার প্রতিবাদে সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ক্রিকেট টূর্নামেন্টে সোনারগাঁও পৌরসভা গ্ল্যাডিয়েটর ৯ উইকেটে জয়ী বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পিরোজপুর ২৯ রানের জয়ী সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান উদ্দিন চুন্নু’র মত বিনিময় সভা যানজট ও ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ পর্যটক এলাকা সোনারগাঁও নয়াগাঁও গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরো ১ জনের মৃত্যু সাদিপুরে তাহের আলী গংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরে খাবার ও জামদানী দোকানকে জরিমানা সনমান্দি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্টের উদ্ধোধন চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ সভাপতির প্রতিবাদ সভা ১২ বছরের শিশুকে ফুসলিয়ে বিয়ে, পুলিশের হাতে ধরা ভ্যানচালক সোনারগাঁয়ে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ আটক ২ সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ৩০ঘন্টা পর ঝোপ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার মৎস্যজীবী দলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে দোয়া মাহফিল ভাইকে সরিয়ে বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন চুম্মা বাবুল সোনারগাঁয়ে ভূমিদস্যুদের কান্ড: কৃষিবিদকে হত্যার চেষ্টায় থানায় অভিযোগ জিতলো রয়েল চেলেঞ্জার সনমান্দী, স্বস্তিতে চেয়ারম্যান জিন্নাহ সোনারগাঁয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষনের প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বউ

