• বিকাল ৩:৪৬ মিনিট সোমবার
  • ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : শরৎকাল
  • ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ের মেয়ে মুন্নিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাবার আকুতি সোনারগাঁয়ে আলোঘর পাঠাগারে শোক দিবসের আলোচনা সোনারগাঁয়ে বিশ্ব মৌমাছি উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা পৌরসভায় ছিটানো ঔষধে মরছে না মশা দায় স্বীকার মেয়রের, নতুন ঔষধ কেনার আশ্বাস ইটভাটার মালিকের অবৈধ বিদ্যুৎতে প্রাণ গেল পাহারাদারের ডেঙ্গুজ্বর কাদের সবচেয়ে বেশি হয়? জেনে নিন করণীয় জাদুঘরে বৃক্ষরোপন ও পোনা মাছ অবমুক্তকরন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অলিপুরা ব্রিজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় আওয়ামীলীগে বিভক্তিতে হাইব্রিট নেতারা মাসিক বেতনে নেতাকর্মী টানছে. কালাম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন সোনারগাঁ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের বন্দরে দুই সাপের লড়াই ঠেকাতে প্রাণ গেল স্যানিটারি মিস্ত্রীর যে কারণে ১৫ আগস্ট খালেদার জন্মদিন পালনে বিরত বিএনপি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজ উপজেলা আহবায়ক কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদন মোশারফ হোসেন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজ জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন কালো টাকার মালিক ও ব্যাংক লুটতরাজরা আওয়ামীলীগ নিয়ন্ত্রন করতে চায়. মাহফুজুর রহমান কালাম লিয়াকত হোসেন খোকার উদ্যোগে শোক দিবসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন জাতির পিতার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোরবানী দিলেন মাহফুজুর রহমান কালাম
সোনারগাঁয়ে কারখানায় উৎপাদিত হওয়ায় বিলুপ্ত প্রায় হাতের ভাজা মুড়ি

সোনারগাঁয়ে কারখানায় উৎপাদিত হওয়ায় বিলুপ্ত প্রায় হাতের ভাজা মুড়ি

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
বাঙালী ঐতিহ্যে প্রতি বছরই রমজান মাসে সব শ্রেণীর মানুষের ইফতারিতে মুড়ি ছাড়া চলেই না। বিশেষ করে ইফতারিতে যে কোন মানুষের কাছে খাবারের তালিকায় মুড়ি অবশ্যই থাকা চাই। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্য সম্মত হওয়ায় মানুষের কাছে হাতের ভাজা মুড়ির এখনো রয়েছে আলাদা কদর। শহর কিংবা গ্রামে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব পরিবারের অন্যতম ইফতার আয়োজনে মুড়ির প্রাধান্য বেশি। বর্তমান সময়ে আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের জীবন মানের অনেক অগ্রগতি হওয়ায় প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক কিছুই বিলুপ্ত প্রায়। এর মধ্যে হাতের ভাজা মুড়ি। কালের আবর্তে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নি¤œ-মধ্যবিত্ত পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসায় এবং কারখানায় উৎপাদিত হওয়ায় সোনারগাঁয়ে বিলুপ্ত প্রায় হাতের ভাজা মুড়ি। তবে ৮০ দশকের শুরুতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ও পিরোজপুর দুটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে হাতের ভাজা মুড়ির বেশ ধুম ছিল। সারা বছর গ্রামগুলোতে কম বেশি মুড়ি ভাজা হলেও রমজান মাসে ছিল হাতে ভাজা মুড়ির বিশেষ চাহিদা। এ কারনে মুড়ি শিল্পে জড়িত নারী-পুরুষরা তখন দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ছিলেন। দিনরাত অভিরাম চলত মুড়ি ভাজার কাজ। সে সময় সোনারগাঁয়ের চাহিদা মেটানোর পর এই মুড়ি পাইকারী দরে হাত বদল করে ইঞ্জিন চালিত নৌকায়, কাঠের তৈরি বিভিন্ন নৌযানে ও মালবাহী পরিবহন ট্রাকে করে চলে যেত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় হাঁটবাজারে। তৎকালীন সময়ে মুড়ি ভাজা কাজে জড়িতরা নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন এখন অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটা স্বাবলম্বী হওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় ও রমজান উপলক্ষে এখনো সোনারগাঁয়ে পিরোজপুর ও শম্ভুপুরা দুটি ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও, তাতুয়াকান্দি ও দূর্গাপ্রসাদ এলাকার কিছু কিছু পরিবারে চলছে হাতে ভাজা মুড়ির কাজ ।

গতকাল শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে সোনারগাঁ উপজেলার স্থানীয় দূর্গাপ্রসাদ, তাতুয়াকান্দি ও মঙ্গলেরগাঁও সহ কয়েকটি গ্রামে কিছু কিছু পরিবারে এখনো চলছে হাতে ভাজা মুড়ির কাজ। তবে ৯০ এর দশকে হাতে ভাজা মুড়ির ব্যাপক চাহিদার কারনে গ্রাম গুলোর মূল নাম হারিয়ে মুড়ি পল্লিতে পরিনত হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ মুড়ি ভাজার কাজে যুক্ত হয়ে সংসারের স্বচ্ছলতা এনেছেন। সোনারগাঁয়ে যে মুড়ি ভাজা হয় তার বেশির ভাগই মালা, লোতা, বহুরী, ইরি, বি-২৯, বি-২৮, রতœা ও বোরো ধানের মোটা চাউল দিয়ে। মুড়ি ব্যবসায়ীরা বরিশাল ও সিলেটের স্থানীয় ধানের বাজার থেকে এ ধান সংগ্রহ করে প্রথমে আধা সেদ্ধ করে থাকে। এরপর আবার পুরোপুরি সেদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে তা দিয়ে চাল বানানো হয়। এরপর সে চাল থেকে তৈরি হয় হাতে ভাজা মুড়ি। এখানকার মানুষ দুই ধরনের পদ্ধতিতে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করে। স্বচ্ছলরা নিজেরাই বাজার থেকে ধান কিনে চাল তৈরিসহ মুড়ি ভেজে বাজারজাত করেন। এতে তারা বেশি লাভবান হয়। এরা প্রতি মণ মুড়িতে প্রায় ৪০০/ ৫০০ টাকা আয় করেন। অন্যদিকে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন আড়ৎদারের কাছ থেকে চাল নিয়ে মুড়ি ভাজে। তবে মুড়ি তৈরিতে জ্বালানী কাঠ আনুসঙ্গিক কিছু খরচ বাদে মণ প্রতি তাদের ২৫০/৩০০ টাকা আয় হয়। সাধারণত ২ জন পূর্ণ বয়স্ক মহিলা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই মন চাউলের মুড়ি ভাজতে পারে। তবে এ কাজে নারী শ্রমিকরাই বেশি সময় দেন এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা পাওয়ায় তারাই বেশ সুখী।

দূর্গাপ্রসাদ এলাকার আব্দুল মালেক নামে একজন মুড়ি ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি মুড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সারা বছরই তিনি সোনারগাঁ উপজেলার পানাম নগরী এলাকায় বিভিন্ন মুদি দোকানে হাতে ভাজা মুড়ি সরবরাহ করে থাকেন। তবে প্রতি বছরই রমজান মাসের কয়েকদিন পূর্বেই হাতা ভাজা মুড়ির চাহিদা তিন/চারগুন বেড়ে যায়। বাজারে রাসায়নিক মিশ্রিত কারখানায় উৎপাদন করা মুড়ি রমজান মাসে কেউ খেতে চায়না। হাতে ভাজা মুড়ির বাজার ধর ১০/১৫ টাকা বেশি হলেও রোজাদার ব্যক্তিরা এই মুড়িই বেশি পছন্দ করে। সেজন্য হাতে ভাজা মুড়ির রয়েছে আলাদা কদর। তিনি আরো বলেন, সোনারগাঁয়ে ৮০এর দশকে স্থানীয় তাতুয়াকান্দি, চৌধুরীগাঁও, কাজিরগাঁও, দূর্গাপ্রসাদ, মঙ্গলেরগাঁও, দুধঘাটা, কোরবানপুর, খাসেরগাঁও, পাচানী ও চরগোয়ালদী এলাকার মানুষ মুড়ি ভাজাকে তাদের পেশা হিসাবে নিয়েছিলেন । সে সময় মুড়ি ভাজার সঙ্গে জড়িত ছিল প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার। তখন মুড়ি ভাজা একটি শিল্পে পরিনত হয়েছিল। মুড়ি ভাজার সঙ্গে জড়িত অনেক পরিবার তখন থেকেই অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হয়েছেন। যার ফলে এখানে গরীব মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম।

দূর্গাপ্রসাদ এলাকায় হাতে মুড়ি ভাজার সঙ্গে জড়িত রোকেয়া বেগম (৫৫) জানান, বর্তমানে কারখানায় মুড়ি উৎপাদন হওয়ার কারনে এবং মানুষের জীবন মানের অনেকটা পরিবর্তন ঘটায় এখন হাতে ভাজা মুড়ি তৈরির কাজে কেউ যেতে চায়না। তবে কারখানায় তৈরীর চিকন মুড়ির চেয়ে হাতের ভাজা মুড়ির দাম একটু বেশি। এতে কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় না। যার ফলে এখনো হাতে ভাজা মুড়ির আলাদা কদর রয়েছে সব মানুষের কাছে।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution