• সন্ধ্যা ৬:২৪ মিনিট বুধবার
  • ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ঋতু : গ্রীষ্মকাল
  • ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
এই মাত্র পাওয়া খবর :
শম্ভুপুরার চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরার জাল ভোট ঠেকাতে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রশাসন ‘যারা আনারসে ভোট দিতে চান, কেন্দ্রে আইসেন, না দিতে চাইলে ঘরে থাইকেন’ বাবুল ওমরের হুমকি-ধামকিতে ভোটের মাঠে প্রভাব পড়েছে আনারস প্রতিকের সোনারগাঁয়ে চোরাই মোবাইলসহ সাতজন গ্রেফতার  আজ থেকে কালাম আমার পরিবারের একজন সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা বিরুর বংশ উচ্ছেদের হুমকির ঘটনায় বাবুল ওমরকে শোকজ ঘোড়াকে জয়ী করতে নির্বাচনী মাঠে কাঁচপুরের খাঁন পরিবার ঘোড়ার পক্ষে যু্বলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনের উঠান বৈঠক উপজেলা আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারক সোহাগ রনি? সোনারগাঁয়ে গত ৯ দিন ধরে দুই সহোদর নিখোঁজ সোনারগাঁয়ে দুই কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ, ১কারবারি গ্রেপ্তার আমান খাঁনের উদ্যোগে কাঁচপুরে কালামের নির্বাচনী প্রচারনা সভা আড়াইহাজারে নির্বাচনী আচারন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হুইপ বাবুর বিরুদ্ধে আড়াইহাজারে নির্বাচনী আচারন বিধি লঙ্ঘন হুইপ বাবুর বিরুদ্ধে বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান মাকসুদ চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ পল­ী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন সোনারগাঁয়ে তিনদিন ব্যাপী ফায়ার সার্ভিসেরর স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষন সোনারগাঁয়ে আস্থা ফিডে সেনা প্রধান সোনারগাঁয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ সোনারগাঁও পৌরসভায় কালামের কেন্দ্র কমিটির সভা
ব্যক্তিতে বিভক্ত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ

ব্যক্তিতে বিভক্ত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ

Logo


নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগের দিন যত যাচ্ছে ততই কারনে-অকারনে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সোনারগাঁ উপজেলার আওয়ামীলীগ। এক সময় ক্ষমতা ভিত্তিক, গ্রুপ ভিত্তিক, পরিবার ভিত্তিক ও নেতা সমর্থক ভিত্তিক আওয়ামীলীগ ভাগ হলেও বর্তমানে ব্যক্তি ভিত্তিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। যে যার ইচ্ছেমত নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামীলীগার দাবি করে দলে বিভক্ত তৈরী করছেন। যা সর্বশেষ দেখা গেছে গত ১৫ই আগস্টে। এবারের ১৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগ দুটি ভাগে ভাগ হয়ে শোক দিবস পালনের কথা থাকলেও দিনের শুরুতে বিভিন্ন কারণে বিভক্তি দেখা দেয় নেতাদের মধ্যে। তারা ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সমর্থিত নেতাদের নিয়েই পালন করেন ১৫ই আগস্ট ও জাতীয় শোক দিবস।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, এবার বর্তমান ক্ষমতাশীল দল আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগে ২টি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি ভাগে ছিল তৎকালীন এমপি কায়সার হাসনাত ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের ভাগ অপরটি ছিল তার চাচা মোশারফ হোসেনের ভাগ। এরপর কায়সার হাসনাতের ক্ষমতার শেষের দিকে মাহফুজুর রহমান কালামের সাথে মনের টানা পোড়ায় দু’জন বিভক্ত হয়ে যান। তখন কায়সার মিলেন তার চাচা মোশারফ হোসেনের সাথে। আর কালাম মিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়ার সাথে। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কায়সার হাসনাত মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর সোনারগাঁয়ের এমপি হন জাতীয়পার্টির নেতা লিয়াকত হোসেন খোকা। এরপর কায়সার কালাম যে যার মতো রাজনীতি করলেও হঠাৎ করে কালাম মিশে যান লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে। কিছুদিন তাদের ঐক্য হওয়ার পর ফের ভাঙ্গন ধরে তাদের ঐক্যে। তাদের ঐক্য ভাঙ্গনের পর সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত মিলেন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে। এভাবে কতদিন চলার পর তারা দুজনও পৃথক হয়ে যান।

এদিকে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন ক্ষনিয়ে আসার সাথে সাথে হঠাৎ করে বেড়ে যায় আওয়ামীলীগের নেতা ও মনোনয়ন প্রার্থীদের সংখ্যা। সে নির্বাচনে উপজেলা থেকে মনোনয়ন প্রার্থীর সংখ্যা দাড়ায় ৯জন। সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সবাইকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে ফের মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় লিয়াকত হোসেন খোকাকে।তিনি বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলামকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচনে টানা ২য় বারের মতো এমপি মনোনীত হন।

সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয় নেতাদের নেতা বদলের পালা। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রতিক নৌকা চান মাহফুজুর রহমান কালাম ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতিক দেয়া হয় মোশারফ হোসেনকে ফলে দলের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে মাহফুজুর রহমান কালাম। তখন মাহফুজুর রহমানকে সমর্থন দিয়ে ছিলেন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ও উপজেলা জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সদস্যরা এবং আওয়ামীলীগে একাংশ। আর মোশারফ হোসেনকে সমর্থন দিয়েছিলেন কায়সার হাসনাত, সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ রশিদ ও ডাক্তার বিরুসহ আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। সেই নির্বাচনে মাহফুজুর রহমান কালামের সাথে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থন থাকলেও মুখ ফিরিয়ে নেন জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামের সদেস্যরা। ফলে নির্বাচনে পরাজিত হন মাহফুজুর রহমান কালাম। সেই নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালা বদলের পর শুরু হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে টানাপোড়া। সেই টানাপোড়ায় নারায়ণগঞ্জের জেলা আওয়ামীলীগের একাংশ এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়াকে আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুমকে যুগ্ন আহবায়ক করে গত বছরের ১৫ জুলাই একটি উপজেলা আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়। সেই কমিটি ঘোষনার পর থেকে শুরু হয় উপজেলা আওয়ামী রাজনীতির নতুন মেরুকরন। তখন কমিটি থেকে বাদ পড়া সাবেক এমপি কায়সার, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, মাহফুজুর রহমান কালাম ও এএইচএম মাসুদ দুলাল আহবায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষনা করে তাদের প্রতিহত করতে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরিন দ্বন্ধ ভুলে ঐক্যের ডাক দেন। আহবায়ক কমিটিকে প্রতিহত করতে উপজেলা পার্টি অফিসের সামনে বিশাল জনসভা করে আহবায়ক কমিটির হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া ঘোষনা দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্মেলন করার ঘোষনা দেন। তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে আহবায়ক কমিটি কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যায়। কিন্তু ঐক্যের কিছুদিন পর কায়সার হাসনাত কয়েকটি মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকায় টানাপোড়া শুরু হয়ে যায় নিজেদের মধ্যে। ঐকে ধরে ভাঙ্গণ। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান উপজেলা আহবায়ক কমিটিকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে।

এদিকে, গত ১৫ই আগস্টকে কেন্দ্র হঠাৎ করে ফের আলোচনায় বসেন ঐক্যের আওয়ামীলীগ নেতারা। সেই আলোচনা সভায়ও আহবায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষনা করে আগের মতো কাজ করে যাওয়ার জন্য সবাইকে আহবান জানান ঐক্যের নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আগামী ১৫ই আগস্ট তারা এক সঙ্গে পালন করবেন এবং এক সাথে তাদের ছবি টানিয়ে ফেস্টুন ব্যানার করা হবে। কিন্তু ১৫ আগষ্টের দিন সকাল বেলা দেখা গেল এক্যের নেতা সাবেক এমপি আবদুল্লাহ কায়সার হাসনাত, মাহফুজুর রহমান কালাম ও সাবেক এমপি মরহুম মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দীপ যে যার মতো নেতাকর্মী নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা গণভোজে অংশ গ্রহন করেন। তবে মোশারফ হোসেন কারো সাথে বের না হলেও তাকে এরফান হোসেন দীপের সাথে একটা দোয়া মাহফিলে দেখা যায়।

অপরদিকে, গত ১১ আগষ্ট উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্যরা নারায়ণগঞ্জে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ১৫ই আগস্টের প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেন। যেখানে আহবায়ক কমিটির অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন না তেমন কোন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও। সেই প্রস্তুতিমুলক সভায় ১৫ আগষ্টের সকল অনুষ্ঠান একসাথে পালনের ঘোষনা দেন আহবায়ক কমিটি। কিন্তু ডাক্তার আবু জাফর চৌধুরী বিরু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারকে নিয়ে পৃথক ভাবে বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতিমুলক সভা করেন। এতে আহবায়ক কমিটির নেতা, জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ১৫ আগষ্টের আগের দিন পৌরসভায় আহবায়ক কমিটির কয়েকজন নেতা গরু বিতরন করলেও সেখানেও উপস্থিত ছিলেন না কমিটির অনেক নেতা। সেই গরু বিতরণ অনুষ্ঠানে আহবায়ক কমিটির যারা একত্রে ছিলেন তাদের মধ্যেও ছিলনা কোন আলাপচারিতা। সবাই যার যার নেতাকর্মী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে ১৫ আগষ্ট সকালে নামে মাত্র একসাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আহবায়ক কমিটির নেতারা যে যার যার নেতাকর্মী নিয়ে চলে যান গনভোজ ও দোয়া মাহফিলে।

এছাড়া অন্যান্য বছরগুলোতে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কোন না কোন নেতার সমর্থনে ১৫ই আগস্ট পালন করে থাকেন। কিন্তু এবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা যে যার মতো ব্যক্তি পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোক দিবস পালন করেছেন।

তৃনমুল নেতাকর্মীরা মনে করছেন এবারের ১৫ আগষ্ট পালন অন্যান্য বারের মতো ক্ষমতা ভিত্তিক নয়, গ্রুপ ভিত্তিক, পরিবার ভিত্তিক নয় ও সমষ্টিগত ভাবে নয় এবারের শোক দিবস পালন হয়েছে ব্যক্তি ভিত্তিক। যা ইতি পূর্বে কখনো সোনারগাঁয়ে দেখা যায়নি।এমন ভাবে চলতে থাকলে দিনে দিনে বাড়বে নেতা কিন্তু তৃনমুল নেতারা বিভ্রান্ত হয়ে রাজনৈতিক উৎসাহ হারাবে। দেখা দিবে কর্মী শুন্যতা।


Logo

Website Design & Developed By MD Fahim Haque - Web Solution