নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। এতে বিপর্যস্ত গয়ে পড়েছে জনজীবন। গ্যাসে রান্না না করতে পরের খাবারের জন্য হোটেলগুলোত ভীড় করছে ভোগান্তীতে পড়া লোকজন। কেউ আবার ভীড় করছে গ্যাস ও ইলেকট্রিক চুলার দোকানে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় কাঁচপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, সোনারগাঁ পৌরসভা ও মেঘনা শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার এসব এলাকায় কয়েক হাজার বৈধ গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে চুলায় আগুন জ্বালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কর্মজীবী পরিবার ও গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোনারগাঁ পৌরসভার বাসিন্দা ও সরকারি চাকরিজীবী নাদিয়া জানান, প্রতিদিন সকালে রান্না শেষ করে অফিসে যেতে হয় এবং সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যেখানে রান্না শেষ করতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগত, সেখানে এখন তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। অনেক সময় আবার গ্যাস একেবারেই থাকে না।
মোগরাপাড়া এলাকার এক গৃহিণী বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমাদের এলাকায় গ্যাস নেই বললেই চলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। এতে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।”
এদিকে একই কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে যাত্রী পরিবহনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেঘনাঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, “মহেশখালীর একটি এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সারা দেশেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে সোনারগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম রয়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

Leave a Reply