Logo


বউয়ের কথা ভাবতেছি। আমার মত বদমেজাজি একজন মানুষের সাথে এই মেয়েটি কি করে এতদিন সংসার করে যাচ্ছে?
এই কথাগুলো ভাবতেছি অন্ধকারে ঝোঁপে বসে। মানুষ প্রকৃতি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। আবার প্রকৃতি অনেক সময় আমাদের ভুলগুলো শুধরে দেয়।
এক বন্ধু তার প্রেমিকা নিয়ে পালাবে। মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। মেয়েও পালিয়ে যেতে রাজি আমার বন্ধুর সাথে। মেয়ে বের হবে রাত একটায়। গাড়ী ছোট বাজারের কাছে রাখা। ড্রাইভারকে এক প্যাকেট সিগারেট দিয়ে আসলাম, যেন না ঘুমায়।
.
ঝোঁপের আড়ালে আমরা তিনজন বসে আছি। আর তখনই আমাদের সাথে হঠাৎ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল একদল মশা। কোন ঢাল তলোয়ার ছাড়া সরু শুড় দিয়ে কুটুস কুটুস করে কামড়াচ্ছে। অন্ধকারে দেখতে না পারার কারণে মশা কামড়ায় এক জায়গায়, থাপ্পড় দিচ্ছি আরেক জায়গায়। বুঝতে পারলাম এই মূহূর্তে ধৈর্য ধরে সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই।
আর তখনই মনে পড়ল বউয়ের কথা। বউ আমাকে কেমন করে সহ্য করে? মশা মনে করে?
তবে কখনো আমি আমার বউকে মারিনি। কিন্তু আমার কথাই বিষ মাখানো তীরের মত কলিজায় লাগে।
.
বন্ধুর প্রেমিকা এল তার ভাবীর সাথে। তাড়াতাড়ি গাড়ীর কাছে এসে দেখি ড্রাইভার ঘুমুচ্ছে। ধাক্কা দিয়ে সজাগ করলাম। গাড়ি চলতে লাগল গ্রাম থেকে আমাদের শহরের দিকে। সাথের বন্ধু বলতেছে, “আমরা তোদের দুজনের জন্য কত কষ্ট করছি। নিজের প্রেমিকা বা বউ হলেও করতামনা। বন্ধু বলেই জঙ্গলে বসে মশার কামড়ও খেয়েছি।
আবার বউটির কথা মনে পড়ল। তার জন্য কি কখনো কোন কষ্ট করেছি আমি?
.
আমার খুব ইচ্ছে ছিল পল্লী গ্রামের মেয়ে বিয়ে করব। বাবা মা আমার ইচ্ছেকে প্রাধান্য নিয়ে গ্রামেই বিয়ে করাল। বউ খুবই লক্ষ্মী। কিন্তু আমি নিজেই মনে হয় ঠিক নেই। মনে হয়না, এখন মনে হচ্ছে আমার মাঝে কোন ভালোবাসাই নেই। বন্ধুর ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে পালানোর জন্য জঙ্গলে বসে মশার কামড় খেতে পারি কিন্তু নিজের বউটিকে কখনো বিদ্যুৎ চমকালে বুকে নিয়ে বলা হয়নি, “বউ তুমি ভয় পেওনা, আমি আছিতো।”
.
ড্রাইভার বলতেছে, “দেখেন ভাই, যদি কোন পুলিশ কেস টেস হয় আমি কিন্তু আপনাদের নাম বলে দেব। আমি ভাই ডান্ডার বাড়ি খেতে পারবনা। মেয়েটি বন্ধুর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে। ইটাখোলা মোড় পার করলাম। আর বেশীক্ষন লাগবেনা শহরে পৌছতে। বন্ধুর কাঁধে মেয়েটির মাথা রেখে ঘুম দেখে আমার বড্ড হিংসে হচ্ছে। আমার আজও ভালোবাসা শিখা হয়নি। বউয়ের হাতের রান্না খেয়ে পেট উপরের দিকে দিয়ে নাক ডেকে ঘুমানো ছাড়াও যে ভালোবাসার অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেছে এখন বুঝতে পারলাম। আমি কালই বৌকে নিয়ে ঘুরতে যাব। আর কখনো কটু কথা বলবনা। এমন করে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাতে বলব।
.
বন্ধুর খালাকে রাত তিনটায় ডেকে তুলে সব বিস্তারিত বললাম। সে তার প্রেমিকা নিয়ে খালা বাড়িতে ঢুকে গেল।সকালে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
যাবার সময় বলল, “তোদের মত দোস্ত হয়নারে। তোরা কলিজার টুকরা।” বলে ভিতরে ঢুকে গেল।
ড্রাইভার বলে উঠল, “ভাই আমার ভাড়াটা দিয়ে দেন আমিও চলে যাই।”
এই সেরেছে। রাত জেগে জঙ্গলে মশার কামড়ও খেতে হবে আর ভাড়াও দিতে হবে আমাদের দুজনেরই।
গাড়ীতে উঠে আমার বাড়ির সামনে এসে নামলাম। ভাড়া চুকিয়ে দিলাম। চোখে অনেক ঘুম, ঢুলু ঢুলু ভাব। বাড়িতে ঢুকে আস্তে আস্তে টোকা দিচ্ছি দরজায়। দুবার টোকা দিতেই দরজা খুলে দিল শশী।
