নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শুক্কুর আলী। তবে বহিষ্কারের পরও আগের দলীয় পদবি ব্যবহার করে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. আল-আমিন মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শুক্কুর আলীকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্কুর আলীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না বলে জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সানেয়ারের সিদ্ধান্তক্রমে শুক্কুর আলীর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, দল থেকে বহিষ্কারের পরও শুক্কুর আলী নিজেকে জামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের পর ওই পদবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
বহিষ্কারের পরও দলীয় পদবি ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে মো. শুক্কুর আলী এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান প্রার্থীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Blog
-

বহিষ্কারের পরও পদবি ব্যবহার করে চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণায় শুক্কুর আলী
-
সোনারগাঁয়ে ৪০০ পিস চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, দোকানিকে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ প্রায় ৪০০ পিস চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময় নিষিদ্ধ জাল সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে এক দোকানিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের উপস্থিতিতে এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে আনন্দবাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা জালের পরিমাণ প্রায় ৪০০ পিস। নিষিদ্ধ এসব জাল রাখার ও বিক্রির দায়ে একটি দোকানিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা জাল বাজারের জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, আনন্দবাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া গেছে। জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণী এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি বা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারসহ সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। -

হামছাদী ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন
সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১০৬ নম্বর হামছাদী ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ সাহিদা আকতার রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কমিটি গঠন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
নবগঠিত কমিটিতে মোঃ বাবুল হোসেন সভাপতি, মোঃ আজহারুল ইসলাম সহ-সভাপতি, তামান্না আক্তার বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং আবদুর রহিম শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ ছাড়া অভিভাবক সদস্য হিসেবে আল আমিন, ছানাউল্লাহ, মোর্শেদা আক্তার ও মারুফা আক্তার, উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিনিধি ইসরাত জাহান প্রিয়া, জমিদাতা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম এবং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈদ্যেরবাজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ নবীর হোসেন প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আকবর শেঠ, সাবেক মেম্বার মোঃ আবু ছিদ্দিক, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, যুবদল কর্মী জসিমউদদীন, জয়নাল আবেদীন ও জুলহাস মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নবগঠিত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
-

সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ফলের দোকানসহ পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টংঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের সার্ভিস লেন ও ফিডার রোড সংকুচিত হয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, “মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা এসব স্থাপনার কারণে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আবার সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সেবার নামে প্রহসন, অনিয়ম দূর্ভোগের করুন চিত্র.. হাজী মোহাম্মদ মহসিন
একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালের দরজায় যান সুস্থ হওয়ার আশায়। স্বজনেরা সেখানে ছুটে যান প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে। হাসপাতাল মানেই তাই মানুষের কাছে শেষ আশ্রয়ের একটি জায়গা। কিন্তু সেই হাসপাতালেই যদি চিকিৎসার বদলে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে মানুষের মনে জন্ম নেয় ভয়, হতাশা এবং অবিশ্বাস।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে বর্তমানে এমনই এক বাস্তবতার কথা শোনা যাচ্ছে।
প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস এই উপজেলায়। এত বড় একটি জনপদের মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ নানা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, একসময় যে হাসপাতাল ছিল সোনারগাঁওবাসীর আস্থার জায়গা, সেটিই এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম।
যে হাসপাতালের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস
সোনারগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাস আজকের নয়। এই অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার যে বীজ বহু বছর আগে রোপিত হয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা।
স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় পরগনার প্রেসিডেন্ট শ্যামাচরণ ভৌমিকের মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওঝা-কবিরাজের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হননি, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের সেই মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরবর্তীতে তিনি ভট্টপুর গ্রামে একটি স্কুল এবং একটি চ্যারিটেবল ডিসপেন্সারি প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই উদ্যোগই এই জনপদে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবার পথকে আরও এগিয়ে দেয়। আজও ভট্টপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এরপর স্বাধীনতার পর সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করে। স্থানীয় মানুষের জমি ও সহযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাসপাতালটির ইতিহাস। মরহুম লাল মিয়া সরকারসহ স্থানীয় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালের জন্য জমি দান করেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
সময় গড়িয়েছে। ৩০ শয্যার হাসপাতাল উন্নীত হয়েছে ৫০ শয্যায়। নির্মিত হয়েছে নতুন ভবন। অবকাঠামোগত দিক থেকেও হাসপাতালটি একসময় সোনারগাঁওয়ের মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই অবকাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি বেড়েছে চিকিৎসাসেবার মান?
পুরোনো নারকেল গাছগুলো যেন নীরব সাক্ষী
মোগরাপাড়া থেকে বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে হাসপাতালটির অবস্থান। চারপাশে সীমানাপ্রাচীর। আর সেই প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বহু পুরোনো নারকেল গাছ।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে লাগানো এসব গাছ যেন হাসপাতালের উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী।
হাসপাতাল চত্বরে রয়েছে একটি বড় পুকুর। একসময় এই পুকুরের পাড় দিয়ে মানুষ হেঁটে যাতায়াত করতেন। গবাদিপশুও চলাচল করত।
কিন্তু এখন সেই পুকুরের পাড় ভাঙছে। মাছ চাষের কারণে পাড়ের মাটি ক্ষয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানির ঢেউ ও পাড়ের মাটি সরে যাওয়ায় পুরোনো নারকেল গাছগুলোর শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে একের পর এক গাছ উপড়ে পুকুরে পড়ে যাচ্ছে।
গাছগুলো পড়ে যাওয়ার দৃশ্য শুধু একটি গাছের পতন নয়, যেন একটি পুরোনো সময়েরও পতন।
হাসপাতাল চত্বর, নাকি মশার অভয়ারণ্য?
হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে রোগমুক্ত করা। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরেই যদি ময়লা-আবর্জনা, ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের সেপটিক ট্যাংক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিচর্যা হয় না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকে। লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে অনেক জায়গা ঢেকে যায়।
এ ধরনের পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি যেখানে সারা দেশে উদ্বেগের কারণ, সেখানে একটি হাসপাতাল চত্বরের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অসুস্থ মানুষ, অথচ শৌচাগারও অনুপযোগী
একজন বয়স্ক মানুষ, একজন শিশু কিংবা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য হাসপাতালের শৌচাগার কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মৌলিক প্রয়োজন।
কিন্তু রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। ফলে অনেক সময় রোগী ও স্বজনদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
একজন অসুস্থ মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন, তখন তার ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও চিকিৎসাসেবারই অংশ।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসক কোথায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে ঘিরে।
জরুরি বিভাগ এমন একটি জায়গা, যেখানে কয়েক মিনিটের দেরিও কখনো কখনো রোগীর জীবনে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় সেখানে প্রত্যাশিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না।
চিকিৎসকের পরিবর্তে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা ওয়ার্ড বয় দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে।
সেলাই করা, ইনজেকশন দেওয়া, শ্বাসকষ্টের রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া কিংবা জরুরি ওষুধ প্রয়োগের মতো কাজ প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এখানে প্রশ্ন কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
যে সেবা ছিল, সেটিও কি হারিয়ে যাচ্ছে?
একসময় সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ছিল। বর্তমানে এসব সেবার কিছু অংশ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডেন্টাল ইউনিটের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবাও নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে রোগীদের অভিযোগ।
প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
একসময় এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থাও ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে জটিলতা দেখা দিলে অনেক গর্ভবতী নারীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন প্রসূতি মাকে যখন রাতের বেলায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হয়, তখন তার স্বজনদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়, সেটি কাগজে-কলমে হিসাব করা যায় না।
সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে?
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হন, সেটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যোগসাজশ রয়েছে। নানা অজুহাতে রোগীদের বাইরে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
অবশ্য এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অভিযোগের ধোঁয়াশার মধ্যে টিকে থাকতে পারে না।
অ্যাম্বুলেন্স: বিপদের সময় আরেক বিপদ
রোগী যখন সংকটাপন্ন, তখন অ্যাম্বুলেন্সই হতে পারে জীবন রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও এর ভাড়া নিয়ে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। কখনো ২ হাজার, কখনো ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দরকষাকষির পরও অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় বলে স্বজনদের দাবি।
একজন দরিদ্র পরিবারের মানুষ যখন তার স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করা তার জন্য কতটা নির্মম, তা সহজেই অনুমেয়।
তাই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া, রসিদ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা কোথায়?
চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে শুধু রোগের সঙ্গে লড়তে হয় না, অনেক সময় নিজের সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও পকেটমারির অভিযোগ পাওয়া যায়। রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকর নজরদারি এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
খাতায় রোগী, বাস্তবে কতজন?
হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও উপস্থিতির সংখ্যা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
কাগজে-কলমে বেশি রোগী দেখানো হলেও বাস্তবে সিটে কম রোগী থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ সরকারি হাসপাতালের রোগী সংখ্যা, ওষুধ, খাবার, জনবল ও বাজেটের সঙ্গে এসব তথ্য সরাসরি সম্পর্কিত।
তাই রোগী ভর্তি ও উপস্থিতির তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা দরকার।
রাজনীতি নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা
হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কেউ যদি দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখান, তাহলে তার প্রভাব পড়ে সরাসরি রোগীর ওপর।
সরকারি হাসপাতালে পদ থাকা আর হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা এক বিষয় নয়।
একজন চিকিৎসক কোথায় পোস্টেড, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন কি না।
নয় মাসের ক্ষোভ, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়
এই হাসপাতালের অনিয়ম ও দুরবস্থা নিয়ে গত প্রায় নয় মাস ধরে লেখালেখি ও প্রতিবাদ চলছে। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ ও সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত অভিযোগের পরও কি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এসেছে?
যদি না এসে থাকে, তাহলে কোথায় সমস্যা?
পরিদর্শনের অভাব? জবাবদিহিতার অভাব? নাকি অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত হচ্ছে না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।
ভয় নয়, দরকার সত্য বলার পরিবেশ
একটি সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ হওয়া উচিত নয়। সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ কিংবা সাধারণ রোগীর প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে।
সত্য তুলে ধরতে গিয়ে যদি কেউ ভয় পান, তাহলে সেটি আরও বড় উদ্বেগের বিষয়।
কারণ যেখানে প্রশ্ন করা যায় না, সেখানে অনিয়ম সহজেই বেড়ে ওঠে।
মানুষ হাসপাতাল চায়, সিন্ডিকেট নয়
সোনারগাঁওয়ের মানুষ বড় কোনো দাবি করছেন না।
তারা চান জরুরি বিভাগে চিকিৎসক থাকুক।
চান প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাক।
চান পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সচল থাকুক।
চান প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত হোক।
চান সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হোক।
চান হাসপাতালের চত্বর পরিষ্কার থাকুক।
চান রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
আর সবচেয়ে বেশি চান, সরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের যেন অযথা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটতে না হয়।
শেষ কথা
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু একটি ভবন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, প্রত্যাশা ও অধিকার।
যে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পেছনে স্থানীয় মানুষের অবদান রয়েছে, যে হাসপাতাল একসময় হাজারো মানুষের চিকিৎসার ভরসা ছিল, সেই হাসপাতাল কোনোভাবেই অবহেলা, অনিয়ম কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে না।
অভিযোগগুলো সত্য হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যেসব অভিযোগ সত্য নয়, সেগুলোরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কঠোর তদারকি।
সোনারগাঁওয়ের ছয় লাখ মানুষের স্বাস্থ্য কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। একজন রোগীর জীবন, একজন মায়ের নিরাপদ প্রসব, একজন শিশুর চিকিৎসা কিংবা একজন বৃদ্ধের শেষ আশ্রয় কোনো সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে পারে না।
সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবার মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। হাসপাতালের দেয়ালে শুধু নতুন রং নয়, ফিরে আসুক সেবার প্রাণ। ফিরে আসুক মানুষের বিশ্বাস।
বিশেষ করে, সোনারগাঁওয়েরই সুযোগ্য ভূমিপুত্র হিসেবে বর্তমানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার আন্তরিক উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতায় দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ তৈরি হবে, এমন প্রত্যাশা সোনারগাঁওবাসীর। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ।
কারণ হাসপাতালটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি সোনারগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের। আর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। -

সোনারগাঁয়ে ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনার
নিউজ সোনারগাঁ : সোনারগাঁয়ে ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘খাদ্যের নিরাপত্তা শীর্ষক স্কুল সেমিনার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ সেমিনারে ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সেমিনারে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জনাব সুরাইয়া সাদিয়াতুন উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারে তিনি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয়।
সেমিনার শেষে ১০০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে খাতা, একটি করে বলপেন, পাস্তুরিত তরল দুধের প্যাকেট ও নাস্তা বিতরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ আয়োজন ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকরা।
সেমিনার আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও খাবার বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা। -

সোনারগাঁয়ে লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ডাঃ মামুন ভূঁইয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২৭ নম্বর লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চিকিৎসক ডাঃ মামুন ভূঁইয়া।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোনারগাঁ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মীর মাসুমের উপস্থিতিতে সকলের সম্মতিক্রমে নতুন ম্যানেজিং কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সেলিম ভূঁইয়া। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডালিম, রাবেয়া আক্তার ও জিয়াছমিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২৭ নম্বর লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, হেদায়েত উল্লাহ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মফিজুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ ভূঁইয়া, আল আমিনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নবনির্বাচিত সভাপতি ডাঃ মামুন ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরিবেশ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা আশা প্রকাশ করে বলেন, ডাঃ মামুন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতায় বিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। -

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৩ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ কেজি গাঁজা ও ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ২৩ জনের মধ্যে মাদক মামলায় ২ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন, মাদকসেবী ১৪ জন এবং দস্যুতার মামলায় ৪ জন রয়েছেন।
মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন রুপা বেগম (২১) ও মিনা আক্তার (২৮)। তাদের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা ও ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত তিনজন হলেন মো. রুবেল, মো. জুবায়ের খন্দকার ও মো. সাদ্দাম।
দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. আমিনুল ইসলাম মানিক (২০), ইমন (১৯), আলামিন হোসেন ওরফে সম্রাট (১৯) এবং মো. সাব্বির (২০)।
অন্যদিকে মাদকসেবনের অভিযোগে শামসুজ্জামান (৫৫), জোবায়ের (২০), আনোয়ার কাজী (৪২), বাবু প্রধানিয়া (২৫), আব্দুল্লাহ (৪০), ইমরান (৩০), টিটু (৪০), মো. ফাহিম ওরফে হিমেল (২০), মাসুম মোল্লা (৩৮), মো. হালিম (৩৫), রায়হান (২৯), নয়ন (২৭), ফারদিন আহাম্মেদ (২৬) ও মাছুম মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। -

সোনারগাঁয়ে খেলনা পিস্তলসহ আটক ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে একটি খেলনা পিস্তল (গ্যাস লাইটার)সহ চারজনকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জামপুর ইউনিয়নের মিরেরটেক সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশে আলমপুরাগামী পাকা সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ‘মাইক সেভেন’ ডিউটি পালনকালে ওই এলাকায় একটি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন। পুলিশের সংকেত অমান্য করে অটোরিকশাটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে অটোরিকশাসহ চারজনকে আটক করেন।
পরে সংবাদ পেয়ে এসআই সেলিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় জামপুর ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল মানিক (২০)-এর পরিহিত প্যান্টের ডান কোমর থেকে একটি লোহার তৈরি পিস্তল সদৃশ গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বস্তুটির রিসিভারের পেছনে ও এক পাশে ইংরেজিতে ‘XINSHI… MADE IN CHINA’ লেখা এবং গোল চিহ্নের মধ্যে ‘GC’ লেখা রয়েছে। এছাড়া এতে ট্রিগার গার্ড, ব্যারেলের সামনের অংশে কালো কস্টেপ এবং গ্রিপারে বিভিন্ন দাগ রয়েছে।
আটক অপর তিনজন হলেন একই এলাকার মৃত হানিফের ছেলে ইমন (১৯), নবী হোসেনের ছেলে আলামিন (১৯) এবং কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে কলাপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী আব্দুল ইসলামের ছেলে সাব্বির (২০)।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এইচ এম মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত খেলনা পিস্তল ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’ -

সোনারগাঁয়ে ৫০০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, দুই প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক :.নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ৫০০টি আবাসিক চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপজেলার বরাব এলাকায় একটি কয়েল ফ্যাক্টরিকে ১ লাখ টাকা এবং চেঙ্গাইন কবরস্থান রোড সংলগ্ন এলাকায় একটি হেনা ফুড বেকারিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ৫০০টি আবাসিক চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার এবং তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ জোনের ম্যানেজার প্রকৌশলী শবিউল আওয়ালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেখানেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান চালিয়ে তা বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -

সোনারগাঁয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনারগাঁয়ে ভোজ্যতেলের বোতলে পরিমাপে কারচুপি, অবৈধভাবে তেল বিক্রয় ও বিতরণ, বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নবায়ন না করে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় এবং মোড়কজাত সনদ না থাকার অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বিসিক শিল্পনগরী কাঁচপুর এলাকার এন এস ব্রাদার্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের বোতল প্রস্তুত, সয়াবিন তেল মোড়কজাত ও বাজারজাত করে আসছিল। অভিযানে ৫ লিটার ও ২ লিটার ধারণক্ষমতার বোতলে যথাক্রমে ৫০ ও ২৫ মিলিলিটার করে তেল কম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া পণ্য মোড়কজাত বিধিমালা লঙ্ঘন করে ৯৩০ মিলিলিটার আকারের বোতলে অবৈধভাবে তেল সরবরাহের উদ্দেশ্যে বিক্রয় ও বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, সোনারগাঁওয়ের মহাজমপুর এলাকার সিগমা অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে দুটি মামলায় মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের সিএম সনদ নবায়ন না করেই ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন অয়েল পণ্যে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করে উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পণ্যের মোড়কজাত সনদ না থাকায় আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ গ্রহণ এবং বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-১১-এর সহযোগিতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার। অভিযানে সহযোগিতা করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক কে. এম. হানিফ ও সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল আলম।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য, পরিমাপে কম দেওয়া, অনুমোদন ছাড়া বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার এবং পণ্য মোড়কজাতকরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
-

বিএনপি নেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল, এলাকায় নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পেচাইনা এলাকায় এক বিএনপি নেতার মাদক সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবির ওই ব্যক্তি পেচাইনা এলাকার বাসিন্দা এবং এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি বড় সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তিকে সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আরশাফ ভূঁইয়ার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, অতীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিমের বাড়িতে বসবাসকারী কয়েকজনের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে। -

সোনারগাঁয়ে মাদককারবারীসহ গ্রেফতার ৩০, উদ্ধার গাঁজা-ইয়াবা
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদকসেবীসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ কেজি গাঁজা ও ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোনারগাঁ থানা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ৩ কেজি গাঁজা ও ৫১ পিস ইয়াবাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন চেঙ্গাকান্দির আবু সাঈদ (২৮), পাকুন্ডা মধ্যপাড়ার আব্দুল কাদির (৪১), ভাটিবন্দরের মোছা. আছিয়া (৫৫) ও শাহপুরের কাউসার (৪০)।
এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন মোফাজ্জল মিয়া, নুর হোসেন, রুহুল আমিন, সুলতান মিয়া, সাব্বির হোসেন, আলামিন ও মোহাম্মদ আলী।
একই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। তারা হলেন তানভির হোসেন (২৪), ফাহিম (১৯), সাকিব খান (২৪), মমিন মিয়া (৩২), আরিফুল ইসলাম (১৯), কামাল হোসেন (৪২), সবুজ (৩১), রিপন (২৬), সাগর (৩২), নুর মোহাম্মদ (৪৬), আউয়াল (৪০), রকি হোসেন (৩১), মহাদেব চন্দ্র দাস (২৯), অহিদ (২৯), কাউসার (২৩), কামাল (২৫), সাগর (২৫) ও আব্দুল লতিফ (৪৫)।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ইসলামপট্টি এলাকা থেকে মো. আরাফাত (১৯) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবীসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সোনারগাঁ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

সোনারগাঁয়ে নারীকে মারধরের পর বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক নারীকে মারধর, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। নিহত নারীর ভাই মো. রাব্বি (২০) এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোসাঃ মরিয়ম (৩৫) এর সঙ্গে ইকবাল হোসেনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছরের একটি কন্যা ও ১৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনসহ ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে প্রবেশ করে মাদক সেবন শুরু করেন। মরিয়ম প্রতিবাদ করলে ইকবালের নির্দেশে আরমান, দিপু ও হিরন তাকে দুই হাত ধরে আটকে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ইয়ামিন তাকে কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারেন। এতে তার চোখের নিচে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, দিপু পিস্তল দিয়ে মরিয়মের ডান হাতের কব্জি ও পিঠে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল দিয়ে তার পিঠে আঘাত করেন। পরে ইয়ামিন তার হাতেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে আরমানের দেওয়া অজ্ঞাতনামা একটি ট্যাবলেট ইকবাল ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মকে জোর করে খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মরিয়মকে মৃত ভেবে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মরিয়মকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই রাব্বি এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বেআইনি মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। -

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক মামলায় ৩ জন, পরোয়ানাভুক্ত ১ জন, মাদকসেবী ৫ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১ জন, নিয়মিত মামলায় ২ জন এবং রাজনৈতিক মামলায় ১ জনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোঃ মামুন মিয়া (৩৫), মোঃ আমজাদ হোসেন (৪৮) ও মোঃ সুমন (৩৮)। তারা সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে অপু (২২), মোঃ রাসেল (৩০), শফি উদ্দিন (৩৮), জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও রমজান হোসেন (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে পঞ্চমীঘাট এলাকার আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় শেরপুরের কাউসার আহমেদ (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মামলায় ভারগাঁও-আদমপুর এলাকার আব্দুল করিম (৫৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিয়মিত মামলায় হাবিবপুরের উজ্জল (৩৮) ও বাড়ী মজলিস এলাকার মোঃ হৃদয় (২৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোনারগাঁ থানা পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
