• রাত ২:৫৬ মিনিট বুধবার
  • ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে বাড়তে যাচ্ছে ট্রেনের সংখ্যা আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হবে নিয়ামক শক্তি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি বারদি জাতীয়পার্টির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত ১১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা আজ কি চমক দেখাবে পারবে ব্রাজিল? মাদক মামলায় ফেঁসে যাচ্ছে না.গঞ্জের ৪ পুলিশ সদস্য ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সেক্রেটারী সহ বিএনপি ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার দলিল লিখক মোশারফ এর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সোনারগাঁয়ে এক সঙ্গে তিন পুত্র সন্তানের জম্ম প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সোনারগাঁয়ে শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা নদী খনন করে নৌ-জেটি নির্মাণ ও আনন্দবাজারের নিম্ন অংশ ভরাটে চেয়ারম্যানের অভিনন্দন সোনারগাঁয়ে চেয়ারম্যানের পুত্রসহ দুইজন ইয়াবাসহ গ্রেফতার কাঁচপুর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ নিখোঁজ সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযানে আরো ৪ জন গ্রেপ্তার সাংবাদিক পরিমল বিশ্বাস এর মায়ের পরলোক গমন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে থানা বিএনপির নিন্দা সোনারগাঁয়ে ৬ বিএনপির নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি সভা বন্দরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ॥ আটক-২ নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশী তল্লাসীর নিন্দা স্বপনের
টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়েছে মুন

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়েছে মুন

Logo


নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকমঃ 

ফজলে রাব্বী সোহেল, সোনারগাঁ, পৃথিবীর দুষণ মুক্ত প্রথম নাম্বারের সিরিয়ালে থাকা সুন্দরতম দেশ সুদূর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে পরিবারের নিজের পিত্রালয় বাংলাদেশে ছুটি কাটাতে এসেছে মুন। পুরো নাম মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন। মা-বাবা তাকে আদর করে মুন নামে ডাকে। মুনের মনটা আসলেই চাঁদের মতো সুন্দর। ১৫ বছরের ছোট মুন তার কাজ দিয়ে প্রমান করেছে তার সুন্দরতম মনের বিষয়টি। সে তার স্কুলের টিফিনের টাকা থেকে জমিয়ে মাদ্রাসার ৪৫ জন এতিম শিশু শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক উপহার দিয়ে তার সুন্দরতম মনের বিষয়টি প্রমান করে দিয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলার ভট্রপুর গ্রামের মনিরুল হক খাঁনের একমাত্র ছেলে মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন। বাবার প্রবাস জীবনের কর্মস্থল ইউরোপ মহাদেশের অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা শহরে জন্ম তার। লেখাপাড়াও করে ভিয়েনার শিফসুল স্কুলে দশম শ্রেণীতে। স্কুল ছুটি হওয়ায় পরিবারের সবার সাথে দাদার বাড়ী বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। উন্নত দেশে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো মুন বাংলাদেশে এসে তার চাচাতো, ফুফাতো ভাইদের সাথে গ্রামে-গঞ্জে, পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে এদেশের মানুষ-প্রকৃতি, মাঠ-ঘাট, ফুল-পাখি কতো কিছুইনা দেখে বেড়ায়। কতোনা কিছুর সাথে কিশোর মুন তার দু’চোখ দিয়ে মানুষের দুঃখ-কষ্টও দেখেছে। একদিন মুন তাদের সোনারগাঁয়ে বাড়ীর পাশের গ্রামের একটি মাদ্রাসায় ঘুরে দেখতে যায়। ওই মাদ্রাসায় গিয়ে সে দেখে মাদ্রাসার ছোট ছোট অনেক শিক্ষার্থীর বাবা নেই, আবার কারো বাবা-মা কেউই নেই। তারা এতিম হিসেবে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। এই ছোট এতিম ছাত্রদের গাঁয়ে ছেড়া ময়লা কাপড়। এ বিষয়টি মুনের ছোট্ট হৃদয়ে দাগকাটে। বাড়িতে ফিরে সে তার বাবা মনিরুল হকের সাথে ব্যাপারটি আলোচনা করে যে, তার কাছে স্কুলের টিফিন থেকে বাঁচানো কিছু টাকা আছে। এ টাকা দিয়ে সে মাদ্রাসার এতিম শিশুদের জন্য কিছু করতে চায়। সিদ্ধান্ত নেয় যে, এ টাকা দিয়ে সে ঐ শিশুদের জন্য নতুন পোশাক উপহার দেবে। তার এ সিদ্ধান্তে তার বাবা খুশি মনে শায় দেয়। শুরু হয় এতিম শিশুদের জন্য তার কাজ। গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার পবিত্র দিনে সে সোনারগাঁ উপজেলার ষোলপাড়া গ্রামের মাদ্রাসাতুল সিরাতুল মুস্তাকিম মাদ্রাসার ৪৫ জন এতিম ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক উপহার দেয়। এসময় মুনের বাবা মনিরুল হক খাঁন, চাচা সমাজ সেবক আনিসুল হক খাঁন, মাদ্রাসাতুল সিরাতুল মুস্তাকিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে ভিয়েনার শিফসুল স্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্র মুন্তাছির রশিদ খাঁন মুন জানায়, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার বাবা আমাকে নতুন জামা কিনে দিতে পারছে। আমি সেই কাপড় পড়ি অনেক আনন্দ পাই। কিন্তু তাদের তো বাবা নেই। তাদেরকে কে নতুন জামা কিনে দেবে। সে জন্য আমার ইচ্ছে হলো এসব বাবা-মা হারা ছোট ছোট এতিম শিশুদের নতুন ড্রেস উপহার দেয়ার। এব্যাপারে আমার বাবাও আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।
মুনের মা ফারজানা হক খাঁন একজন সু-গৃহিনী এবং দয়ালু প্রকৃতির মানুষ। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে মুন দ্ধিতীয়।
সুদুর প্রবাস থেকে আসা কিশোর মুনের এ ছোট কাজটি মানবতার একটি উদাহরণ। ছোট মুন তার টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মাদ্রাসার এতিম শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দিয়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা যদি আমাদের দেশের বিত্তবান কনেকেই আছেন তারা যদি এসব এতিম, অনাথ শিশুদের প্রতি একটু সুদৃষ্টি দেয় তাহলে তারাও দেখতে পারে আলোর পথ।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution