“কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ

(সোনারগাঁয়ে অসহনীয় লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন
“কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর, থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উপজেলার অধিকাংশ গ্রিড এলাকায় দিনের পর দিন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষায়, এখন আর “কারেন্ট যায়” না, বরং “মাঝে মধ্যে আসে”। এমন পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
সম্প্রতি দুই বন্ধুর কথোপকথনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় আসে। একজনের বাড়ি বন্দরে, অপরজনের সোনারগাঁয়ে। কথা বলার মাঝেই বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্দরের বন্ধু জানতে চান, “তোদের এখানে কখন কারেন্ট যায়?” জবাবে সোনারগাঁয়ের বন্ধু বলেন, “আমাদের এখানে কারেন্ট যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।” তখন বন্দর এলাকার বন্ধুও একই সুরে বলেন, “ঠিক বলেছো বন্ধু, আমাদের এখানেও যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।” এই কথোপকথনই যেন বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি সময় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিক, শিক্ষার্থী, গৃহিণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এক ব্যবসায়ী জানান, সকালে দোকান খুলেই দেখা যায় বিদ্যুৎ নেই। বেলা ১১টা বা সাড়ে ১১টার দিকে আসে, আবার দুপুরে চলে যায়। সন্ধ্যার পরও একই অবস্থা। রাতে বাড়িতে ফিরেও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক গৃহিণী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির পানির ট্যাংকে পানি তুলতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে বা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। প্রচণ্ড গরমে সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এক ক্ষুদ্র কারখানা মালিক বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখেও বেতন দিতে হচ্ছে।
আরেক দোকানি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি। আগে যেখানে মাসিক বিল এক হাজার টাকার মতো আসত, এখন চার হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ক্ষোভের পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ মানববন্ধন ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচির আহ্বানও জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *