সোনারগাঁয়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ ব্যক্তি, বৃদ্ধ, শিশু এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে কি করনীয় সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎতের কর্তাব্যক্তিরা কিছু জানেন না বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার ওপর দিয়ে একাধিক সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ লাইন প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১৩ নম্বর ফিডারের আওতাধীন গ্রামীণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় দিনে তিন থেকে চারবার এবং রাতেও তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং রাতের ঘুম সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।

মোগরাপাড়া চৌরাস্তার এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী জানান, সকালে দোকান খুলতেই বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বাড়িতে ফিরলেও একই অবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, রাতে ঠিকমতো ঘুমানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, “দিনভর পরিশ্রম করার পর রাতে যদি বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে বিশ্রাম নেওয়াই সম্ভব হয় না। বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য বেড়েছে, তবুও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহান বলেন, “সামনে পরীক্ষা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া পড়াশোনা ও ঘুমানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে।”

সোনারগাঁয়ের ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা জানান, আমরা ছোটখাটো কল কারখানা চালাই। এই কলকারখানা চালিয়ে নিজে বাঁচি ও কিছু শ্রমিক বাঁচে। গত দুই বছর যাবত বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠার চেষ্টার পর নতুন করে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের সমস্যা। দিনে রাতে কয়েকবার লোডশেডিংয়ের ফলে আমাদের উৎপাদন সর্বনিম্নে নেমে গেছে। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে বিক্রিও কম এতে নিজে চলাতো দুরের কথা ব্যাংকের টাকাও পরিশোধ করতে পারছিনা। এভাবে চলতে থাকলে কলকারখানা বন্ধ করে দিয়ে পথে বসতে হবে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আশরাফুল আলম বলেন, “লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। সোনারগাঁ অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছে। লোডশেডিং করা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *