নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলা থেকে এক নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে তাঁর স্বামী ও ছোট ভাইকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামী ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলায় ঘুরতে যান তিনি। মেলা থেকে বের হওয়ার সময় রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক তাঁদের পথরোধ করে। পরে তাঁদের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরে যুবকেরা তাঁদের কাছে মোবাইল ফোন চান। মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে এসেছেন জানালে অভিযুক্তরা তাঁর কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানে গিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। এরপর তাঁদের মুক্তির জন্য এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তাঁর স্বামী ও ছোট ভাইকে এক পাশে বসিয়ে রেখে তাঁকে ভবনের অন্য পাশে নিয়ে ৭-৮ জন যুবক ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী জানান, রাত ৩টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে তিনি আড়াইহাজার থানায় গিয়ে রবিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে সময়ক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রথমে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বললেও পরে আর সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেনি। এভাবে ঘটনার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও মামলা হয়নি।
ভুক্তভোগী ওই নারী আড়াইহাজারের ভাই ভাই স্পিনিং মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
তবে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে পুলিশ। আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাছেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় ধর্ষণ মামলা নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর শরীরে যে ধরনের আলামত বা পরিস্থিতি থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একটি সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত রবিনের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ওই নারী অন্য একজনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রবিন টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সূত্রটির দাবি। তবে ধর্ষণের অভিযোগটি প্রশ্নবিদ্ধ বলেও দাবি করেছে সূত্রটি।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি তাঁকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীকে ছিনতাইয়ের মামলা করতে বলা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়নি।
এসপি আরও বলেন, ৭-৮ জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর যে ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা, প্রাথমিকভাবে তেমন কোনো আলামত বা পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়নি।



