সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চিরকিশোর ও চরহোগরা দুটি কেন্দ্র কে গণতন্ত্রের অভিযাপ হিসেবে অখ্যায়িত করেন উপজেলার রাজনীতিবিদরা। কারণ “সেখানে জোড় যার কেন্দ্র তার” এই নীতিতে দীর্ঘদিন চলছে কেন্দ্র দুটি। সেখানে গত দুই যুগ ধরে একই পদ্ধতি চলছে নির্বাচন বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
সুত্র জানায়, সোনারগাঁ উপজেলার চারদিকে নদীবেষ্ঠিত চরলাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকাটি। চরদিকে নদী হওয়ার কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও তেমন নেই। যদিও সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি পু্লিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও সেটিতে লোকবলের অভাবে আইন চলে গরীবদের জন্য। প্রভাবশালী কারো বিরুদ্ধে কখনও আইন প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি ফাঁড়িটির কর্তৃপক্ষের। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকলে নামে মাত্র তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে জোড় যার কেন্দ্র তার নীতিতে চলমান রয়েছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর থেকে সেথানে এই নীতিতে চলছে নির্বাচন। ফলে অনেক রাজনীতিবিদ এটিকে সোনারগাঁয়ে অভিশাষ হিসেবে অখ্যায়িত করেন।
জানাগেছে, চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা এলাকাটি নিয়ন্ত্রন করতেন প্রয়াত নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুইজন আওয়ামী লীগের প্রার্থি কায়সার হাসনাতকে সমর্থন দেয়ার কারণে সেখানে বিপুল ভোট জয়লাভ করে নৌকা তখন বিএনপির প্রার্থীর রেজাউল করিমের বাড়ি শম্ভুপুরা হলেও তার ভরাডুবি হয়। এর পর মোতালেব মেম্বার ও নাছির মেম্বারের মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হলে সেখানকার নিয়ন্ত্রন চলে যায় নাছির মেম্বারের কাছে। ফলে সেখানে এরপর জাতীয় ও স্থানীয় যত নির্বাচন হয়েছে সবগুলো নির্বাচনে নাছির মেম্বার কেন্দ্রে ভোটার বিহীন করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সিল মেরে পুরো ভোট তার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নিয়ে নিতেন। সে সময় নাছির মেম্বার ছিলো চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের অলিখিত সরকার। তিনি যার বলতে তাই হতো। কেউ তার বিরুদ্ধে কোন দিন কথা বললেই হত্যা না হয় পঙ্গুত্ব বরন করতে হতো। তখন নাছির মেম্বারের বিরুদ্ধে গিয়ে জাতীয় পার্টিতে মোতালেব মেম্বার যোগদান করলেও এলাকায় নাছির মেম্বারের বিরুদ্ধে দাড়াতে পারেননি। নাছির মেম্বারের মৃত্যুর পর তার ছেলে.. ওই এলাকার আধিপত্য নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন। এরপর ৫ আগষ্টের পর নাছির মেম্বারের ছেলে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মোতালেব মেম্বার তার নিয়ন্ত্রনে নেন। তখন মোতালেব মেম্বারের নেতৃত্বে দফায় দফায় নাছির মেম্বার ও তার লোকজনকে পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে নাছির মেম্বার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার অলিখিত সরকার হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেখা দিয়েছে আগের মতো অনিশ্চয়তা। স্থানীয়রা আশংকা করছেন এবারও নাছির মেম্বারের মতো মোতালেব মেম্বার কেন্দ্র দখল করে নিজের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরে ভোট বাক্স ভরে নিবেন বলে আশংকা করছেন প্রার্থিরা।
প্রার্থিরা জানান, গত ১৭ বছর দেশে কোন জনগনের প্রতিনিধিত্বমুলক কোন নির্বাচন হয়নি। সব জায়গায় সরকারী দল তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে নামের ভোটে জয়লাভ করিয়েছে। তারপরও চার কিশোর ও চলগোহরা কেন্দ্র দুটি সব সময়ই জোড় জবরদস্তিতে নির্বাচনের কথা শুনে আসছে সেজন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করবো দুটি কেন্দ্র যেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছেন, উপজেলার যে কয়েকটি কেন্দ্র ঝূকিপুর্ণ রয়েছে তারমধ্যে চরকিশোরগঞ্জ ও চরগোহরা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহৃিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান করা হবে।
গুছিয়ে নিউজ লিখে দেন
***
সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে ‘গণতন্ত্রের অভিশাপ’ হিসেবে পরিচিত। উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই দুই কেন্দ্রে বহু বছর ধরে “জোর যার, কেন্দ্র তার” নীতিতেই নির্বাচন হয়ে আসছে। ফলে ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি কমে যায়, আর প্রভাবশালীরাই ফলাফল নির্ধারণ করে দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল হওয়ায় চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে তা অনেকটাই অকার্যকর বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কখনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না, ফলে আইন যেন শুধু দুর্বলদের জন্যই প্রযোজ্য।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এই দুই কেন্দ্রে প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে ভোট পরিচালনার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সে সময় প্রয়াত নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী কায়সার হাসনাতকে সমর্থন দেয়ায় ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বিপুল ভোটে জয়ী হয়, যদিও বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিমের বাড়ি একই ইউনিয়নে হওয়া সত্ত্বেও তিনি আশানুরূপ ফল পাননি।
পরবর্তীতে নাছির মেম্বার ও মোতালেব মেম্বারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নাছির মেম্বারের হাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার সময়ে ভোটারবিহীন কেন্দ্র, জোরপূর্বক সিল মারা এবং একতরফা ভোট গ্রহণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা বা নির্যাতনের শিকার হতে হতো। নাছির মেম্বারের মৃত্যুর পর তার ছেলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। পরে তিনি এলাকা ছাড়লে মোতালেব মেম্বার পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বর্তমানে আবারও কেন্দ্র দুটিকে ঘিরে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, আগের মতোই কেন্দ্র দখল ও জোরপূর্বক ভোট গ্রহণের ঘটনা ঘটতে পারে।
একাধিক প্রার্থী বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি। তারপরও এই দুই কেন্দ্র সবসময় বেশি বিতর্কিত। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার অন্তত এই দুই কেন্দ্রে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের অবসান ঘটে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, তার মধ্যে চরকিশোরগঞ্জ ও চরহোগরা অতি ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচনকে ঘিরে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



