নিউজ সোনারগাঁও টুয়েন্টিফোর ডটকম: ইজারা ছাড়াই সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৩ বালু শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাদের আটকের পর সন্ধ্যায় সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ৭দিন করে কারাদন্ড দেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আল মামুন জানান, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন যাবত একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইজারা ছাড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৩জন বালু শ্রমিককে আটক করে পরে তাদের প্রত্যেককে ৭দিন করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। তবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ আনন্দবাজার এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী আমির হোসেন, আল আমিন, রুহুল আমিন, সানাউল্লাহ ও কবির হোসেন একটি সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন যাবত এ অবৈধ বালু উত্তোলন করছে। বর্তমান সরকার সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে বালু মহাল ইজারা দেয়া বন্ধ রাখলেও ওই সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ১৫-২০টি শক্তিলাশী ড্রেজার বসিয়ে দিন রাত অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীতে সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আল মামুন এর নেতৃত্বে চালানো অভিযানে এর মূল হোতারা কেউ ধরা না পারলেও ঘটনাস্থল থেকে ১৩জন নিরিহ বালু শ্রমিকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাদের প্রত্যেককে ৭দিনের জেল দেয়া হয়।
কারাদন্ড প্রাপ্ত বালু শ্রমিকরা হলেন লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার সবুজগ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে রাকিব, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ফারুক হোসেনের ছেলে রাকিবুল ইসলাম, রূপগঞ্জের সামসুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, ঝাউচর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ, পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে সালাউদ্দিন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার খলির মোল্লার ছেলে সুলতান মোল্লা, একই এলাকার মৃত বাশি শেখের ছেলে রূবায়েত হোসেন, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার আমির হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়া, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার দুর্গাপুর গ্রামের মজিদ শরীফের ছেলে মনিরুল ইসলাম, নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার শরিফুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম, বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার নাজির আহাম্মেদেও ছেলে জসিম উদ্দিন, একই এলাকার হারুন চৌকিদারের ছেলে ফিরোজ মিয়া, ও নড়াইল ঝেলার লোহাগড়া থানার বালিনগর গ্রামের ইয়াকুব মোল্লার ছেলে ইউসুফ মোল্লা।
বালু শ্রমিকরা জানান, তারা বাল্কহেডের মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে বালু নেয়ার জন্য এখানে এসেছিলেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না।