• সকাল ৯:৪৯ মিনিট সোমবার
  • ১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : শীতকাল
  • ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
বিশ্বকাপেও খেলতে পারবে না আর্জেন্টিনা শম্ভুপুরায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ২২ জনের নামে মামলা অজ্ঞাত ৫০ সনমান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলন সোনারগাঁয়ে নুনেরটেকে অসহায় মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ সোনারগাঁয়ে বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিলের দাবিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এর মানববন্ধন শম্ভুপুরা কর্মী সম্মেলনে আওয়ামীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষ আহত ১৫ সোনারগাঁয়ে এনজিও কর্মকর্তাদের কুপিয়ে টাকা ছিনতাই সোনারগাঁয়ে ২ দিন ধরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পৌর আওয়ামীলীগ গঠন হবে. পৌরসভা সম্মেলনে নেতারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃতি করে ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য \ মুক্তিযোদ্ধাদের নিন্দা সোনারগাঁয়ে দারুণ নাজাত মাদ্রাসায় হাফেজদের পাগড়ী প্রদান ও মেধাবী গরিব ছাত্রদের কুরআন মাজিদ বিতরন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কর্মী সম্মেলন তৃনমুল থেকে আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে বর্তমান কমিটি. কায়সার হাসনাত সাবেক রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জম্মবার্ষিকীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরন দেশের উন্নয়নই বিএনপির অন্তরজ্বালা সোনারগাঁয়ে ওবায়দুল কাদের হজের খরচ কমলো ৩০ শতাংশ কত বার যৌন মিলনে সুখের হয় দাম্পত্য আগামী কাল থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী লোকজ উৎসব সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের ৮দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার আনন্দবাজার হাটের বালু ভরাটের কাজ পরিদর্শন এমপি খোকার
হুমকির ‘মুখে সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী..

হুমকির ‘মুখে সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী..

Logo


নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: এমন এক সময় আসবে যখন এই শাড়ির অনেক দাম থাকবে কিন্তু শাড়ি তৈরি করার কোনো লোক থাকবে না। তখন হয়তো জামদানি শাড়ি তৈরির যন্ত্রপাতিগুলো জাদুঘরে পড়ে থাকবে। কেউ এখন এটাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় না। আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন সোনারগাঁয়ের আফজাল জামদানি হাউজের মালিক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। আমরা যারা এই শাড়ি তৈরি করি কেউই সঠিক মজুরি পাই না। তবে আমাদের কাছ থেকে কিনে যারা বিক্রি করছেন তারা ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। ৫০০ টাকার একটি শাড়ি তৈরি করতে আমাদের এক সপ্তাহ লেগে যায়। এই দামের শাড়ি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪টা তৈরি করা সম্ভব হয় আমাদের। আর যদি ২০ হাজার টাকার শাড়ি তৈরি করতে গেলে ৩ সপ্তাহ চলে যায়। বর্তমানে এই কাজ করে সঠিক মজুরি না পাওয়ায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে ছোটবেলা থেকে আমি এই কাজ করে আসছি। বর্তমানে যারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছেন। তাদের অন্য কোনো কাজের অভিজ্ঞতা তেমন নেই। এই শিল্পের খারাপ সময় যাওয়া সত্ত্বেও অনেকেই আবার মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই পেশা ছাড়তে পারছিনা

জামদানি হাউজে সরেজমিনে গিয়ে সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকালে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন তাঁতীদের এমন দুর্দশার কথা জানা যায়। জামদানি শাড়ি একসময় গর্বের বস্তু ছিল। এই শাড়ি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হয়। সোনারগাঁয়ের জামদানিই সবার কাছে শ্রেষ্ঠ বলে সমাদৃত হয়। তাতিদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় শাড়িতে ফুঁটে উঠে বাংলার প্রাকৃতিক ফুল, লতা-পাতা, বিভিন্ন প্রাণীর দৃশ্যসহ বাহারি নকশা। জামদানি শাড়ির প্রতি সবসময় নারীদের প্রবল আগ্রহ থাকে। বাংলার এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন এই জামদানি শিল্প। ইউনেস্কো ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে এই শিল্পের কারিগররা নানা কারণে ভালো নেই। একদিকে কাজের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়া অন্যদিকে নতুন করে এই পেশায় জড়িত না হওয়ায় দিন দিন এখানে জামদানি হাউজের সংখ্যা কমছে। ফলে সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প হারাতে বসেছে।

কথা হয় বাবুল প্রধান জামদানি হাউজের কারিগর ইব্রাহীমের সঙ্গে। তিনি জানান, ২৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন তিনি। তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন তার মামা, খালারা এই কাজ করতেন। তাদের দেখে তার এই কাজে উদ্বুদ্ধ হওয়া। বর্তমানে এখানে ১৪ জন কারিগর রয়েছেন যারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। পূর্বে তাদের যে পারিশ্রমিক দেওয়া হতো তা দিয়ে তখন তাদের সংসার চললেও এখন তা দিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেশিরভাগ কারিগররা আগের প্রজন্ম থেকে এই কাজ শিখলেও এখনকার প্রজন্মের কেউই এই কাজ শিখতে আগ্রহী নয় জানান তিনি।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন শুভ জানান, ৩-৪ বছর পূর্বেও জামদানি শিল্পের অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। তখন জামদানি শাড়ির চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো ছিল। কিন্তু করোনা। ভাইরাসের সময় জামদানি শিল্পের খারাপ অবস্থা হয়। ওই সময়টায় তারা কোনো শাড়ি বিক্রি করতে না পারায় বেশিরভাগ কারিগররা এই পেশা থেকে সরে গিয়ে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়ে যায়। আবার সুতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় শাড়ির দাম বেড়েছে। এর ফলে শাড়ির চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। এই তুলনায় কারিগরদের মজুরি তুলনামূলক বাড়েনি। এছাড়া এই কাজটা করতে অনেক ধৈর্য ও দক্ষ হতে হয়। যা সবার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। অন্যসব পেশায় সর্বোচ্চ ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয় কিন্তু এই পেশায় কারিগরদের ১৪-১৫ ঘণ্টা একটানা কাজ করে যেতে হয়।

তিনি আরো বলেন, আগে আমাদের এলাকার ঘরে ঘরে এই জামদানি শাড়ির কাজ চলতো। তখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে আনন্দসহকারে এই কাজটি করতে থাকতো। কিন্তু এটি হারাতে বসেছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে ধরে রাখতে হলে সরকারের কিছু উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কৃষির জন্য সরকার লোন দিলেও জামদানি শিল্পের জন্য এখনো কোনো লোনের সিস্টেম চালু করেনি। এটি করলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা ভবিষ্যতের জন্য আরো ভালো কিছু করতে পারবে।

সোনারগাঁয়ের সাহিত্যিক, লেখক ছড়াকার সেলিম মিয়া জানান, সোনারগাঁ একসময় জামদানি শাড়ির জন্য বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে বিদেশী বিভিন্ন পোশাক এদেশে সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় জামদানি শাড়ির চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। সরকার থেকে উচিত এই পেশায় যারা জড়িত তারা যেনো স্বল্পমূল্যে লোন এবং সঠিক মজুরি পায় সে ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই কাজটা অন্যসব কাজের তুলনায় নিখুঁত এবং কষ্টসাধ্য। তাই নতুন কেউ এই পেশায় আসতে চায় না। বর্তমানে যেসব তাঁতি আছে তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছে। তাদের দেখাদেখি বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা এই পেশায় উদ্বুদ্ধ হয় না।

ফাউন্ডেশনের সিনিয়র গাইড লেকচারার একেএম মুজাম্মিল হক মাসুদ জানান, জামদানি শিল্পের মূল সংকট হচ্ছে কারিগর সংকট। এই পেশায় সারাদিন কাজ করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পাওয়া যায় আর অন্য পেশায় কাজ করলে আরো বেশি টাকা পাওয়া যায়। জামদানি শিল্প বিলুপ্ত হতে থাকার এটিই অন্যতম প্রধান কারণ। মহাজনরা এই ব্যবসা করে ঠিকই লাভবান হচ্ছেন কিন্তু কারিগররা ন্যায্যমূল্যটা পাচ্ছে না। এই শিল্পটা ধরে রাখার জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই পেশায় উৎসাহিত করার জন্য আমরা সোনারগাঁয়ে একটি বিপণন কেন্দ্র চালু করেছি। এছাড়া এখানে একটি কারুপল্লী রয়েছে যেখানে সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জামদানি শিল্পটা টিকে রয়েছে। আমরা এই শিল্পটা ধরে রাখার চেষ্টা করছি


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution