Tag: বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

  • বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হামলা ডন বজলুল

    বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হামলা ডন বজলুল

    নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে টেন্ডারে বিরোধ নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

    রোববার দুপুর ১টার দিকে বন্দর উপজেলার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের তীর সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান-এর দিকে, যিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে জানা গেছে।

    প্রবীণ এ নেতার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তার একটি পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় বন্দর থানা পুলিশের চার সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনেই তাকে মারধর করা হয়।

     

     

    আহত আতাউর রহমান মুকুল সাংবাদিকদের জানান, বন্দরের হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক সরবরাহের একটি টেন্ডার আমরা পেয়েছি। আজকে ওয়ার্ক অর্ডারে সইয়ের শেষ দিন ছিল। সম্ভাব্য ঝামেলার আশঙ্কায় থানায় জিডি করে চারজন পুলিশ সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতা বজলুর রহমান ও তার নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন লোক অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং দুই পুলিশ সদস্যকেও মারধর করে।

    অভিযুক্ত সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগপন্থী আলাউদ্দিন একটি ঠিকাদারি কাজ নিয়েছে। মুকুল তার পক্ষ নিয়ে কাজ করতে আসেন। এতে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হেনস্তা করেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

     

     

    বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কাজ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল, তবে পুলিশ সদস্যদের মারধরের কোনো তথ্য পাইনি। ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

  • বন্দর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

    বন্দর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

    নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসর মাকসুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম।

    তবে তাৎক্ষনিক বিস্তারিত জানা যায়নি।

    এরআগে গত বছরের ২০ জুন স্ত্রীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করে মাকসুদ চেয়ারম্যানকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

    পরে ২৪ জুন বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ মাসের জামিন দিলে তিনি ২৫ জুন কারামুক্ত হন।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে মুছাপুর ইউনিয়নে নিজের ও পরিবারের আধিপত্য বিস্তার করেছে।

    স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে মুছাপুর এলাকায় দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়েছেন মাকসুদ ও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ।

    তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় মাথায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে থাকা মাকসুদ হোসেন মুছাপুরে ফিরে এসে শেখ হাসিনার পতনে আনন্দ মিছিল করে। মিষ্টি বিতরন করেন।

    এদিকে ক্ষমতার জোরে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল বন্দর উপজেলার অপসারন হওয়া চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও তার পরিবারসহ তাদের দোসররা।

    গত বছরের ৮ জুন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন মাকসুদ। স্বাধীনতার আগে থেকে এ পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে আছে মুছাপুর ও কুড়িপাড়া এলাকাবাসী।

    এখনো ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনা। বিগত দিনের তাদের কর্মকান্ডে এখনো আতকে উঠতে হয়। এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ৫ আগষ্টে তাদের তান্ডবে মুছাপুর ইউনিয়নবাসীকে আবারো সেই পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়।

    গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী বিজয় উল্লাসের সুযোগে দেশে এক শ্রেনী লোক ব্যাপক তান্ডব চালায়। সেই তান্ডবের একটি অংশ মুছাপুর ইউনিয়ন।

    মাকসুদের নির্দেশে তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর নেতৃত্বে মাকসুদ চেয়ারম্যানের পিএস ইকবাল, মনির মেম্বার, মনোয়ার মেম্বার, সোহেল মেম্বারসহ, ৪/৫শ’ লোক নিয়ে বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর মিয়ার বাড়ি, মুছাপুর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বারপাড়া এলাকায় আলী হোসেনের বাড়ি, আনোয়ার মেম্বারের বাড়ি, মালিভীটা এলাকার সফরউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি, শাসনেরবাগ এলাকায় জাপা নেতা রবিউল আউয়ালের বাড়ি, মতিউর রহমানের বাড়ি ও হরিবাড়ি এলাকার সৈয়দ আহাম্মদের বাড়িতে তান্ডব চালায়।

    তারা ভাংচুর চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি বাড়িতে আগুন দিয়ে সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়। তারা সেই ৭১ এর পাক হানাদারের মত বর্বরতা চালায়। মুছাপুর ইউপির একাধিক ভ’ক্তভোগী জানান, মাকসুদ চেয়ারম্যান পরিবারের কাছে জিম্মি তারা যুগের পর যুগ ধরে এ জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হতে পারছেন না।