• সকাল ৭:২১ মিনিট বুধবার
  • ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : হেমন্তকাল
  • ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
এই মাত্র পাওয়া খবর :
মরিচ পানীতেই দুই মিনিটে দূর হবে গলা ব্যথা বা খুসখুস! সোনারগাঁয়ে শেষ হলো দুই দিন ব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানবাধিকার দিবস পালন টিসিবির উদ্যোগে ৪৫ টাকা দরে পিয়াজ বিক্রি থানায় জিডি করলেই আসবে ফোন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আটক নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ জয়িতা পুরস্কার পেলেন সমাজকর্মী আলেয়া আক্তার আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন এএইচএম মাসুদ দুলাল! ডিসেম্বর থেকেই ঢাকা-সিকিম বাস চলাচল শুরু লিয়াকত হোসেন খোকাকে মোশারফ হোসেনের শুভেচ্ছা রোকেয়া দিবসে জয়িতাদের সংবর্ধনা দূর্ণীতি রোধে সোনারগাঁয়ে র‌্যালি ও আলোচনা সভা ছেলের মৃত্যুর শোক আর হত্যাকারীদের যন্ত্রনায় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন মা বৈদ্যেরবাজারে ২য় মানবতার দেয়াল উদ্ধোধন সোনারগাঁয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হলেন লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি সোনারগাঁয়ে অজ্ঞাত গাড়ীর ধাক্কায় পিকআপ ভ্যান চালক নিহত সোনারগাঁয়ে পরিবার কল্যান সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদ্ধোধন মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ঘটনায় মামলা, আসামীদের ছবি ভাইরাল
ডাঃ শিউলী সরকারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল ঝনা

ডাঃ শিউলী সরকারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল ঝনা

নিউজ সোনারগাঁ২৪ডটকম: সোনারগাঁয়ে একের পর এক ভুল চিকিৎসায় ২ প্রসূতির মৃত্যুর পর এবার ডাক্তার শিউলী সরকার নামের এক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু থেকে রক্ষা পেলে ঝনা নামের গৃহবধূ। ডাক্তার শিউলী সরকার দালালের মাধ্যমে ওই গৃহিনীকে তার হাসপাতালে আনতে বাধ্য করেন। পরে ভুল চিকিৎসার কারনে ওই রোগী শিউলী সরকারের নির্মানাধীন হাসপাতালের সিড়ির নিচে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায়। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে শিউলী সরকারের হাত থেকে রক্ষা করে ওই রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়।

আজ শনিবার সকালে মোগরাপাড়া হাবিবপুর এলাকায় একটি নির্মানাধীন হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার আয়েশা আমজাদ ক্লিনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আমজাদ ডাক্তারের ছেলে দুলাল মিয়ার স্ত্রী শিউলী সরকার তার ক্লিনিকে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন রোগের রোগী দেখতেন। পরে ভুল চিকিৎসায় কয়েকজন রোগী তার ভুল চিকিৎসায় মারা যাবার পর তিনি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাশ করেন বলে দাবি করেন। সেই শিউলী সরকার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি নতুন হাসপাতাল নির্মানের প্রক্রিয়া শুরু করেন। হাসপাতালটি চালু করার আগেই তিনি দালালের মাধ্যমে মেঘনা নদীর চলাঞ্চল এলাকা থেকে গাইনীসহ বিভিন্ন নিরিহ রোগীকে কম খরচে ভাল চিকিৎসা দিবেন বলে নির্মানাধীন হাসপাতালে এনে বেঞ্চে বসিয়ে পেসক্রিপশন লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে দালালের মাধ্যমে ঝনা নামের এক রোগীকে তার হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় ডাঃ শিউলী সরকার তাকে একটি রুমে নিয়ে যায় সেখানে একটি বেঞ্চে বসিয়ে তার কি সমস্যা শুনেই তার কাছ থেকে টাকা রেখে একটি পেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন। পরে রোগী ঝনা আক্তার সিড়ি দিয়ে নামার সময় জ্ঞান হারিয়ে সিড়ির মধ্যে পড়ে যান। এসময় তার সঙ্গে থাকা মায়ের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে ধরাধরি করে একটি সিড়িতে বসিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকেন এতেও তার জ্ঞান না ফিরলে কিছুক্ষন পর শিউলী সরকার সিড়ির মধ্যে বসিয়েই তাকে চিকিৎসা দিতে থাকেন। পরে পথচারী ও স্থানীয়রা ডাঃ শিউলী সরকার তাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে সিড়িতে বসিয়ে চিকিৎসা দেয়ায় তার উপর চড়াও হয়। পরে স্থাণীয় ও পথচারীরা রোগী ঝনা আক্তারকে অজ্ঞান অবস্থায় গাড়ীতে তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়।

ঝর্না আক্তারের মা জানান, কতদিন ধরে তার মেয়ের মাথায় খুব ব্যাথা সে জন্য তাকে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে প্রবেশ করার সময় একজন মহিলা বলে আপনার মেয়ের কি হয়েছে। আমি বললাম আপনি কে? সে তখন বললো আমি আয়েশা আমজাদ ক্লিনিকের লোক। রোগীর অবস্থা তো খুব খারাপ তাকে এ হাসপাতালে নিয়ে কোন চিকিৎসা পাবেন না। বরং সময় নষ্ট করে মেয়ের বারোটা বাজাবেন। আমারও মেয়ে আছে আমি মেয়ের কষ্ট বুঝি। চলেন আমি আপনার মেয়েকে একটা ভাল হাসপাতালে কম টাকার মধ্যে ভাল চিকিৎসা করিয়ে দেই। এই ভুলভার বুঝিয়ে সে আমাকে ডাঃ শিউলী সরকারের কাছে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শিউলী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এমবিবিএস ডাক্তার আপনাদের কৈইফত দিয়ে ডাক্তারী করতে হবে। আমার স্বামী ও শশুরবাড়ীর লোকজন এ হাসপাতাল করেছে আমি আমাদের হাসপাতালে বসি। এখানে বসে কি চিকিৎসা দিব সেটা কি আপনাদের কাছে বলতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হালিমা সুলতানা জানান, ঝনা নামের যে রোগীটা আমাদের হাসপাতালে এসেছে তাকে আমি দেখেছি সে একেবারে দূর্বল তার পেসার কমে গেছে। সেজন্য সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেছে। যে ডাক্তার তার চিকিৎসা করেছে সে ঝর্নার শারীরিক অবস্থা না দেখেই তারাহুরো করে পেসক্রিপশন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। ভাগ্য ভাল স্থানীয় লোকেরা তাকে সময় মত হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল নয়ত রোগীর ভাগ্য খারাপ হতে পারতো।

এই নিউজটি শেয়ার করুন...

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution