Category: মোগরাপাড়া

  • সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘গাউছিয়া মার্কেট’

    সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘গাউছিয়া মার্কেট’

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় শাহাবুদ্দিন মার্কেট স্থানীয়দের কাছে ‘গাউছিয়া মার্কেট’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। গত কয়েক বছরে মার্কেটটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৩-৪ বছর আগে স্থানীয় আহমদ হোসেন হিরু ও তার দুই ভাইয়ের উদ্যোগে শাহাবুদ্দিন মার্কেটে এই বাজারের আয়োজন শুরু হয়। শুরু থেকেই ‘মোগরাপাড়া গাউছিয়া মার্কেট’ নামে এর উদ্বোধন করা হয়। নামের সঙ্গে রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটের মিল থাকায় ধীরে ধীরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারীরা এখানে কেনাকাটার জন্য আসতে শুরু করেন।
    প্রথম দিকে অল্প কয়েকটি দোকান নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে মার্কেটটিতে দোকানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখানে দোকান পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমজমাট থাকে মার্কেটটি।
    মার্কেটটিতে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতিই বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন এখান থেকে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে মার্কেটটির জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।
    এখানে নারীদের পোশাকের পাশাপাশি পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিস, সেলোয়ার-কামিজ, ওড়না, বোরকা, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, গামছা, থান কাপড়, গজ কাপড়, সুতি ও ছাপা কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।
    এ ছাড়া জুয়েলারি, কসমেটিকস, টেইলারিং সামগ্রী, মশারি এবং বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি পণ্যও পাওয়া যায়। ফলে এক জায়গা থেকেই পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
    স্থানীয়রা জানান, রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। সেই নামের সঙ্গে মিল রেখে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ‘গাউছিয়া মার্কেট’ নামটি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তার একটি পরিচিত কেনাকাটার স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে।
    ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় ভবিষ্যতে মার্কেটটিতে আরও দোকান ও নতুন নতুন পণ্যের সমাহার ঘটবে বলে তারা আশা করছেন।

  • সোনারগাঁয়ে প্রবাসফেরত ছেলের বিরুদ্ধে মাকে মারধর ও ঘরছাড়া করার অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ে প্রবাসফেরত ছেলের বিরুদ্ধে মাকে মারধর ও ঘরছাড়া করার অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের শুকুরদী (বড়বাড়ী) এলাকায় প্রবাসফেরত এক ছেলের বিরুদ্ধে নিজ মাকে মারধর, ঘরছাড়া এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার (৪৫) বাদী হয়ে ছেলে ফাহিম মোস্তাকিম আলভীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    অভিযোগে বলা হয়, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে জমি বিক্রি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন মা। পরে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। গত ২৪ জুলাই রাতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা ফাতেমা আক্তার ও তার চাচাতো ভাইকে মারধর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
    ভুক্তভোগী চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পরও আসামিরা থানার তলবে সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিত মা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সোনারগাঁয়ে রেস্তোরাঁর বিদ্যুতের তার কেটে চুরির অভিযোগ, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে

    সোনারগাঁয়ে রেস্তোরাঁর বিদ্যুতের তার কেটে চুরির অভিযোগ, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার আল-মদিনা শপিং কমপ্লেক্সে একটি রেস্তোরাঁর বিদ্যুতের তার কেটে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মো. ইমন মিয়া সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আল-মদিনা শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার রেস্তোরাঁটি ২০২০ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করে আসছেন ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব মামুন শিকদার। অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অধিক ভাড়ার আশায় ভবন মালিক মাজহারুল ইসলাম নবী রেস্তোরাঁটি অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন।
    রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে, ভবন মালিকের নেতৃত্বে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে পানির ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
    লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ আগস্ট রাতে প্রতিদিনের মতো রেস্তোরাঁ বন্ধ করে সবাই চলে যাওয়ার পর ৫ আগস্ট সকালে এসে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর বিদ্যুতের মূল সংযোগের তার কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
    অভিযোগকারী মো. ইমন মিয়া জানান, তিনি রেস্তোরাঁটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকের নির্দেশে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্ত ভবন মালিক মাজহারুল ইসলাম নবীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
    সোনারগাঁ থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    উল্লেখ্য, অভিযোগে উত্থাপিত সব তথ্য অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

  • মোগরাপাড়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    মোগরাপাড়ায় অবৈধ ব্যাটারি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক এলাকায় একটি ব্যাটারি কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কারখানার দূষণের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অনেকেই শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া, ত্বকের সমস্যা এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলাকালে এবং বিশেষ করে আগুন জ্বালানোর সময় ঘন কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
    এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকার মধ্যে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
    তাদের দাবি, কারখানার তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফলজ ও বনজ গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
    এলাকাবাসী বলেন, তারা শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থানের বিরোধী নন। তবে উন্নয়নের নামে যদি মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই সমস্যার সমাধান করা জরুরি। মসজিদে অনুদান বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ প্রশংসনীয় হলেও তা কখনোই মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশের বিকল্প হতে পারে না। তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিগন্ত বলেন, “দূষিত ধোঁয়া বা বিষাক্ত বায়ুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, চোখ ও ত্বকের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত মূল্যায়নও প্রয়োজন।”

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি কারখানার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সোনারগাঁয়ে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৪

    সোনারগাঁয়ে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৪

    নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা আরও চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের ঢাকা মুখী লেনের সোনাখালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো. মায়া আলম (৪০) সোনারগাঁ উপজেলার সোনাখালী এলাকার বারাকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

    আহতরা হলেন, উপজেলার বাপলুপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো. শহিদ, সোনাখালী এলাকার ইংগু মিয়ার ছেলে মো. আলিনুর, সোনারগাঁজী এলাকার মৃত রশিদ আলীর ছেলে মো. টিকা খান এবং সোনাখালী এলাকার মুন্সুর আলীর ছেলে মো. সুরুজ মিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকামুখী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক মায়া আলমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা চার আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে বারাকা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।

    হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আওলাদ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে

  • সোনারগাঁয়ে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

    সোনারগাঁয়ে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি ইলালদি এলাকায় গোল্ডেন অয়েল মিলস ও সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে সরকারি পাকা রাস্তার অংশ দখল করে টিনের বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গোল্ডেন অয়েল মিলস ও সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি লোকজন রাতের আঁধারে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত সরকারি রাস্তা সংকুচিত করে ১০ ফুটে নামিয়ে এনে রাস্তার ওপর টিনের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

    এলাকাবাসী জানান, দড়িকান্দি থেকে কালীগঞ্জ গুদারাঘাট পর্যন্ত এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর লাঙ্গলবন্দ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্নানোৎসবে শত শত নয়, হাজার হাজার ভক্ত এই সড়ক ব্যবহার করে গুদারাঘাটে যাতায়াত করেন। তাই সরকারি রাস্তা সংকুচিত করার যে কোনো উদ্যোগ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে তারা মনে করছেন।
    স্থানীয় বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা সংকুচিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
    এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে গোল্ডেন অয়েল মিলস ও সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    এ ঘটনায় স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং সরকারি রাস্তা দখলের চেষ্টা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

  • এনসিপির সমাবেশে নেতার মোবাইল চুরি, থানায় জিডি

    এনসিপির সমাবেশে নেতার মোবাইল চুরি, থানায় জিডি

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এনসিপির জুলাই সমাবেশে দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব জোবায়ের হোসেন তামজিদের মোবাইল চুরি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নেতা সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    তিনি জানান, জুলাই পদযাত্রা চলাকালীন তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ‘আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স’ অজ্ঞাত কেউ পকেট থেকে কৌশলে চুরি করেছেন।

    ​পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে জুলাই সমাবেশের জন্য মঞ্চ স্থাপন করে। সমাবেশের আগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একটি পদযাত্রা করেন। পদযাত্রায় মোবাইলটি পকেটমার হয়।

    এ সময় আরও কয়েকজনের মুঠোফোন পকেটমার হয়েছে বলে জানান এনসিপির নেত্রী লুবনা রহমান।

  • মোগরাপাড়া চৌরাস্তার মূল সড়ক এখন ভ্যান চালকদের দখলে, বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি

    মোগরাপাড়া চৌরাস্তার মূল সড়ক এখন ভ্যান চালকদের দখলে, বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, আশপাশের এলাকা এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এই সড়ক ব্যবহার করেন। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অংশ হিসেবে পরিচিত এই সড়কটি স্থানীয়দের কাছে ‘থানা রোড’ নামেও পরিচিত।
    এ সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক মার্কেট, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার, ব্যাংক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের চলাচল থাকে অত্যন্ত ব্যস্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যানজটের সমস্যায় ভুগতে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন নতুন করে ভ্যানচালকদের দখলে চলে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ভ্যানগাড়ি রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে ফল, ডাব, নারিকেল, লেবু, আচার, খেলনা, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশেই সারিবদ্ধভাবে ভ্যান রেখে দোকান বসানো হয়েছে। এতে চলাচলের জন্য রাস্তার কার্যকর প্রস্থ অনেকটাই কমে গেছে। ফলস্বরূপ প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
    কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের সুফল ম্লান
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও মোগরাপাড়া চৌরাস্তার এই সড়কটি ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। খানাখন্দে ভরা ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল ছিল কষ্টকর। বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে প্রায় দুই বছর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
    শুধু সড়কই নয়, রাস্তার পাশে প্রায় পাঁচ ফুট প্রশস্ত একটি ড্রেনও নির্মাণ করা হয়, যাতে পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়। নতুন সড়ক নির্মাণের পর যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। এলাকাবাসীও স্বস্তি ফিরে পান।
    কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক ভ্যানগাড়ি রাস্তার ওপর দোকান বসাতে শুরু করে। প্রথমে দুই-একটি ভ্যান থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার দুই পাশে ভ্যান দাঁড় করিয়ে ব্যবসা পরিচালনার কারণে যান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকছে না।
    সড়কেই গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার
    সরেজমিনে দেখা যায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে শহীদ মজনু পার্ক পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে ভ্যানগাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্যবসা চলছে। কেউ বিক্রি করছেন আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, ডাব, নারিকেল ও লেবু। আবার কেউ বিক্রি করছেন বিভিন্ন ধরনের খেলনা, আচার, কাঁচাবাজারের পণ্য কিংবা মৌসুমি ফল।
    ভ্যানগুলো এমনভাবে দাঁড় করানো হয়েছে যে, অনেক স্থানে একটি বড় যানবাহন চলাচল করলে বিপরীত দিকের যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজে যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
    স্থানীয়দের দাবি, ভ্যানচালকদের পাশাপাশি অনেক ক্রেতাও রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন। এতে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়। মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
    পথচারীদের দুর্ভোগ
    রাস্তার পাশে নির্মিত ড্রেনের ওপর দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ থাকলেও অনেক স্থানে ভ্যানগাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিশু, নারী ও বয়স্কদের রাস্তা পারাপারে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি সেবার যানবাহনও অনেক সময় আটকে থাকে।
    যানজটে অতিষ্ঠ চালকরা
    সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
    একজন ট্রাকচালক জানান, “মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে বের হতে অনেক সময় আধাঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। রাস্তার দুই পাশে ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বড় গাড়ি ঘোরানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। কাউকে কিছু বলতে গেলেই উল্টো তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অনেক সময় মারমুখী আচরণও করে।”
    অটোরিকশা চালকরাও জানান, কয়েক মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট লেগে যায়। এতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই ভাড়া নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
    ভ্যানচালকদের বক্তব্য
    ভ্যানচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে এখানে ব্যবসা করছেন।
    তাদের দাবি, মহাসড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বসতে হলে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। কিন্তু এই সড়কে বসলে কোনো ধরনের চাঁদা দিতে হয় না। তাই একে একে অনেকেই এখানে এসে ব্যবসা শুরু করেছেন।
    একজন ভ্যানচালক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। যেখানে চাঁদা দিতে হয় না, সেখানেই বসে ব্যবসা করি। যদি প্রশাসন আমাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা সেখানে চলে যাব।”
    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
    চৌরাস্তার ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাস্তার ওপর দোকান বসানোর কারণে শুধু যানজটই নয়, স্থায়ী দোকানগুলোর ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
    একাধিক দোকান মালিক জানান, অনেক ক্রেতা যানজটের কারণে বাজারে আসতে চান না। আবার রাস্তার ওপর অবৈধভাবে দোকান বসানোর ফলে বাজারের শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে।
    সমাজসেবক মনির হোসেনের বক্তব্য
    চৌরাস্তার ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মনির হোসেন বলেন, “আমি নিজের অর্থায়নে কয়েক দিন পরপর ড্রেনের মুখে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করি। কিন্তু বর্তমানে মোগরাপাড়া থেকে শহীদ মজনু পার্ক পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ভ্যানগাড়ি রাস্তার ওপর বসে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এতে পুরো সড়কটাই যেন অস্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে।”
    তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে যানজট লেগেই থাকে। প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ, দ্রুত এসব ভ্যানগাড়ি রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
    জনদুর্ভোগ বাড়ছে
    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চলাচল সহজ করা। কিন্তু রাস্তার ওপর অবৈধভাবে দোকান বসানোর কারণে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
    বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েও যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
    প্রশাসনের নজরদারির দাবি
    এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। নিয়মিত নজরদারি না থাকায় অবৈধ দখলদাররা পুনরায় রাস্তার ওপর ব্যবসা শুরু করেন।
    তাদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্যানচালকদের জন্য বিকল্প নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে যেমন যানজট কমবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন।
    সচেতন মহলের মতামত
    সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সড়ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য। সেখানে কোনোভাবেই স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে দোকান বসানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
    তাদের মতে, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও ভ্যানচালকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব। নির্দিষ্ট স্থানে হকার জোন বা ভ্যান ব্যবসার স্থান নির্ধারণ করা হলে রাস্তা দখলের প্রবণতা কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
    দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
    মোগরাপাড়া চৌরাস্তা সোনারগাঁ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। অথচ অবৈধভাবে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
    এলাকাবাসীর দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ককে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বিকল্প স্থানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    প্রশাসনের বক্তব্য
    সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “সড়ক দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে সড়ক থেকে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানগাড়ি অপসারণে কাজ করবেন।”

    স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন।

  • সোনারগাঁয়ে মাংস ব্যবসা ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    সোনারগাঁয়ে মাংস ব্যবসা ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিনে শব্দদূষণবিরোধী অভিযানে দুটি পরিবহন থেকে তিনটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন, ভূমি কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আতাউর রহমান এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান জানান, বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করে মাংস বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাংস ব্যবসায়ী মো. মান্নান মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ভিন্ন ভিন্ন মানের পণ্য পৃথকভাবে চিহ্নিত না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ধারায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    তিনি আরও জানান, বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এদিকে একই দিন বিকেলে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ৮(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে দুটি পরিবহন থেকে তিনটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অভিযানে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রীমা আক্তার, অফিস সহকারী রাকিবুল ইসলাম এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • যে কারণে মদিনা শপিংমলে আগুন লাগে

    যে কারণে মদিনা শপিংমলে আগুন লাগে

    নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শপিংমলের নিচতলার ফায়ার ইকুইপমেন্ট রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় বৈদ্যুতিক মিটার, তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দোকানদারদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কেট মালিক নবী হোসেন বলেন, প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

  • সোনারগাঁয়ে শপিংমলের মোবাইলের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, প্রায় দেড় কোটি টাকার মোবাইল খোয়া

    সোনারগাঁয়ে শপিংমলের মোবাইলের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, প্রায় দেড় কোটি টাকার মোবাইল খোয়া

    নিজস্ব প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রিন্সিপাল-১০০ শপিংমলে অবস্থিত আমিনুল টেলিকমে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১৪৬টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
    শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ধরা পড়ে।
    দোকানের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে তারা বাসায় চলে যান। শুক্রবার সকালে দোকানে এসে দেখতে পান দোকানের দুটি তালা ভাঙা। পরে শাটার খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে দোকান এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। ডিসপ্লেতে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ১৪৬টি মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে।
    তারা আরও জানান, একটি আধুনিক শপিংমলে দিনের আলোয় এমন চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক। ঘটনার পর মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করতে গিয়ে জানা যায়, দোকানের ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বড় শপিংমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এত দুর্বল হতে পারে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
    এদিকে মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চুরি হওয়া মোবাইলগুলোর মধ্যে কিছু আইফোন সরাসরি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এসব মোবাইলের সবগুলোর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

    প্রিন্সিপাল হাড্রেট প্লাজার একজন নিরাপত্তা কর্মী জানান, আমরা প্রতিদিন সকাল ৯টায় মার্কেট খুলে দেই। এসময় দোকানদার থেকে শুরু করে কাষ্টমার ডুকে কে চুর কে চুর না আমরা কিভাবে বুঝবো। এছাড়া এসময় মার্কেট থেকে কাউকে বড় কোন ব্যাগ নিয়েও বের হতে দেখিনি।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান। অভিযানটি দুপুর পর্যন্ত চলে।

    এসময় মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন,কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম শেখসহ পুলিশ সদস্যরা।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ বা দখলের চেষ্টা করা হলে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

  • সোনারগাঁয়ে ছেলের আত্মহত্যার শোকে বাবারও মৃত্যু

    সোনারগাঁয়ে ছেলের আত্মহত্যার শোকে বাবারও মৃত্যু

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দমদমা গ্রামে পারিবারিক সমস্যার জেরে উজ্জ্বল নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন উজ্জ্বল। এসব সমস্যার ভার সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
    এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে উজ্জ্বলের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শোকাহত অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
    একই পরিবারের বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দমদমা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
    স্থানীয়রা বলেন, উজ্জ্বল একজন পরিচিত ও মিশুক মানুষ ছিলেন। তার অকাল মৃত্যু এবং সেই শোক সইতে না পেরে বাবার মৃত্যুর ঘটনা সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

  • মিষ্টিতে ক্যামিকেল রং, ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন: সোনারগাঁয়ে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

    মিষ্টিতে ক্যামিকেল রং, ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন: সোনারগাঁয়ে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

    নিউজ সোনারগাঁ : সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিষ্টিতে ক্যামিকেল রং ব্যবহার ও ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন সংরক্ষণের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়।
    বুধবার (১৩ মে ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক।
    অভিযানকালে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন হাবিবপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানা ও ফার্মেসিতে তদারকি করা হয়। এ সময় “আদি মিষ্টি ভুবন” নামের একটি উৎপাদন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, মিষ্টিতে ক্যামিকেল রং মেশানো এবং বিভিন্ন পোকার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এছাড়া “ভাই ভাই পোল্ট্রি ফিড ও মেডিসিন কর্ণার” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
    অভিযানে সহযোগিতা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনের উপপরিদর্শক আনোয়ার-এর নেতৃত্বাধীন একটি টিম এবং জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার প্রতিনিধি। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সোনারগাঁয়ে নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে রহস্য, ডাকাতি নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা?

    সোনারগাঁয়ে নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে রহস্য, ডাকাতি নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা?

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুতিশপুর গ্রামে নজরুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ডাকাতির ঘটনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসু আক্তার আহত হয়েছেন।
    বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম মুতিশপুর গ্রামের মৃত গাজীউল রহমানের ছেলে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে কে বা কারা নজরুল ইসলামের বাড়ির দেয়াল টপকে ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রী নাসু আক্তারকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
    এলাকাবাসী জানান, নজরুল ইসলামের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার একমাত্র ছেলে মারা যায়। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের একটি টিনশেড বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি সুতা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সামান্য আয়েই চলত তাদের সংসার। বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো অর্থ-সম্পদও ছিল না বলে জানান স্থানীয়রা।
    স্থানীয়দের ভাষ্য, নজরুল ইসলামের বাড়িটি কিছুটা নির্জন স্থানে হওয়ায় ঘটনার সময় আশপাশের কেউ কিছু টের পায়নি। তবে বাড়ির দরজা-জানালা ও অন্যান্য আলামত দেখে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা। এটি সাধারণ ডাকাতির ঘটনা নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    আহত নাসু আক্তার অসুস্থ থাকায় তার কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি সুস্থ হলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
    ঘটনার পর সোনারগাঁ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

  • সোনারগাঁয়ে নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে সশস্ত্র ডাকাতি, ৭ লাখ টাকা ও ই-মানি লুটের অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ে নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে সশস্ত্র ডাকাতি, ৭ লাখ টাকা ও ই-মানি লুটের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে সশস্ত্র হামলা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান মালিক।
    এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় জালাল টাওয়ারের ৪র্থ তলায় অবস্থিত ‘টি-এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউসে শনিবার (২ মে ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম সনমান্দি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল্লাহর ছেলে রবিউল আউয়াল পিন্টু (৩০) তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে। তাদের হাতে একটি শর্টগান, কয়েকটি পিস্তল, রামদা, চাপাতি ও ছুরি ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিউল আউযার পিন্টু কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা যায়। সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন বিএনপি নেতা সাথে তার ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
    এসময় হামলাকারীরা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং তাদের জিম্মি করে ফেলে। পরে তারা অফিসের ক্যাশে থাকা নগদ ৭ লাখ টাকা, প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি স্মার্টফোন, সিমকার্ডসহ সিসিটিভি ডিভিআর ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
    ভুক্তভোগীর দাবি, লুট হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর সিমে প্রায় ১ কোটি টাকার ই-মানি ব্যালেন্স ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে এ ডাকাতি সংঘটিত করেছে।
    এ ঘটনায় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।