Category: সনমান্দি

  • সনমান্দি কান্দাপাড়ায় ৫ শতাধিক মানুষের ভরসা নড়বড়ে সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    সনমান্দি কান্দাপাড়ায় ৫ শতাধিক মানুষের ভরসা নড়বড়ে সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের ৫ শতাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নড়বড়ে সাঁকোর ওপর ভরসা করে চলাচল করছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পারাপার হতে হচ্ছে শিশু, নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধদের।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কান্দাপাড়া গ্রামে শিশু ও বৃদ্ধসহ ৫ শতাধিক মানুষের বসবাস। গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম এই সাঁকোটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করে এবং মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান। এছাড়া বিভিন্ন প্রয়োজনে বৃদ্ধ ও নারীদেরও বাধ্য হয়ে সাঁকোটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীরা। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে রোগী পারাপার করতে গিয়ে স্বজনদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সাঁকোটির পরিবর্তে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

    কান্দাপাড়া গ্রামের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • অলিপুরা বাজারের সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

    অলিপুরা বাজারের সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার অলিপুরা বাজারের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক হাজার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
    সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
    এ অবস্থায় সড়কটি দ্রুত সিসি (কংক্রিট) ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন অলিপুরা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কের কারণে এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান (এমপি) এর হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কটি সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে টেকসইভাবে নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী।

  • সোনারগাঁয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল চেয়ারম্যান হত্যা: ১২ বছরেও মেলেনি বিচার, ক্ষুব্ধ পরিবার

    সোনারগাঁয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল চেয়ারম্যান হত্যা: ১২ বছরেও মেলেনি বিচার, ক্ষুব্ধ পরিবার

    স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক যুগেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি, ফলে তারা এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
    জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ জুন সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে বিল্লাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় দুই দিন পর, ২৯ জুন, নিহতের ছেলে মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সনমান্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য আনোয়ার হোসেন, শহীদুল্লাহ মিয়াসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ২০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।
    নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তৎকালীন সময়ে তাদের গ্রেপ্তার কিংবা মামলার কার্যকর তদন্তে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি পরিবারের।
    নিহতের ছেলে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা বিচার পাইনি। আমরা চাই, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
    তিনি আরও বলেন, “বাবার হত্যার বিচার না হওয়ায় আমাদের পরিবার আজও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের একটাই দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
    এদিকে, বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আবারও মামলার অগ্রগতি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহু প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

  • পাওনা টাকার দাবিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার অভিযোগ

    পাওনা টাকার দাবিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার অভিযোগ

    পাওনা টাকার দাবিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা সায়েম প্রধানের বিরুদ্ধে
    সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকার দাবিতে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সায়েম প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
    জানা যায়, গোপেরবাগ এলাকার ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদের দিন দুপুর ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ৮টার দিকে তার জানাজার জন্য মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হলে এ ঘটনা ঘটে।
    মৃত গোলজার হোসেনের ভাগিনা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মামার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল সায়েম প্রধানের। অসুস্থতার কারণে পাওনা টাকা পরিশোধের আগেই গোলজার হোসেন মারা যান। জানাজার জন্য মরদেহ ঈদগাহে নেওয়া হলে সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মরদেহবাহী খাটিয়া আটকে দেন এবং পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত জানাজা ও দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
    তিনি আরও বলেন, এ সময় জানাজায় অংশ নিতে আসা কয়েকশ মানুষ এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে সায়েম প্রধান ও তার ছেলে ইছাম উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তারা সেখান থেকে চলে যান এবং জানাজা সম্পন্ন হয়।
    মৃত গোলজার হোসেনের ১২ বছর বয়সী ছেলে জিসান বলেন, “আমার বাবা মৃত্যুর আগে সায়েম কাকার পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে বাবার লাশের খাটিয়া আটকে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।”
    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েম প্রধান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা চাইছিলাম। টাকা না পাওয়ায় জানাজা আটকে দিয়েছিলাম। পরে টাকা পরিশোধ করার পর আমি ও আমার ছেলে সেখান থেকে চলে আসি।”
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলজার হোসেন মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। পাওনা টাকার দাবিতে জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
    এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সায়েম প্রধান ও তার ছেলে ইছামের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    ঘটনার পর পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সোনারগাঁয়ের ২৩ গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায়

    সোনারগাঁয়ের ২৩ গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায়

    নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩ গ্রামের মানুষ আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গণকবাড়ী, গজারিয়াপাড়া, কোনাবাড়ী, মুসারচর, রতন মার্কেট ও হাতুরাপাড়াসহ ২৩ গ্রামের মুসল্লিরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।
    বুধবার সকাল ৮টায় গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে নয়াপুর, গণকবাড়ী, গজারিয়াপাড়া, কোনাবাড়ী ও হাতুরাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
    গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আমজাদ জানান, তাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকেও মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য এখানে আসেন। কাঁচপুর চেয়ারম্যানপাড়া এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।
    সোনারগাঁ সরকারি কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, জন্মের পর থেকেই তারা পরিবারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন এবং এ ঐতিহ্য এখনও বজায় রয়েছে।
    গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও এলাকার কয়েকটি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করেছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে চলে আসা এ ধর্মীয় চর্চার কারণে প্রতিবছরই সোনারগাঁয়ের এসব এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

  • ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় খুন: নিহত অটোরিকশা চালক মমিনের পরিবারের পাশে এমপি মান্নান

    ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় খুন: নিহত অটোরিকশা চালক মমিনের পরিবারের পাশে এমপি মান্নান

    নিউজ সোনারগা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি সিএনজি বেবীট্যাক্সি স্ট্যান্ডে মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে খুন হওয়া অটোরিকশা চালক মোঃ মমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান।
    শুক্রবার বিকেলে তিনি নিহত মমিনের নাজিরপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এসময় মমিনের স্ত্রী রিনা আক্তার স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারটির আর্থিক সংকট, অসহায়ত্ব এবং দুই সন্তানের লেখাপড়ার বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্বামীর হত্যাকারীর দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
    এসময় এমপি মান্নান নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং মমিনের দুই ছেলে রহিম ও হাসানের পড়াশোনা বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে চালিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা, সরকারি অনুদানের মাধ্যমে টিন, নগদ অর্থ, চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
    পরিদর্শনকালে এমপি মান্নান মোবাইল ফোনে সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ারকে পলাতক অভিযুক্ত লাইনম্যান শাহিন মিয়াকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
    এ বিষয়ে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “অটোরিকশা চালক মমিনের হত্যাকারী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। সোনারগাঁয়ে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। মামলার আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
    সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার জানান, চাঁদার দাবিতে অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি শাহিনকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

  • মুমিন হত্যার বিচারের দাবিতে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল, তীব্র যানজট

    মুমিন হত্যার বিচারের দাবিতে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল, তীব্র যানজট

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি চালক মুমিন হত্যা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় সিএনজি চালক ও এলাকাবাসী।

    বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার টু দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডে ১০ টাকা চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালক মুমিন (৪০) ও দড়িকান্দি এলাকার মিলন (৪৫)-এর মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে মুমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
    মুমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত চালক ও এলাকাবাসী দড়িকান্দি টু বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা অভিযুক্ত মিলনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
    বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
    এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দি–বাংলাবাজার সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দি–বাংলাবাজার সড়ক বেহাল, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দে ভরা, ভাঙাচোরা এই সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
    এই সড়কের পাশে রয়েছে অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি ইউনিয়ন পরিষদ, চারটি কবরস্থান এবং একটি ব্যস্ত বাজার। ফলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে সড়কটি সবসময়ই ব্যস্ত থাকে। এছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা আরও করুণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে না, শ্রমিকরা কাজে যেতে দেরি করে এবং ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
    সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অসুস্থ রোগী ও জরুরি সেবা প্রার্থীরা। অনেক সময় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এমন অবস্থার কারণে অনেক ডেলিভারি রোগী সময়মতো চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে পারেন না, যা জীবনঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
    এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
    স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসী মুক্তি পাবে।

  • অনুমতি ছাড়াই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

    অনুমতি ছাড়াই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি খালের উপর ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের অলিপুরা বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর অনুমতি ছাড়াই একটি বেসরকারি ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে এ নির্মাণকাজ করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন শিকদার এবং ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির শিকদারের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি কোম্পানিকে সুবিধা দিয়ে সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

    এদিকে এ সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্রের কপি পাওয়া গেছে, যেখানে মো. জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খালের ওপর একটি লোহার ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি চেয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

    সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক টিক্কা বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অবগত নয়। আমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হচ্ছে।”

    উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী বলেন, “অলিপুরা বাজার-সনমান্দী খালের ওপর কোনো ব্রিজ নির্মাণের আবেদন গৃহীত হয়নি। সরকারি খালের ওপর অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।”

    অভিযোগের বিষয়ে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, “বিএনপি নেতা খোকন শিকদারের অনুমতি নিয়েই আমরা ব্রিজ নির্মাণ করছি।” তবে তিনি কোনো লিখিত অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেননি।

    অভিযুক্ত খোকন শিকদার জানান, “আমি খালটির সভাপতি হিসেবে তাকে ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছি,” তবে টাকার লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

    এ বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, “সরকারি খালের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের নির্মাণ পরিবেশ ও পানি প্রবাহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত এ নির্মাণকাজ বন্ধ করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সোনারগাঁয়ে খাল কেটে মাটি লুটের অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ে খাল কেটে মাটি লুটের অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের আমিন মার্কেট এলাকায় খাল কেটে অবৈধভাবে মাটি লুটের অভিযোগ উঠেছে জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খাল খনন কমিটির সভাপতি খোকন শিকদার।

    অভিযোগে জানা যায়, আমিন মার্কেট সংলগ্ন একটি খাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    লিখিত অভিযোগে খোকন শিকদার উল্লেখ করেন, খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অবৈধ মাটি উত্তোলনের ফলে খালের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
    অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল মিয়া বলেন, “আমি ভেকু (খননযন্ত্র) বন্ধ করে দিয়েছি।”
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিতে পারে সেজন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামে মাদকবিরোধী এক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ্। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। বৈদ্যের বাজার নেকবর আলী মুন্সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

    কর্মশালার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সোহেল আরমান, আনোয়ার হোসেন, মানিক মিয়া ও মোঃ সানাউল্লাহ।

    এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ্ বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তরুণ সমাজকে সচেতন করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় নেতৃত্বকে একসাথে কাজ করতে হবে। কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সাথে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে—এ ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

    কর্মশালায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

  • সোনারগাঁয়ের সনমান্দিতে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ের সনমান্দিতে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন কর্মীর ওপর মারধর, হামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গনি, তার বাবা এবং ভাই হৃদয় মিয়াসহ কয়েকজন জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মেয়ের জামাই মাসুম মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় ওসমান গনি, তার বাবা ও ভাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
    অপরদিকে দড়িকান্দী এলাকায় আরেকটি ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মারধর করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়ার পথে তার কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে ‘জামায়াত ট্যাগ’ দিয়ে মারধর করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
    এছাড়া জামায়াতের কর্মী ওসমান ও কাউসারকেও বিএনপির সমর্থকদের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন।
    ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, সনমান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে তারা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাবেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা না নিলে তা পক্ষপাতের শামিল হবে।
    তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
    এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় ঘটনাগুলো নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ ভোট কেন্দ্রে জোড় যার কেন্দ্র তার

    সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ ভোট কেন্দ্রে জোড় যার কেন্দ্র তার

    সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চিরকিশোর ও চরহোগরা দুটি কেন্দ্র কে গণতন্ত্রের অভিযাপ হিসেবে অখ্যায়িত করেন উপজেলার রাজনীতিবিদরা। কারণ “সেখানে জোড় যার কেন্দ্র তার” এই নীতিতে দীর্ঘদিন চলছে কেন্দ্র দুটি। সেখানে গত দুই যুগ ধরে একই পদ্ধতি চলছে নির্বাচন বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

    সুত্র জানায়, সোনারগাঁ উপজেলার চারদিকে নদীবেষ্ঠিত চরলাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকাটি। চরদিকে নদী হওয়ার কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও তেমন নেই। যদিও সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি পু্লিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও সেটিতে লোকবলের অভাবে আইন চলে গরীবদের জন্য। প্রভাবশালী কারো বিরুদ্ধে কখনও আইন প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি ফাঁড়িটির কর্তৃপক্ষের। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকলে নামে মাত্র তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জোড় যার কেন্দ্র তার নীতিতে চলমান রয়েছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর থেকে সেথানে এই নীতিতে চলছে নির্বাচন। ফলে অনেক রাজনীতিবিদ এটিকে সোনারগাঁয়ে অভিশাষ হিসেবে অখ্যায়িত করেন।

    জানাগেছে, চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা এলাকাটি নিয়ন্ত্রন করতেন প্রয়াত নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুইজন আওয়ামী লীগের প্রার্থি কায়সার হাসনাতকে সমর্থন দেয়ার কারণে সেখানে বিপুল ভোট জয়লাভ করে নৌকা তখন বিএনপির প্রার্থীর রেজাউল করিমের বাড়ি শম্ভুপুরা হলেও তার ভরাডুবি হয়। এর পর মোতালেব মেম্বার ও নাছির মেম্বারের মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হলে সেখানকার নিয়ন্ত্রন চলে যায় নাছির মেম্বারের কাছে। ফলে সেখানে এরপর জাতীয় ও স্থানীয় যত নির্বাচন হয়েছে সবগুলো নির্বাচনে নাছির মেম্বার কেন্দ্রে ভোটার বিহীন করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সিল মেরে পুরো ভোট তার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নিয়ে নিতেন। সে সময় নাছির মেম্বার ছিলো চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের অলিখিত সরকার। তিনি যার বলতে তাই হতো। কেউ তার বিরুদ্ধে কোন দিন কথা বললেই হত্যা না হয় পঙ্গুত্ব বরন করতে হতো। তখন নাছির মেম্বারের বিরুদ্ধে গিয়ে জাতীয় পার্টিতে মোতালেব মেম্বার যোগদান করলেও এলাকায় নাছির মেম্বারের বিরুদ্ধে দাড়াতে পারেননি। নাছির মেম্বারের মৃত্যুর পর তার ছেলে..  ওই এলাকার আধিপত্য নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন। এরপর ৫ আগষ্টের পর নাছির মেম্বারের ছেলে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মোতালেব মেম্বার তার নিয়ন্ত্রনে নেন। তখন মোতালেব মেম্বারের নেতৃত্বে দফায় দফায় নাছির মেম্বার ও তার লোকজনকে পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে নাছির মেম্বার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার অলিখিত সরকার হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে আগের মতো অনিশ্চয়তা। স্থানীয়রা আশংকা করছেন এবারও নাছির মেম্বারের মতো মোতালেব মেম্বার কেন্দ্র দখল করে নিজের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরে ভোট বাক্স ভরে নিবেন বলে আশংকা করছেন প্রার্থিরা।

    প্রার্থিরা জানান, গত ১৭ বছর দেশে কোন জনগনের প্রতিনিধিত্বমুলক কোন নির্বাচন হয়নি। সব জায়গায় সরকারী দল তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে নামের ভোটে জয়লাভ করিয়েছে। তারপরও চার কিশোর ও চলগোহরা কেন্দ্র দুটি সব সময়ই জোড় জবরদস্তিতে নির্বাচনের কথা শুনে আসছে সেজন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করবো দুটি কেন্দ্র যেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছেন, উপজেলার যে কয়েকটি কেন্দ্র ঝূকিপুর্ণ রয়েছে তারমধ্যে চরকিশোরগঞ্জ ও চরগোহরা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহৃিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান করা হবে।

    গুছিয়ে নিউজ লিখে দেন

    ***

    সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে ‘গণতন্ত্রের অভিশাপ’ হিসেবে পরিচিত। উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই দুই কেন্দ্রে বহু বছর ধরে “জোর যার, কেন্দ্র তার” নীতিতেই নির্বাচন হয়ে আসছে। ফলে ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি কমে যায়, আর প্রভাবশালীরাই ফলাফল নির্ধারণ করে দেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল হওয়ায় চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে তা অনেকটাই অকার্যকর বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কখনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না, ফলে আইন যেন শুধু দুর্বলদের জন্যই প্রযোজ্য।

    রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এই দুই কেন্দ্রে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে ভোট পরিচালনার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সে সময় প্রয়াত নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী কায়সার হাসনাতকে সমর্থন দেয়ায় ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বিপুল ভোটে জয়ী হয়, যদিও বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিমের বাড়ি একই ইউনিয়নে হওয়া সত্ত্বেও তিনি আশানুরূপ ফল পাননি।

    পরবর্তীতে নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নাছির মেম্বারের হাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার সময়ে ভোটারবিহীন কেন্দ্র, জোরপূর্বক সিল মারা এবং একতরফা ভোট গ্রহণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা বা নির্যাতনের শিকার হতে হতো। নাছির মেম্বারের মৃত্যুর পর তার ছেলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। পরে তিনি এলাকা ছাড়লে মোতালেব মেম্বার পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    বর্তমানে আবারও কেন্দ্র দুটিকে ঘিরে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতোই কেন্দ্র দখল ও জোরপূর্বক ভোট গ্রহণের ঘটনা ঘটতে পারে।

    একাধিক প্রার্থী বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি। তারপরও এই দুই কেন্দ্র সবসময় বেশি বিতর্কিত। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।”

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার অন্তত এই দুই কেন্দ্রে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের অবসান ঘটে।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, তার মধ্যে চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচনকে ঘিরে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সোনারগাঁয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ, আহত ২

    সোনারগাঁয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ, আহত ২

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারণাকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সোনারগাঁ থানাধীন সনমান্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নীলকান্দা গ্রামের একটি মসজিদের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন কর্মীরা।
    এ সময় সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছাফির উদ্দিন মজনুর ভাইসহ মুশফিকুর রহমান মোহন (৩৮), জাহিদুল ইসলাম সুমন (৩৬), রূপচাঁন (৪৫) এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একত্রিত হয়ে কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    হামলায় কর্মী মোঃ তাজিবুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কাজী নাসির উদ্দিনসহ অন্যদেরও মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
    পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
    এ বিষয়ে প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
    তবে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সোনারগাঁয়ের অলিপুরায় অবৈধ মাটি কাটায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা, আটক ১

    সোনারগাঁয়ের অলিপুরায় অবৈধ মাটি কাটায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা, আটক ১

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ও সনমান্দী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অলিপুরা ব্রিজের নিচে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সোনারগাঁ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মোট এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ইট ভাটা আইনে ৫০ হাজার এবং পরিবেশ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    অভিযানকালে অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটভাটার মালিক গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আনিসুর রহমান রবিনকে আটক করে হাতকড়া পরানো হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে জরিমানার টাকা পরিশোধ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার অঙ্গীকারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
    প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন ধরে অলিপুরা ব্রিজের নিচে সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে তা ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং এর মাধ্যমে জায়গা দখলের চেষ্টা চলছিল। স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয়।
    গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে পুনরায় মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আনিসুর রহমান রবিনকে নগদ এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধানও ঘোষণা করা হয়।
    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি জমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।

  • হাজ্বী মোঃ সেলিম সরকারের অব্যাহতি প্রত্যাহার

    হাজ্বী মোঃ সেলিম সরকারের অব্যাহতি প্রত্যাহার

    নিউজ সোনারগাঁ : দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি–আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজ্বী মোঃ সেলিম সরকারকে যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পুনরায় তার পূর্বের পদে বহাল হয়েছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, অব্যাহতির পর হাজ্বী সেলিম সরকার সংগঠনের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদন বিবেচনা করে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে আজ তার অব্যাহতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারফ হোসেন ও সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় তাকে পুনরায় সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বহাল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    দলের সিদ্ধান্তে পুনর্বহাল হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।