– এত দ্রুত দরজা খুললে কিকরে? বিছানা থেকে উঠতেইতো দুই মিনিট লাগার কথা।
– আমি ঘুমাইনি, জেগে ছিলাম।
– বলে কি? জেগে ছিলে কেন? দিনের বেলাতো ঝিমাবে। এত রাতে কেউ জেগে থাকে?
– তোমার ফোন বন্ধ। এত রাতেও বাড়ি ফিরছনা। আমি ঘুমাই কি করে? মা জেগে আছে। আগে উনাকে বলে আসো তুমি যে এসেছো। ছেলের জন্য চিন্তা করতেছে।
পাশের ঘরে গিয়ে দরজায় টোকা দিতেই মা দরজা খুলে দিল। “কিরে বাবা কোথায় ছিলি এত রাত পর্যন্ত?”
-মা এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলাম। চার্জ না থাকায় ফোন বন্ধ ছিল। আমি ঠিক আছি, তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
মনে মনে ভাবতেছি আমার জন্য সবাই এত ভাবে আর আমি চলি আমার মত। নিজেকে পাল্টানো দরকার।
.
রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। বউকে বলতেছি, “শশী বাতিটা নিভিয়ে দাও।”
-বাতি নিভিয়ে দেব মানে? খাবেনা তুমি?
-এত রাতে আবার খায় নাকি কেউ?
-আমি যে এখনো তোমার জন্য না খেয়ে বসে আছি।
-বাংলা সিনেমা বাদ দাও। পেটে ক্ষিধা রেখে অযথা অপেক্ষা করতে হবেনা। তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়িও, আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।
শশীও আমার পাশে এসে শুয়ে পড়ল।
-কি ব্যপার তুমি না খেয়ে চলে এলে কেন?
-এত রাতে কেউ খায় নাকি? আমারো ঘুম পাচ্ছে।
আমার কথা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। অপরাধী লাগছে নিজেকে। আমি ঘুমানোর চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারছিনা। আমি খুব অন্যায় করতেছি। আমার মাঝে ভালোবাসা নেই কেন? কিভাবে ভালোবাসতে হয় আমি বুঝিনা কেন? উঠে বসে পড়লাম। শশী ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-বসে পড়লে কেন?
– শশী আমার ক্ষিধে পেয়েছে। এক প্লেট ভাত আনো আমরা দুজনে ভাগ করে খাব।
বউ শরীর থেকে কাঁথা ফেলে দ্রুত উঠে গেল। আকাশের চাঁদ মনে হয় হাতে পেয়ে গেছে। ভাত নিয়ে এসে বলতেছে, “নিচে নেমে এসো।”
-না। আজ বিছানায় বসে খাব।
শশী ভাত মাখতেছে এক পাশ দিয়ে। আমার দিকে তাকিয়ে বলতেছে, তুমি ভাত মাখবেনা?
– আমার হাতে আর ভরিয়ে লাভ কি? তুমি মাখছ তুমিই খাইয়ে দাও।
শশী মনে হয় লজ্জা পাচ্ছে। চোখ আর গালে সে লজ্জা স্পষ্ট। সে ভাতের লোকমা তুলে দিল আমার মুখে। দুই লোকমা দেয়ার পর তার খুশি মনটা হঠাৎ দুঃখী ভাব হয়ে গেল। কারণটা খুঁজে বের করতে হবে।
হ্যাঁ পেয়েছি। আমাকে দুই লোকমা মুখে তুলে দিয়ে নিজেও এক লোকমা মুখে দিতে যাচ্ছে মন খারাপ করে। আমি বউয়ের হাত ধরে বউয়ের হাতের লোকমা তারই মুখে তুলে দিলাম।
হেসে দিছে, আমি দেখেছি দুঃখী দুঃখী মনটা মূহূর্তে হেসে দিছে।
এটাই কি তাহলে ভালোবাসা? আমি তাহলে ছোট ছোট ভালোবাসাগুলো খুঁজে পাচ্ছি।
হঠাৎ শশীর চোখে পানি, কিন্তু মুখে হাসি। এর কারণতো খুঁজে পাচ্ছিনা। এই খুশি, এই দুঃখী, এই হাসি, এই কান্না। আমার শুকনো হাতে বউয়ের গাল বেয়ে নামা পানি মুছে দিচ্ছি আর বলতেছি, “আমি শিখতেছি অল্প অল্প করে তোমাকে ভালোবাসা। শিখা হলেই পূর্ণ করিব তোমার মনের আশা।”
শশী আমাকে প্লেট রেখে জড়িয়ে ধরল। আমি বাঁধা দেইনি। থাকুক না কিছুক্ষন এভাবে। একটু পর কানের কাছে ফিস ফিস করে বলতেছি, “কাল আমরা পার্কে ঘুরতে যাব, যাবে?”
আরো শক্ত করে ধরে রাখল। এবার বলতেছি,
“ছাড়োনা এবার, ভাততো গায়েও মেখে দিচ্ছ। ঘুমাতে হবেনা আমাদের?”
শশী ছেড়ে দিল। লজ্জা পাচ্ছে আর মুচকি হাসতেছে। আমি পেরেছি। পেরেছি আমি ছোট ছোট ভালোবাসা খুঁজে বের করতে। আমার মাঝেও ভালোবাসা আছে। শুধু প্রকাশ করার বাকি।

শব্দটির অর্থ জানুন

দু’বার ক্লিক করে শব্দটির অর্থ জানুন


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution