• বিকাল ৩:৪৯ মিনিট রবিবার
  • ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বসন্তকাল
  • ৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
বন্দরে করোনা রোগীকে দেখতে যাওয়া সোনারগাঁয়ে ২ মহিলাকে আইসোলেটে সোনারগাঁয়ে জ্বর- সর্দি কার্শিতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু, করোনা আতঙ্কে কাছে যাচ্ছে না কেউ পিরোজপুর ইউপির ৩ গ্রামের অসহায়দের মাঝে চেয়ারম্যান মাসুমের ত্রাণ বিতরন উপজেলার ৮ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুম ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমরের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ সাদিপুর ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ও দুস্থ- অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সোনারগাঁয়ে ত্রাণ বিতরণের ছবি ফেসবুকে পোষ্ট করে সমালোচনার মুখে ডাক্তার বিরু মোগরাপাড়া বিদ্যায়তনের ২০০৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ত্রান বিতরণ এখনো করোনামুক্ত রয়েছে যে ১৮ রাষ্ট্র ২৫০ প্রতিবন্ধী ও ৭০ জন হিজরার মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রান সামগ্রী প্রদান চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মাসুমের সোনারগাঁয়ে মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকায় সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ত্রান বিতরন সোনারগাঁয়ে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বারদীতে তরুচ্ছায়া সংগঠনের নানা উদ্যোগ উপজেলা আওয়ামীলীগে আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে জামপুরে অসহায়দের মাঝে ত্রান বিতরণ করোনায় মধ্যবিত্তের কান্না… রবিউল হুসাইন সোনারগাঁও পৌরসভা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বাংলাদেশে আরও ৫ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন বন্দরে করোনায় এক নারীর মৃত্যু ঘরে থাকবেন আপনারা খাবার পৌছে দিব আমরা. চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুম
রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রামের প্রথম আহ্বায়কের স্মৃতি রক্ষার দাবী সোনারগাঁবাসীর

রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রামের প্রথম আহ্বায়কের স্মৃতি রক্ষার দাবী সোনারগাঁবাসীর

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকম:

রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক এ এস এম নূরুল হকের নামে সোনারগাঁ উপজেলার তলতলা – বারদী সড়কটি নামকরনের দাবী জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। এছাড়া তার কবর ও পৈত্রিক বাড়িটি সংরক্ষনের দাবী জানান তারা। নূরুল হক ১৯২৩ সালের ১ মে সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের কূলঘেষা গোবিন্দপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম নূরুল হক ভূঁইয়া ছিলেন রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক। এছাড়া তিনি তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন।

নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ছায়াসুনিবির গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় নূরুল হক ভূঁইয়ার সত্তরোর্ধ দুই ভাতিজা জাহিদুল আলম মাহমুদ ভূঁইয়া ও আবেদ হোসেন ভূঁইয়ার সাথে।

তারা বলেন, নূরুল হক চাচা ছিলেন মানব দরদী মানুষ। তিনি ঢাকা থেকে যখন গ্রামে আসতেন তখন গ্রামের মানুষকে নানা ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করতেন। যাতায়াতের খরচ বাঁচিয়ে তা গরিব দুঃখিদের মধ্যে দান করতেন।

আমরা তখন ছোট ছিলাম,আমাদের চাচা বাংলা ভাষার জন্য বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন।
তারা বলেন, আমাদের চাচা তার অবদানের স্বীকৃতি আজো পায়নি। তাকে মরনোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত ভাবে আবেদন জানাচ্ছি।

ভাষা সৈনিক নূরুল হকের নাতি বায়জিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, আমার দাদা ছিলেন একজন দেশ প্রেমিক মানুষ। জীবনের শেষ সময়ের আমি দাদার সান্নিধ্যে ছিলাম। বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় দাদার অবদানের কথা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না। তাই সোনারগাঁ উপজেলার তলতলা – বারদী সড়কটি দাদার নামে ভাষা সৈনিক নূরুল হক সড়ক নামকরনের জোড় দাবী জানাচ্ছি। তিনি নূরুল হক ভূঁইয়ার পৈত্রিক বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন কবরটি সংরক্ষন করার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।

তিনি আরো বলেন, নূরুল হক ভূঁইয়া ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফলিত রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে তিনি অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহন করেন। দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় তিনি অসাধারণ সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। পাটের অগ্নিরোধক মিশ্রন এবং দ্রুত গতিবেগ সম্পন্নœ বিমান ও অন্যান্য ইঞ্জিনের প্রয়োগযোগ্য ‘সলিড লুব্রিকেন্ট’ জাতীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃৃতি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল দুপুর ২ টায় ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

সোনারগাঁ সাহিত্য নিকেতনের সাবেক সভাপতি লেখক ও গবেষক শামসুদ্দোহা চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক নূরুল হক ভূঁইয়া সোনারগাঁয়ের সন্তান এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তার অবদানের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে তার স্মৃতি ধরে রাখা খুবই জরুরি। সুতরাং তার নামে সড়কের নামকরনসহ তার পৈত্রিক বাড়ি ও সমাধি সংরক্ষনের জন্য কর্তৃপক্ষকে এখনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। সোনারগাঁওয়ের কৃতি সন্তান, ড. নূরুল হক ভূঁইয়া মারা যাওয়ার ১ বছর পূর্বে ১৯৯৭ সালে ৭ মার্চ তাঁকে ‘সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতন স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত করে ছিলাম আমরা।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, নূরুল হক ভুইয়া রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন এটি আমার জানা ছিলনা। আমি এ ভাষা সৈনিকের নামে সড়কের নামকরন করা ও কবর সংরক্ষনসহ প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহন করবো।

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ‘অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়াকে’ আহ্বায়ক করে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। তাছাড়া নূরুল হক তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। নূরুল হক ভূঁইয়ার স্মৃতি রক্ষার ব্যপারে তিনি বলেন, আসলে ভাষা সৈনিকদের অবদানের জন্য সড়কের নামকরন কিংবা মরনোত্তর একুশে পদক দেয়া এগুলো সরকারের কাজ। সরকার চাইলে ভাষা সৈনিকদের সম্মানীত করতে পারেন। এবং এটা করা উচিত।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution