পাওনা টাকার দাবিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার অভিযোগ

পাওনা টাকার দাবিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতা সায়েম প্রধানের বিরুদ্ধে
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকার দাবিতে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সায়েম প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গোপেরবাগ এলাকার ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদের দিন দুপুর ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ৮টার দিকে তার জানাজার জন্য মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হলে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত গোলজার হোসেনের ভাগিনা সুমন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মামার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল সায়েম প্রধানের। অসুস্থতার কারণে পাওনা টাকা পরিশোধের আগেই গোলজার হোসেন মারা যান। জানাজার জন্য মরদেহ ঈদগাহে নেওয়া হলে সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মরদেহবাহী খাটিয়া আটকে দেন এবং পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত জানাজা ও দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, এ সময় জানাজায় অংশ নিতে আসা কয়েকশ মানুষ এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে সায়েম প্রধান ও তার ছেলে ইছাম উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তারা সেখান থেকে চলে যান এবং জানাজা সম্পন্ন হয়।
মৃত গোলজার হোসেনের ১২ বছর বয়সী ছেলে জিসান বলেন, “আমার বাবা মৃত্যুর আগে সায়েম কাকার পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে বাবার লাশের খাটিয়া আটকে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েম প্রধান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা চাইছিলাম। টাকা না পাওয়ায় জানাজা আটকে দিয়েছিলাম। পরে টাকা পরিশোধ করার পর আমি ও আমার ছেলে সেখান থেকে চলে আসি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলজার হোসেন মৃত্যুকালে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। পাওনা টাকার দাবিতে জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সায়েম প্রধান ও তার ছেলে ইছামের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *