দুঃখিত রাইট ক্লিক গ্রহন যোগ্য নয়।

  • রাত ১:১১ মিনিট মঙ্গলবার
  • ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বর্ষাকাল
  • ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
রেকর্ড গড়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের সোনারগাঁয়ে হেলে পড়েছে বহুতল ভবন; ঝূঁকি নিয়েই চলছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল সোনারগাঁয়ে ইয়াবাসহ খোকা আটক সোনারগাঁয়ে পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ খায়রুল ইসলাম সজিবসহ তিন মামলায় ৫৬ নেতাকর্মীর জামিন ফরমালিনমুক্ত আম চেনার সহজ উপায় সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় বই উৎসব লাধুরচর কালী মন্দিরের সভাপতি তাপস কর্মকারকে উপ-সচিবের আর্শীবাদ সোনারগাঁয়ে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় যুবক গ্রেফতার কেক কেটে মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির ৬৯ তম জম্মদিন পালন সোনারগাঁয়ে প্রবাসীর বাড়িতে দূর্ধষ ডাকাতি, ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট সোনারগাঁয়ের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা সরকারী অনুদান পেলেন সোনারগাঁ বিএনপিতে ঐক্যের ডাক দিলেন খন্দকার আবু জাফর প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে খোঁজে পেতে চান তার মা-বাবা জাতীয় পুরষ্কার পেলেন সোনারগাঁয়ের শিশু শিল্পী নওরীন পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া পেলেন নারীসহ আটক সেই কবি রবিন্দ্র গোপ সোনারগাঁ জাদুঘরের সাবেক পরিচালক কবি রবিন্দ্র গোপ নারী সহ আটক ললাটি বাসস্ট্যান্ডে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সোনারগাঁয়ে জামগাছ থেকে পড়ে ফল বিক্রেতার মৃত্যু
অস্থিত্ব সংকটে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ!

অস্থিত্ব সংকটে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ!

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকম:
একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পূর্ববতি ও পরবর্তি সহিংসতায় অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের অংঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। দুটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে সংঘর্ষ, বাড়ীঘর ভাংচুর, লুটপাট, ঝরছে রক্ত, হচ্ছে মামলা। ফলে নিজেদের মধ্যে এতো হানাহানি মারামারিসহ বিভিন্ন কারণে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে  সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ। এছাড়া দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় অনেকটা অভিভাবকহীনও হয়ে পড়েছে দলটি।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বানকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ থেকে অর্ধ ডজন ভাগে ভাগ করে মনোনয়ন চান ৬জন প্রার্থী। এর মধ্যে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত তার চাচা উপজেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শিক্ষা সম্পাদক ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভারসিটির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সেলিনা আক্তার। সেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁ আসন থেকে আওয়ামীলীগের কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে মহাজোটের শরিকদল জাতীয়পার্টির জন্য এ আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামীলীগ। সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ মার্কা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই নির্বাচনে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি অংশ কায়সার হাসনাতের পক্ষে মাঠে কাজ করেন। আরেকটি অংশ মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে কাজ করেন। মুলতঃ সেই নির্বাচন থেকে মুল আওয়ামীলীগ দু’ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মহাজোটের পক্ষে থাকা আওয়ামীলীগের একটি পক্ষ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কায়সার হাসনাতের পক্ষে থাকা সিংহ প্রতিকের কেন্দ্র দখল ও ভাংচুর করে। এতে কোনঠাসা হয়ে পড়েন কায়সার হাসনাতের পক্ষে থাকা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। পরে সরকারের চাপের মূখে নির্বাচন থেকে সরে যান কায়সার হাসনাত। তার সরে যাওয়ার পর অভিভাবক শুন্য হয়ে পড়েন কায়সার হাসনাতকে সমর্থন দেয়া আওয়ামীলীগের একটি অংশ। যদিও সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোন হামলা ও বাড়ীঘর ভাংচুর না হলেও কয়েকটি মামলার আসামী হতে হয় কায়সার হাসনাতের পক্ষে থাকা একটি অংশের।

অপরদিকে, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র আওয়ামীলীগের ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করেন, তারা হলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া ও এসএম জাহাঙ্গীর। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকার মনোনয়ন পান মোশারফ হোসেন। এদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন মাহফুজুর রহমান কালাম। এ নির্বাচনকে ঘিরেও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন জমার দিনে উপজেলা মাঠে সংঘর্ষ হয় মোশারফ হোসেন ও কালামের সমর্থকদের মধ্যে। এরপর নির্বাচন যতই ক্ষনিতে আসতে থাকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্ধ ততই বাড়তে থাকে। নির্বাচনকে ঘরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে পিরোজপুর, বারদী, সাদিপুর, মোগরাপাড়া, সনমান্দি ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে। নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের মধ্যে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাড়ীঘর ভাংচুর ও মামলা। নির্বাচনে পূর্ববতি ও পরবর্তি সময়ে সোনারগাঁ থানায় ৪০টিও বেশী অভিযোগ পড়ে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের বিরুদ্ধে। হয় বেশ কয়েকটি মামলা। মামলা ও হামলার ভয়ে এখনো বাড়ী ছাড়া স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাহফুজুর রহমানের পক্ষে নির্বাচেন নামা আওয়ামীলীগের একটি বিরাট অংশ। নির্বাচন পূর্ববতি ও পরিবতি সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা মামলা হলেও নিরব ভুমিকায় রয়েছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। ফলে দিন যত বাড়ছে অস্থিত্ব সংকটে পড়ছে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকেও এ সমস্যা সমাধানের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের এ সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের একটি বিরাট অংশ রাজনীতি থেকে দুরে সরে যাবে নয়তো অন্য দলে ভর করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভক্তিকে এক করতে প্রদক্ষেপ নিচ্ছি। এছাড়া আগামী ২০ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জেলায় আসবে তারা সবাই ডেকে নিয়ে এক সাথে মিলিয়ে দিবেন।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution