নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী খননের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিলীনের শঙ্কায় পড়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার হাট। নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ হাটের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সিগঞ্জের চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড মেঘনা নদী খননের কাজ পায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সোনারগাঁয়ের মোমেন সিকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদী ড্রেজিংয়ের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ১০ থেকে ১২টি ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আনন্দবাজার, ছনপাড়া, টেকপাড়া, খামারগাঁও ও পূর্ব দামোদরদী এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আনন্দবাজার হাট শুধু একটি বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এ হাটে কেনাবেচার জন্য আসেন। হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সদস্য ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ রানার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। এ সিন্ডিকেটে সোনারগাঁ ও মেঘনা উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবিসহ শতাধিক ব্যক্তি রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আরও জানান, নদী ড্রেজিংয়ের কাজ দিনের বেলায় অনুমোদিত কাটিং ড্রেজারের মাধ্যমে করার নিয়ম থাকলেও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে রাতে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এতে ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙন শুরু হলে হাটের দোকানপাট, সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক বছরের মধ্যেই আনন্দবাজার হাটের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মোমেন সিকদারের ছোট ভাই মামুন বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার নদী খননের কাজ করছে। আমার বড় ভাই শুধু কাজটি দেখভাল করছেন। যদি কেউ রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু কাটে, তার দায়ভার আমাদের নয়। পারলে নিউজ করে ব্যবস্থা নেন।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবদল নেতা মাসুদ রানা বলেন, “আমি নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। সেখানে বালু কাটার জন্য আমার ড্রেজার ভাড়া দেওয়া হয়েছে।”
