নিজস্ব প্রতিবেদক: লাইনের ওপর গাছপালা কাটাকাটি ও রাইট অব ওয়ে (Right of Way) কাজের জন্য আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁয়ের কয়েকটি এলাকায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিস, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার এলাকাগুলো হলো— পিরোজপুর, নয়াগাঁও, জৈনপুর, চেঙ্গাকান্দি, মৃধাকান্দি, নাগেরগাঁও, ছয়হিস্যা ও মনাইরকান্দি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কাজের প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিস, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।
Category: বিশেষ সংবাদ
-

আগামীকাল শুক্রবার সোনারগাঁয়ের ৮ এলাকায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে
-

সোনারগাঁয়ের যেসব এলাকায় সোমবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সোনারগাঁ প্রতিনিধি: লাইনের ওপর গাছপালা কাটাকাটি ও রাইট অব ওয়ে (Right of Way) কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দুটি এলাকায় প্রায় সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে:
ঝাউচর: সম্পূর্ণ এলাকা
কান্দারগাঁও: সম্পূর্ণ এলাকা
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। আবার কাজের প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা কম-বেশিও হতে পারে।
সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। -

সোনারগাঁয়ের ২৩ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের কারণে এসব এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হবে।
বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সম্ভাব্য এলাকাগুলো হলো— মুগারচর, টেকপাড়া, মনাইরকান্দি, রামগোবিন্দের গাঁও, চৌধুরীর গাঁও, তাতুয়াকান্দি, চরগোয়ালদি, ভিটিকান্দি, হোসেনপুর, চেলারচর, দশদোনা, নয়াগাঁও, গজারিয়া পাড়া, একরামপুর, নবীনগর, এলাহিনগর, ইসলামপুর, গোবিন্দপুর, ফতেপুর, ফরদি, বানিয়াচং, শম্ভুপুরা ও দড়িগাঁও।
নির্ধারিত সময়ে এসব এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগেই সম্পন্ন করে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এসব এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে।
-

সোনারসোনারগাঁয়ে গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। এতে বিপর্যস্ত গয়ে পড়েছে জনজীবন। গ্যাসে রান্না না করতে পরের খাবারের জন্য হোটেলগুলোত ভীড় করছে ভোগান্তীতে পড়া লোকজন। কেউ আবার ভীড় করছে গ্যাস ও ইলেকট্রিক চুলার দোকানে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় কাঁচপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, সোনারগাঁ পৌরসভা ও মেঘনা শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার এসব এলাকায় কয়েক হাজার বৈধ গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে চুলায় আগুন জ্বালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কর্মজীবী পরিবার ও গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।সোনারগাঁ পৌরসভার বাসিন্দা ও সরকারি চাকরিজীবী নাদিয়া জানান, প্রতিদিন সকালে রান্না শেষ করে অফিসে যেতে হয় এবং সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যেখানে রান্না শেষ করতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগত, সেখানে এখন তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। অনেক সময় আবার গ্যাস একেবারেই থাকে না।মোগরাপাড়া এলাকার এক গৃহিণী বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমাদের এলাকায় গ্যাস নেই বললেই চলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। এতে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”এদিকে একই কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেঘনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, “মহেশখালীর একটি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সারা দেশেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে সোনারগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।” -

অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে তিতাস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ‘পেটানোর’ নির্দেশ দেওয়ার দাবি এমপি মান্নানের
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ তুলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার এলাকায় তিতাসের কর্মকর্তারা গেলে তাদের ‘পেটানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সভায় এমপি মান্নান বলেন, সোনারগাঁ এলাকায় প্রায় ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের ঘটনায় মামলা হলে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান আসামি করা উচিত। তার দাবি, এতে অবৈধ সংযোগের প্রবণতা কমে আসবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার থানায় বলে দিয়েছি, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা গেলে আগে তাদের পেটানো হবে। তারা অবৈধ সব কাজ করে।” তার এ বক্তব্য নিয়ে সভায় উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া মেঘনা নদীসহ বিভিন্ন নৌপথে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নদীপথে চাঁদাবাজির সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা সদস্যদের একটি তালিকাও চান। এ সময় তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের লোকজন নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশি হয়ে গেছে।”
জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-

“কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ
(সোনারগাঁয়ে অসহনীয় লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন
“কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ)নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর, থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ গ্রিড এলাকায় দিনের পর দিন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষায়, এখন আর “কারেন্ট যায়” না, বরং “মাঝে মধ্যে আসে”। এমন পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
সম্প্রতি দুই বন্ধুর কথোপকথনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় আসে। একজনের বাড়ি বন্দরে, অপরজনের সোনারগাঁয়ে। কথা বলার মাঝেই বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্দরের বন্ধু জানতে চান, “তোদের এখানে কখন কারেন্ট যায়?” জবাবে সোনারগাঁয়ের বন্ধু বলেন, “আমাদের এখানে কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।” তখন বন্দর এলাকার বন্ধুও একই সুরে বলেন, “ঠিক বলেছো বন্ধু, আমাদের এখানেও যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।” এই কথোপকথনই যেন বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি সময় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিক, শিক্ষার্থী, গৃহিণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এক ব্যবসায়ী জানান, সকালে দোকান খুলেই দেখা যায় বিদ্যুৎ নেই। বেলা ১১টা বা সাড়ে ১১টার দিকে আসে, আবার দুপুরে চলে যায়। সন্ধ্যার পরও একই অবস্থা। রাতে বাড়িতে ফিরেও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক গৃহিণী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির পানির ট্যাংকে পানি তুলতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে বা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। প্রচণ্ড গরমে সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এক ক্ষুদ্র কারখানা মালিক বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখেও বেতন দিতে হচ্ছে।
আরেক দোকানি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি। আগে যেখানে মাসিক বিল এক হাজার টাকার মতো আসত, এখন চার হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ক্ষোভের পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ মানববন্ধন ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচির আহ্বানও জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে। -

মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এক কেজি পোলাওয়ের চালে বেড়েছে ৭৫ টাকা, বিপাকে ক্রেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তার বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে পোলাওয়ের চালসহ বিভিন্ন ধরনের চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধনীর দাম। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এক কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যে পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে সেই একই চাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০৫ থেকে ২১০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য চাল ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীর দামও বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মোকাম থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, বিদেশে চাল রপ্তানির কারণে দেশে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তারা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। -

হাইকোর্টের রুলে সোনারগাঁয়ের ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কপালে ভাঁজ
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের জারি করা এক রুলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (পাস) নির্ধারণের প্রস্তাব আসায় সম্ভাব্য অনেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে অনেকের কপালেই পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে একাধিক বিএনপি নেতা মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং শুরু করেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাদের স্থানীয় সরকার পরিচালনা কিংবা প্রশাসনিক বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার অনেকেই ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী নন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার সম্পর্কে জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।এদিকে, বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান
হাইকোর্টের রুল জারির পর সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অনেকে এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। রুলটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
-

“পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হলেন সোনারগাঁয়ের কৃতি সন্তান অলিউর রহমান আপেল”
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান অলিউর রহমান আপেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অলিউর রহমান আপেল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম মান্নান বিজয়ী হন।
নির্বাচনের প্রায় চার মাস পর অলিউর রহমান আপেলকে দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার এই পদোন্নতিতে সোনারগাঁবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, অলিউর রহমান আপেলের এই অর্জন সোনারগাঁ উপজেলার জন্য একটি গৌরবের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তার নেতৃত্বে দেশের জ্বালানি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং তিনি সোনারগাঁ তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। -

সোনারগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না জাল’-এর অবাধ ব্যবহার, হুমকিতে মেঘনা নদীর জীববৈচিত্র্য
পনির খন্দকার : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘চায়না জাল’-এর অবাধ ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বারদী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরসহ উপজেলার সনমান্দী, পিরোজপুর, শম্ভুপুরা ও সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে চায়না জালের জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এটি ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া, কচ্ছপ, সাপসহ জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকে ফেলে। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।জানা যায়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন রক্ষায় সরকার অনেক আগেই এ ধরনের জাল উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু বাস্তবে সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এই জাল ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর অভিযান বা নজরদারি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সুশীল সমাজের লোকজনের মতে, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জেলেদের সচেতন করা এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে মেঘনা নদীর মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

-

সোনারগাঁয়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও শিশুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ ব্যক্তি, বৃদ্ধ, শিশু এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে কি করনীয় সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎতের কর্তাব্যক্তিরা কিছু জানেন না বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার ওপর দিয়ে একাধিক সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ লাইন প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১৩ নম্বর ফিডারের আওতাধীন গ্রামীণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় দিনে তিন থেকে চারবার এবং রাতেও তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং রাতের ঘুম সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তার এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জানান, সকালে দোকান খুলতেই বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বাড়িতে ফিরলেও একই অবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, রাতে ঠিকমতো ঘুমানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, “দিনভর পরিশ্রম করার পর রাতে যদি বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে বিশ্রাম নেওয়াই সম্ভব হয় না। বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য বেড়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহান বলেন, “সামনে পরীক্ষা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া পড়াশোনা ও ঘুমানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে।”
সোনারগাঁয়ের ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা জানান, আমরা ছোটখাটো কল কারখানা চালাই। এই কলকারখানা চালিয়ে নিজে বাঁচি ও কিছু শ্রমিক বাঁচে। গত দুই বছর যাবত বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠার চেষ্টার পর নতুন করে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের সমস্যা। দিনে রাতে কয়েকবার লোডশেডিংয়ের ফলে আমাদের উৎপাদন সর্বনিম্নে নেমে গেছে। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে বিক্রিও কম এতে নিজে চলাতো দুরের কথা ব্যাংকের টাকাও পরিশোধ করতে পারছিনা। এভাবে চলতে থাকলে কলকারখানা বন্ধ করে দিয়ে পথে বসতে হবে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আশরাফুল আলম বলেন, “লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। সোনারগাঁ অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছে। লোডশেডিং করা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়।”
-

মাদকের কড়াল গ্রাসে ধ্বংসের পথে সোনারগাঁ, এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এলাকার যুবসমাজ। এ অবস্থায় মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বেচাকেনা দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় পরিবার ও সমাজে উদ্বেগ বাড়ছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক কলহ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবমুক্তভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা বলেন, “সোনারগাঁকে মাদকমুক্ত করতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সরাসরি তদারকি ও কার্যকর ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সোনারগাঁর যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
-

খাইরুল ইসলাম সজিবকে ডিবি পুলিশের আটকের খবর গুজব: নিজেই দিলেন ব্যাখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবকে ডিবি পুলিশ আটকের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি নিজেই।
রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নিউজ সোনারগাঁকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাইরুল ইসলাম সজিব। তিনি জানান, তাকে আটক করা হয়েছে বলে যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে রয়েছেন এবং এ ধরনের সংবাদকে গুজব বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে একটি অনলাইন পোর্টালে খাইরুল ইসলাম সজিবের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সোনারগাঁসহ নারায়ণগঞ্জ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি যাচাই করতে নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ না করলেও পরে নিজেই কলব্যাক করে আটকের খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য বলে নিশ্চিত করেন।
খাইরুল ইসলাম সজিব বলেন, “আমাকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে বলে যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোথাও আটক হইনি। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।”
এদিকে, তার বক্তব্য পাওয়ার পর আটকের খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। -

প্রিপেইড মিটারে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর যেভাবে রিচার্জ করবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদ্যুতের অনেক গ্রাহক। আগে যেখানে রিচার্জের জন্য ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার হতো, এখন অনেক গ্রাহকের মোবাইলে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আসছে। এতবড় নম্বর মিটারে ডায়াল করতে গিয়ে ভুল করছেন অনেকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্যান্য মাধ্যমে রিচার্জের পর প্রাপ্ত টোকেন নম্বর এত দীর্ঘ যে তা মিটারে প্রবেশ করাতে অনেক সময় লাগছে। সামান্য ভুল হলেই টোকেন গ্রহণ করছে না মিটার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টোকেন প্রবেশ করাতে না পারায় অনেক বাসা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এ সমস্যা থেকে দ্রুত কীভাবে সমাধান পেতে পারেন জেনে নিন
ডেসকো প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার পর প্রাপ্ত ২০০ ডিজিটের বিশাল টোকেনটি মূলত ১০টি আলাদা ব্লকে (প্রতিটি ব্লকে ২০টি করে ডিজিট) বিভক্ত থাকে। ট্যারিফ পরিবর্তন বা মিটার আপগ্রেডের কারণে আসা টোকেনটি ডেসকো মিটারে সঠিকভাবে প্রবেশ করানোর নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস বা রিচার্জ স্লিপে ২০টি করে ডিজিট পরপর স্পেস দিয়ে মোট ১০টি লাইনে ২০০টি ডিজিট সাজানো থাকবে। ধাপে ধাপে ২০ ডিজিট করে চাপুন: প্রথম লাইনের ২০টি ডিজিট মিটারের কিপ্যাডে নির্ভুলভাবে তুলুন। এরপর মিটারের লাল বা নীল রঙের ‘Enter’ (↵) বোতামটি চাপুন।
ডিসপ্লে চেক করুন: প্রথম ২০ ডিজিট চাপার পর ‘Enter’ দিলে মিটারের স্ক্রিনে ‘Good’, ‘Open’ বা ‘01’ (প্রথম ধাপ সফল) লেখা আসবে।
বাকি ধাপগুলো সম্পন্ন করুন: প্রথম ধাপ সফল হলে, একইভাবে দ্বিতীয় লাইনের ২০টি ডিজিট চেপে আবার ‘Enter’ চাপুন। এভাবে একে একে ১০টি ধাপই (মোট ২০০ ডিজিট) সম্পন্ন করতে হবে।
চূড়ান্ত সফল বার্তা: ১০ নম্বর ধাপের শেষ ২০টি ডিজিট চেপে ‘Enter’ দেওয়ার পর মিটারের ডিসপ্লেতে মূল রিচার্জের টাকা বা ‘SUCCESS’ লেখাটি ভেসে উঠবে।
জরুরি কিছু বিষয় ও কোডভুল হলে সংশোধন: চাপার সময় কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে ডেসকো মিটারের তীর চিহ্ন বা ক্রস (←) বোতামটি চেপে সেটি মুছে আবার সঠিক সংখ্যাটি চাপুন। পরপর ভুল করবেন না; মাঝপথে কোনো একটি ধাপে ভুল হলে স্ক্রিনে ‘Reject’ বা ‘Error’ দেখাতে পারে। এমন হলে ঘাবড়াবেন না, তবে পরপর তিনবার ভুল করলে মিটার লক হয়ে যেতে পারে।
মিটারের ব্যালান্স দেখা: টোকেন ইনপুট শেষ হওয়ার পর আপনার ডেসকো মিটারে টাকা যোগ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে ‘801’ চেপে ‘Enter’ দিন, স্ক্রিনে বর্তমান ব্যালান্স দেখতে পাবেন।
-

সোনারগাঁয়ে ঈদকে সামনে রেখে বকশিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ক্ষোভে যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া থেকে ভবেরচর রুটে চলাচলকারী নাফ বাস, লোকাল বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, “বকশিস” ও ঈদযাত্রার অতিরিক্ত চাপের অজুহাতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোগড়াপাড়া থেকে ভবেরচর রুটে বাসে যেখানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম ভাড়া নেওয়ার কথা, সেখানে বর্তমানে যাত্রীপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে সিএনজি অটোরিকশায় মাথাপিছু ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদ সামনে আসলেই পরিবহন সংকট ও যাত্রীর চাপকে কেন্দ্র করে বাড়তি ভাড়া আদায় যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এবারও সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিক, যাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে। -

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে খাটিয়া ও হোগড়ার বাজার, বেড়েছে প্লাস্টিকের চাহিদাও
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানিকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তাসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে মাংস কাঁটার কাজে ব্যবহৃত খাটিয়া ও হোগড়ার চাহিদা। পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্লাস্টিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে এসব পণ্যের বিক্রি। কোরবানির পশু জবাই, মাংস কাটা ও সংরক্ষণের সুবিধার জন্য অনেক পরিবার আগে থেকেই খাটিয়া ও হোগড়া কিনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বড় সাইজের খাটিয়া প্রতিটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের খাটিয়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছোট খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া প্রতিটি হোগলা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকায়। বৃষ্টি থেকে কোরবানির মাংস ও স্থান রক্ষায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের দামও বেড়েছে, যা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক দোকানি বলেন, “ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কোরবানির আগের দুই-তিন দিন সবচেয়ে বেশি ক্রেতা আসে। অনেকেই একসঙ্গে খাটিয়া, হোগলা ও প্লাস্টিক কিনে নিচ্ছেন।”
আরেক বিক্রেতা জানান, “এবার বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় প্লাস্টিকের চাহিদাও বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের চাপ থাকছে।”
ক্রেতারা জানান, কোরবানির সময় প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই কিনে রাখলে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি কম হয়। তাই পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী এখনই এসব সামগ্রী সংগ্রহ করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এ কেনাবেচার ব্যস্ততা আরও বাড়বে।