Tag: নির্বাচন ঘিরে রেজাউল করিম–গিয়াসউদ্দিন সম্পর্কে চূড়ান্ত ফাটল

  • নির্বাচন ঘিরে রেজাউল করিম–গিয়াসউদ্দিন সম্পর্কে চূড়ান্ত ফাটল, প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ

    নির্বাচন ঘিরে রেজাউল করিম–গিয়াসউদ্দিন সম্পর্কে চূড়ান্ত ফাটল, প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ

    নিউজ সোনারগাঁ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের মধ্যকার সম্পর্কের চূড়ান্ত ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে গিয়াসউদ্দিনের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ও পরে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার যে আশ্বাস ছিল, তা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
    জানা গেছে, আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, অধ্যাপক রেজাউল করিমসহ আরও ছয়জন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
    মনোনয়ন ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, অধ্যাপক রেজাউল করিম, গিয়াসউদ্দিন, ওয়াহিত ইমতিয়াজ বকুল, ওলিউর রহমান আপেল ও মুজাহিদ মল্লিক কেন্দ্রের কাছে আজহারুল ইসলাম মান্নানের শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলে ধরে এই আসনে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে দলীয় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে পূর্বের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়।
    কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সাতজন ঐকমত্যে পৌঁছান। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন রেজাউল করিম জমা দেবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় থাকায় গিয়াসউদ্দিন প্রথমে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে রেজাউল করিমও মনোনয়নপত্র জমা দেন।
    মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে রেজাউল করিমের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি বৈধতা ফিরে পান। মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
    তবে মনোনয়নপত্র জমার সময় যারা তার সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাদের একটি অংশ আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েন রেজাউল করিম। এ প্রেক্ষাপটে গিয়াসউদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে পুনরায় ঘোষণা দেন যে, তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন।
    এ সময় গিয়াসউদ্দিন বলেন, রেজাউল করিম ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। সাতটি কথা বললে ছয়টিই ভুল বলেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার আচরণও ভালো নয়। এ কারণে তার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়েছে। নেতাকর্মীরাও তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এসব কারণেই তিনি রেজাউল করিমের পরিবর্তে নিজেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
    তিনি আরও বলেন, রেজাউল করিম যদি সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে অন্তত ১০ জন প্রকৃত নেতা দেখাতে পারেন, তাহলে তিনি রেজাউল করিমের পক্ষে নির্বাচন করবেন। নতুবা নয়।
    এ পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে সাতজনের মধ্যে বাকি পাঁচজন শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে জোট বাঁধেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।