• রাত ১১:৪৩ মিনিট বুধবার
  • ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বসন্তকাল
  • ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ৩০ঘন্টা পর ঝোপ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার মৎস্যজীবী দলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে দোয়া মাহফিল ভাইকে সরিয়ে বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন চুম্মা বাবুল সোনারগাঁয়ে ভূমিদস্যুদের কান্ড: কৃষিবিদকে হত্যার চেষ্টায় থানায় অভিযোগ জিতলো রয়েল চেলেঞ্জার সনমান্দী, স্বস্তিতে চেয়ারম্যান জিন্নাহ সোনারগাঁয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষনের প্রস্তুতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জামপুর ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির প্রার্থী ঘোষনা দিলেন এমপি খোকা সোনারগাঁয়ে হত্যার ৩ মাস পর বিল্লাল হোসেনের মাথা উদ্ধার সোনারগাঁও জাদুঘরের মাসব্যাপী লোকজ মেলা উদ্ধোধন সোনারগাঁয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গ্রেফতার পুলিশের এএসআই’য়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ উপজেলা মৎসজীবী লীগের কমিটি গঠন আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু মাসব্যাপী সোনারগাঁও লোকজ মেলা সোনারগাঁ বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বারদী বুলস ক্লাব বিজয়ী ঢাকার ছাত্রদলের সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জে সোনারগাঁয়ের জনি আহত মোরগের ‘ছুরিকাঘাতে’ মালিকের মৃত্যু নাসিরকে নিয়ে এবার ঢালিউড নায়িকার ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা স্বল্পদৈর্ঘ্য থ্রিলারে স্পর্শিয়া টিকা নিলেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ
সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সঙ্কট, রোগীদের নিম্ন মানের খাবার সরবরাহ

সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সঙ্কট, রোগীদের নিম্ন মানের খাবার সরবরাহ

Logo


আশরাফুল আলম, নিউজ সোনারগাঁ ডটকম : চিকিৎসক সঙ্কটে চলছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। ডাক্তার সঙ্কট ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ না থাকায় মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারন রোগীসহ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতি মা ও শিশুরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজন মত জনবল না থাকা এবং সরকারী নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তার প্রেষনে (ডেপুটিশন) থাকার কারনে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা সাধারন রোগীসহ নারী ও শিশুরা। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসক পদ থাকলেও মাত্র ৪ জন ডাক্তার রোগীদের দেখাশোনা করে থাকেন। এছাড়া বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। দৈনিক ঔষধ সরবরাহের তালিকায় রোগীদের মোট ২৩ প্রকারের ঔষধ দেওয়ার বিধান থাকলেও প্যারাসিটামল, এর্ন্টাসিট, হিস্টাসিন, আয়রন, এমোক্সোসিলিন ও জ্বর ঠান্ডা, আমাশয়, ডায়রিয়ার ঔষধ ছাড়া আর কোন ঔষধই দেওয়া হয় না।

সোনারগাঁ উপজেলা কমপ্লেক্রোর ভেতরে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে থাকা ৭টি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যক্তি মালিকাধীন। সরকারি ভাবে রোগীদের জন্য দুটি এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু থাকলেও নিয়োগ প্রাপ্ত চালক গাড়ী বিকল হওয়াসহ নানান অযুহাত দেখিয়ে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী পাঠান। এতে তিনি প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স মালিকদের কাছ থেকে কমিশন হিসেবে পকেট ভারী করে থাকেন। এছাড়া দৈনিক খাদ্য তালিকায় রোগীদের জন্য উন্নতমানের অনেক প্রকারের খাবার সরবরাহের বিধান থাকলেও প্রতিদিন ভর্তি হওয়া রোগীদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র দু’চারটি পুরাতন তালিকায় সীমবদ্ধ খুবই নিন্মামানের খাবার।

শনিবার সকাল ১০ টায় সরেজমিন সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল টিকিট কাউন্টারের সামনে অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ ডাক্তার, নার্স ও স্টাফরা ছিলেন অনুপস্থিত। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে থাকেন ডাক্তার, নার্স ও স্টাফরা। তবে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমান রোগীর চেয়ে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বেশী লক্ষ্য করা যায়। পরে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে ভূক্তভোগী রোগী ও সাধারন মানুষের সঙ্গে আলাপ কালে অভিযোগ ও ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন তারা।

উপজেলার আনন্দবাজার এলাকার সাদিয়া আক্তার বলেন, আমার সন্তান শিশু ইমরান (১০মাস) কে নিয়ে এক ঘন্টা যাবৎ বসে আছি। কোন ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছেনা। চরাঞ্চল নুনেরটেক এলাকা থেকে আসা জমিলা বেগম নামে একজন মা বলেন, আমার শিশুকন্যা অনিকা বয়স (৯মাস) তাকে নিয়ে এসে প্রায় আধঘন্টা হবে বসে আছি চিকিৎসার জন্য ডাক্তার পাচ্ছিনা। তাদের অভিযোগ ডাক্তাররা নিয়মিত না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ কুমার সাহা তিনি নিজেও ঠিকমত কার্যালয়ে থাকেনা অফিস চলাকালীন বেশির ভাগ সময় মিটিং করার অযুহাতে বাহিরে থাকেন। ওয়ার্ড বয়দের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা, টিকেট বিক্রিসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো। আরো অভিযোগ রয়েছে ডাঃ পলাশ কুমার সাহার অনুপস্থিতে জুনিয়র কনসালন্টেন্ড রোগীদের যথার্থ চিকিৎসা সেবা প্রদান না করে দালালদের ধরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে। এসব ডাক্তারদের প্রধান টার্গেট থাকে গর্ভবর্তী মহিলাদের ওপর। চুক্তি ভিত্তিক তাদের গর্ভপাত ঘটানো এবং ক্লিনিকে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশনের ব্যবস্থা করা। দুপুর বারটার পর কোন ডাক্তারকেই পাওয়া যায়না। বেশির ভাগ ডাক্তার ঠিকমত অফিসে আসেনা। এছাড়া কিছু ডাক্তারের রয়েছে নিজস্ব ক্লিনিক ব্যবসা, এক শ্রেণীর দালাল চক্র কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা করার জন্য পাঠিয়েদেন নিজেদের ক্লিনিকে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোগীদের খাদ্য তালিকায় সপ্তাহব্যাপী অনেক প্রকারের উন্নত খাদ্য সরবরাহের তালিকা থাকলেও ডিম, পাউরুটি, কলা, বয়লার মুরগী ও মোটা চাউলের ভাতসহ মাত্র কয়েকটি খুবই নি¤œমানের খাবার পরিবেশন করে হাসপাতালে খাবার সরবরাহকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অভিযোগ প্রতিদিন পচা দূর্গন্ধযুক্ত মোটা চাউলের ভাত দেওয়া হয় এগুলো খাওয়া যায়না। বাধ্য হয়েই বাহির থেকে অন্য খাবার কিনে খেতে হয়। হাসপাতালের রান্না ঘরে গিয়ে দেখা যায় ২০১৬/১৭ সালের পুরাতন খাবার তালিকা অনুযায়ী এখনও রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্য তালিকা তদারকির করার যেন কেউ নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫টি চিকিৎসক পদ শূণ্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই জন্য চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকদিন হল আমি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছি। যেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সেই বিষয় গুলো নিয়ে তদারকি শুরু করেছি। জানতে চাইলে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও অবহেলার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহাম্মেদ জানান, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পদ শূণ্য থাকার বিষয়টি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবর জানানো হয়েছে। ডাক্তারদের অনিয়ম, দূর্ণীতি ও অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution