• দুপুর ২:২২ মিনিট সোমবার
  • ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বসন্তকাল
  • ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
জুয়েল বাঁচতে চায় সোনারগাঁয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নারী পিটিয়ে আহত সোনারগাঁয়ে ঘুড়ি খেলাকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১০ শেষ হলো তিনদিন ব্যাপী সোনারগাঁও জাদুঘরের জামদানী মেলা শিশুদের জীবন গড়তে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে..ইঞ্জি: মাসুম সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী সভা খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে পঞ্চমীঘাট স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সাদিপুর ছাত্রলীগের পক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ দর্শণার্থী ও ক্রেতাদের পদচারনায় মুখোরিত সোনারগাঁয়ের জামদানী মেলা সাদিপুর যুব সমাজের উদ্যেগে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান সোনারগাঁ জাদুঘর এর উদ্যোগে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, মান্নান শিবিরে স্বস্তি  সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদন ভাষা শহীদদের প্রতি সোনারগাঁও প্রেস ইউনিটি’র বিনম্র শ্রদ্ধা সোনারগাঁ থানা বিএনপির পক্ষে শহীদ মিনারে মান্নানের শ্রদ্ধা নিবেদন কায়সার হাসনাতের নেতৃত্বে ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী সোনারগাঁ প্রেস ইউনিটির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদের বিনম্র শ্রদ্ধা সোনারগাঁয়ে তিনদিনব্যাপী জামদানি মেলা শুরু ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে কে কখন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন
টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়েছে মুন

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়েছে মুন

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকমঃ 

ফজলে রাব্বী সোহেল, সোনারগাঁ, পৃথিবীর দুষণ মুক্ত প্রথম নাম্বারের সিরিয়ালে থাকা সুন্দরতম দেশ সুদূর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে পরিবারের নিজের পিত্রালয় বাংলাদেশে ছুটি কাটাতে এসেছে মুন। পুরো নাম মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন। মা-বাবা তাকে আদর করে মুন নামে ডাকে। মুনের মনটা আসলেই চাঁদের মতো সুন্দর। ১৫ বছরের ছোট মুন তার কাজ দিয়ে প্রমান করেছে তার সুন্দরতম মনের বিষয়টি। সে তার স্কুলের টিফিনের টাকা থেকে জমিয়ে মাদ্রাসার ৪৫ জন এতিম শিশু শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক উপহার দিয়ে তার সুন্দরতম মনের বিষয়টি প্রমান করে দিয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলার ভট্রপুর গ্রামের মনিরুল হক খাঁনের একমাত্র ছেলে মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন। বাবার প্রবাস জীবনের কর্মস্থল ইউরোপ মহাদেশের অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা শহরে জন্ম তার। লেখাপাড়াও করে ভিয়েনার শিফসুল স্কুলে দশম শ্রেণীতে। স্কুল ছুটি হওয়ায় পরিবারের সবার সাথে দাদার বাড়ী বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। উন্নত দেশে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো মুন বাংলাদেশে এসে তার চাচাতো, ফুফাতো ভাইদের সাথে গ্রামে-গঞ্জে, পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে এদেশের মানুষ-প্রকৃতি, মাঠ-ঘাট, ফুল-পাখি কতো কিছুইনা দেখে বেড়ায়। কতোনা কিছুর সাথে কিশোর মুন তার দু’চোখ দিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্টও দেখেছে। একদিন মুন তাদের সোনারগাঁয়ে বাড়ীর পাশের গ্রামের একটি মাদ্রাসায় ঘুরে দেখতে যায়। ওই মাদ্রাসায় গিয়ে সে দেখে মাদ্রাসার ছোট ছোট অনেক শিক্ষার্থীর বাবা নেই, আবার কারো বাবা-মা কেউই নেই। তারা এতিম হিসেবে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। এই ছোট এতিম ছাত্রদের গাঁয়ে ছেড়া ময়লা কাপড়। এ বিষয়টি মুনের ছোট্ট হৃদয়ে দাগকাটে। বাড়িতে ফিরে সে তার বাবা মনিরুল হকের সাথে ব্যাপারটি আলোচনা করে যে, তার কাছে স্কুলের টিফিন থেকে বাঁচানো কিছু টাকা আছে। এ টাকা দিয়ে সে মাদ্রাসার এতিম শিশুদের জন্য কিছু করতে চায়। সিদ্ধান্ত নেয় যে, এ টাকা দিয়ে সে ঐ শিশুদের জন্য নতুন পোশাক উপহার দেবে। তার এ সিদ্ধান্তে তার বাবা খুশি মনে শায় দেয়। শুরু হয় এতিম শিশুদের জন্য তার কাজ। গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার পবিত্র দিনে সে সোনারগাঁ উপজেলার ষোলপাড়া গ্রামের মাদ্রাসাতুল সিরাতুল মুস্তাকিম মাদ্রাসার ৪৫ জন এতিম ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার দেয়। এসময় মুনের বাবা মনিরুল হক খাঁন, চাচা সমাজ সেবক আনিসুল হক খাঁন, মাদ্রাসাতুল সিরাতুল মুস্তাকিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে ভিয়েনার শিফসুল স্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন জানায়, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার বাবা আমাকে নতুন জামা কিনে দিতে পারছে। আমি সেই কাপড় পড়ি অনেক আনন্দ পাই। কিন্তু তাদের তো বাবা নেই। তাদেরকে কে নতুন জামা কিনে দেবে। সে জন্য আমার ইচ্ছে হলো এসব বাবা-মা হারা ছোট ছোট এতিম শিশুদের নতুন ড্রেস উপহার দেয়ার। এব্যাপারে আমার বাবাও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।
মুনের মা ফারজানা হক খাঁন একজন সু-গৃহিনী এবং দয়ালু প্রকৃতির মানুষ। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে মুন দ্ধিতীয়।
সুদুর প্রবাস থেকে আসা কিশোর মুনের এ ছোট কাজটি মানবতার একটি উদাহরণ। ছোট মুন তার টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মাদ্রাসার এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা যদি আমাদের দেশের বিত্তবান কনেকেই আছেন তারা যদি এসব এতিম, অনাথ শিশুদের প্রতি একটু সুদৃষ্টি দেয় তাহলে তারাও দেখতে পারে আলোর পথ।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution