• রাত ১২:০১ মিনিট রবিবার
  • ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : বর্ষাকাল
  • ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
হোসেনপুর গরুর হাটে কিশোর গ্যাং এর হামলা, নগদ টাকা মোবাইল ও গরু ছিনতাই, আহত ৫ হোসেনপুর গরুর হাটে কিশোর গ্যাং এর হামলা, নগদ টাকা মোবাইল ও গরু ছিনতাই, আহত ৫ নাছির মেম্বারের পথে ছেলে রাসেল, তাকে রুখবে সাধ্যকার সোনারগাঁয়ের চাঞ্চল্যকর রাব্বি হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেফতার মেঘনা টোল প্লাজায় তিশা বাসে আগুন বন্দরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ২ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ,  সোনারগাঁয়ে ৩ মিষ্টির দোকানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা সোনারগাঁয়ে নদী থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে মাদকের টাকা লেনদেনের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা সোনারগাঁয়ে আ.লীগ নেতার প্রতারণার নতুন ফাঁদ অনিয়ম ও দূর্নীতি যেন সমাজ ব্যবস্থায় স্বাভাবিক ঘটনা. জিএম কাদের কাল থেকে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৪ তম তিরোধান উৎসব শুরু সোনারগাঁয়ে ডিম ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনীকে কেন্দ্র করে ঘোড়া প্রতিকের সমর্থকের পুকুরে বিষ প্রয়োগ সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনীকে কেন্দ্র করে ঘোড়া প্রতিকের সমর্থকের পুকুরে বিষ প্রয়োগ সোনারগাঁয়ে অ্যাম্বুলেন্স দূর্ঘটনার নিহত -১ উপজেলা নির্বাচনে ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচন করায় গাছ কর্তন নব নির্বাচিতত উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে এতিমদের দোয়া সোনারগাঁয়ে ট্রান্সফরমার চুরির সময় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ আটক-৪
১৮০০ নমুনা সংগ্রহ করেছেন টেকনোলজিষ্ট মনোয়ারা

১৮০০ নমুনা সংগ্রহ করেছেন টেকনোলজিষ্ট মনোয়ারা

Logo


নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ৩৫ বছর বয়সী সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের ল্যাব টেকনোলজিস্ট মনোয়ারা বেগম। যিনি করোনা উপসর্গের রোগীদের কাছে এক ভরসার নাম। ইতিমধ্যে তিনি ১৮শ বার করোনার নমুনা সংগ্রহ করে দিয়েছেন সাহসিকতার পরিচয়। একজন নারী হয়ে এমন মহামারীতে নিরলসভাবে ঝুঁকিপূর্ন কাজে জড়িত থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি প্রশংসায় সিক্ত হচ্ছেন পুরো উপজেলাবাসীর। টেকনোলজিস্ট মনোয়ারা বেগম তার দুই সহকারী রায়হান ও হাসানকে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তার সেবাদান।

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কাজ শুরু হয় গত ৫ এপ্রিল। কাঁচপুর ইউনিয়নে এক বৃদ্ধ সর্দি কাশি নিয়ে মৃত্যুবরণ করার পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই থেকে শুরু এখন পর্যন্ত ১৮০০ বার রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তিনি। করোনা ভাইরাস সংক্রমন সন্দেহে আসা রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলায় হাসপাতালে যখন করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়, তখন দায়িত্ব দেয়া হয় এমটি ইপিআই, এমটি ল্যাবসহ আরো ২জনকে। লোকবলের অভাবে অবশেষে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পড়ে এমটি মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মনোয়ারার উপর। সাথে তাকে সহযোগিতার জন্য দেয়া হয় সহকারী রায়হান ও হাসানকে।

প্রথমে কিছুটা শঙ্কিত হলেও মনের ভেতর সাহস সঞ্চার করে মুহূর্তের মধ্যেই নমুনা সংগ্রহের কাজে রাজি হয়ে যান তিনি। এরপর ৫ মার্চ প্রথম একজন মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ দিয়ে শুরু হয় তার এগিয়ে চলা। গেলো আড়াই মাসে বিভিন্ন রোগীর কাছ থেকে ১৮০০ বার নমুনা সংগ্রহ করেছেন তিনি। সবশেষ ২০ জুন ২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এসব নমুনা পরীক্ষা করে ৩৬২ কয়েকজন রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষই নন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার সাথে কর্মরত হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফও তারপরও দমে যাননি মনোয়ারা।

তিনি নিউজ সোনারগাঁকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রথম থেকেই লোকবল সংকট ছিলো সেজন্য আমি নিজেই একা মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের কাজটি করে আসছি। যখন দেশে করোনা ভাইরাস শুরু হলো তখন আমার টিএইচও স্যার আমাকে ডেকে বললেন সোনারগাঁয়ের করোনা আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরএ পাঠানোর জন্য। আমি রাজি হওয়ার পর স্যাম্পল কালেকশন কিট-পিপিইসহ সব সরঞ্জাম আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো তখন একাই হাসপাতালে সহকারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আমার স্বামী মোঃ হাবিলউদ্দিনের সাথে কথা বলে মা-বাবা ও শুভাকাঙ্খিদের দোয়ায় কাজ শুরু করি। আমার মা-বাবা বললেন, যারা অসুস্থ হচ্ছে তারাও তো আমার মতো কোনো না কোন মায়ের সন্তান। আমি সেরকম ভাগ্য নিয়ে আসিনি যে আমার মেয়ের কিছু হবে। তুমি ফিরে আসবেই। আর আমিও পরম করুণাময়ের ওপর আত্মবিশ্বাস রেখে কাজে নেমে পড়লাম।’

মনোয়ারা বলেন, ‘প্রথম কয়েকদিন নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক ভয় পেয়েছি। কারণ টিভিতে দেখেছি পৃথিবীর অনেক দেশে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকে মারা গেছেন। সেগুলো দেখে আমার মনেও ভয় তৈরী হয়েছিল। এছাড়া আমার ঘরে ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। তাকে রেখে কিভাবে নমুনা সংগ্রহ করবো। আবার আমি যদি করোনায় আক্রান্ত হই তাহলে তাকে কে দেখবে। এসব চিন্তা করে রাতে ঘুমাতে পারিনি। কিন্তু যখন চিন্তা করলাম যুদ্ধের ময়দানে নেমে মৃত্যুকে ভয় পেলে চলবে না ভয়কে জয় কওে যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি ভয় পাই তাহলে মানুষের চিকিৎসা করবে কে। আমার উপর যে দায়িত্ব দিয়েছে সে দায়িত্ব যেন সঠিক ভাবে পালন করতে পারি সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি। এছাড়া এ কাজে আমার টিএইচও স্যার ও স্বামীও আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। আল্লাহর উপর ভরসা ও তাদের দেয়া সাহস নিয়েই নমুনা সংগ্রহের কাজে নেমে পড়ি। নমুনা সংগ্রহের কাজে সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষ আমাকে সহায়তার জন্য সহকারী মোঃ রায়হান ও মোঃ হাসানকে সাথে দেন। যারা আমার কাজে প্রতিদিনই সহায়তা করে আসছেন। তাদের দু’জন পালা করে আমাকে সহায়তা করতেন। কাজটি যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সেজন্য নিজের দিকে খেয়াল রেখেছি। সব সময় করোনা মুক্ত থাকতে যা যা করনীয় তা পালন করেছি। নমুনা সংগ্রহ শেষে সেগুলো খুব যত্ম সহকারে হাসপাতালের এ্যামুলেন্স চালক সামসু মিয়ার হাতে পৌছে দিয়েছি। যিনি গত আড়াইমাস ধরে নমুনাগুলো পরীক্ষাগারে পৌছে দিচ্ছেন। কাজ করতে গিয়ে শরীরে অবসাদ নেমে এলেও মনোবল অুঁট রেখে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বের দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশেও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মানুষ একটু অন্যভাবে দেখে। এর সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত বলে আমাকেও অনেক কিছু ফেস করতে হয়। তবে আমি হাসপাতালের কোয়ারটেকার ছিলাম বলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে সুবিধা হয়েছে। বাসায় স্বামী আর আমার ছোট বাবু ছাড়া কেউ ছিলনা। এছাড়া অন্যের নিরাপত্তার জন্য এ ক’মাস আমি তেমন হাসপাতালের বাহিরে যাইনি। তবে আমার ছোট শিশু ও স্বামীর কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার প্রাণপন চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, প্রথমে হাসপাতালের বাহিরে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতাম। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন হাসপাতালেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। হাসপাতালে প্রতিদিনই নমুনা সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। একদিনে সর্বোচ্চ ৭০জনেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন শুনেই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাৎক্ষনিক নমুনা সংগ্রহ করেছি। কারো করোনা শনাক্ত হয়েছে, কারো হয়নি। তবে প্রার্থনা করি খুব তাড়াতাড়ি এ অবস্থার নিরসন হোক, যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারি, আগের মতো আবার যোগাযোগ রাখতে পারি। আর ইচ্ছে আছে যতদিন সুস্থ থাকবো ততদিন নমুনা সংগ্রহের এ কাজ চালিয়ে যাবো। নিজের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করিনি, কারণ এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ দেখছি না। যদি অসুস্থ হয়েই যাই, তাহলে সুস্থ হয়ে আবার এসে কাজটি চালিয়ে যাবো।’

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার পলাশ কুমার সাহা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে মনোয়ারাকে দেখেছি নিষ্ঠা ও মনোযোগের সঙ্গে কাজ করতে। তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই তার সাহসিকতার জন্য, তার কাজের জন্য।’


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution