সোনারগাঁ প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। সভাটি দলের সোনারগাঁ থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনের স্মরণে আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক বলেন, পাঁচ বছর আগে রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় তাকে ঘিরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেটি ছিল তাকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্র। তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পরবর্তীতে ফেঁসে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ অবস্থানকালে মামুনুল হককে স্থানীয় একদল ব্যক্তি ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ওই সময় মামুনুল হক ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই নারী তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, ‘তৌহিদী জনতার’ তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা আকুতি-মিনতি করেছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে রয়েল রিসোর্ট এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
রয়েল রিসোর্টের ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ সময় তাকে কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।
মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধ করতে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব মামলা প্রত্যাহার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, কারাবাসের সময় তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যু হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
