একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালের দরজায় যান সুস্থ হওয়ার আশায়। স্বজনেরা সেখানে ছুটে যান প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচানোর আকুতি নিয়ে। হাসপাতাল মানেই তাই মানুষের কাছে শেষ আশ্রয়ের একটি জায়গা। কিন্তু সেই হাসপাতালেই যদি চিকিৎসার বদলে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে মানুষের মনে জন্ম নেয় ভয়, হতাশা এবং অবিশ্বাস।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে বর্তমানে এমনই এক বাস্তবতার কথা শোনা যাচ্ছে।
প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস এই উপজেলায়। এত বড় একটি জনপদের মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ নানা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, একসময় যে হাসপাতাল ছিল সোনারগাঁওবাসীর আস্থার জায়গা, সেটিই এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম।
যে হাসপাতালের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস
সোনারগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাস আজকের নয়। এই অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার যে বীজ বহু বছর আগে রোপিত হয়েছিল, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা।
স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় পরগনার প্রেসিডেন্ট শ্যামাচরণ ভৌমিকের মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওঝা-কবিরাজের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হননি, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের সেই মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরবর্তীতে তিনি ভট্টপুর গ্রামে একটি স্কুল এবং একটি চ্যারিটেবল ডিসপেন্সারি প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই উদ্যোগই এই জনপদে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবার পথকে আরও এগিয়ে দেয়। আজও ভট্টপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এরপর স্বাধীনতার পর সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করে। স্থানীয় মানুষের জমি ও সহযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাসপাতালটির ইতিহাস। মরহুম লাল মিয়া সরকারসহ স্থানীয় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালের জন্য জমি দান করেছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
সময় গড়িয়েছে। ৩০ শয্যার হাসপাতাল উন্নীত হয়েছে ৫০ শয্যায়। নির্মিত হয়েছে নতুন ভবন। অবকাঠামোগত দিক থেকেও হাসপাতালটি একসময় সোনারগাঁওয়ের মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই অবকাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি বেড়েছে চিকিৎসাসেবার মান?
পুরোনো নারকেল গাছগুলো যেন নীরব সাক্ষী
মোগরাপাড়া থেকে বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে হাসপাতালটির অবস্থান। চারপাশে সীমানাপ্রাচীর। আর সেই প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বহু পুরোনো নারকেল গাছ।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে লাগানো এসব গাছ যেন হাসপাতালের উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী।
হাসপাতাল চত্বরে রয়েছে একটি বড় পুকুর। একসময় এই পুকুরের পাড় দিয়ে মানুষ হেঁটে যাতায়াত করতেন। গবাদিপশুও চলাচল করত।
কিন্তু এখন সেই পুকুরের পাড় ভাঙছে। মাছ চাষের কারণে পাড়ের মাটি ক্ষয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানির ঢেউ ও পাড়ের মাটি সরে যাওয়ায় পুরোনো নারকেল গাছগুলোর শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে একের পর এক গাছ উপড়ে পুকুরে পড়ে যাচ্ছে।
গাছগুলো পড়ে যাওয়ার দৃশ্য শুধু একটি গাছের পতন নয়, যেন একটি পুরোনো সময়েরও পতন।
হাসপাতাল চত্বর, নাকি মশার অভয়ারণ্য?
হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে রোগমুক্ত করা। কিন্তু হাসপাতাল চত্বরেই যদি ময়লা-আবর্জনা, ঝোপঝাড় ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের সেপটিক ট্যাংক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিচর্যা হয় না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকে। লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে অনেক জায়গা ঢেকে যায়।
এ ধরনের পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি যেখানে সারা দেশে উদ্বেগের কারণ, সেখানে একটি হাসপাতাল চত্বরের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অসুস্থ মানুষ, অথচ শৌচাগারও অনুপযোগী
একজন বয়স্ক মানুষ, একজন শিশু কিংবা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য হাসপাতালের শৌচাগার কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মৌলিক প্রয়োজন।
কিন্তু রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। ফলে অনেক সময় রোগী ও স্বজনদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
একজন অসুস্থ মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন, তখন তার ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও চিকিৎসাসেবারই অংশ।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসক কোথায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠে আসে হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে ঘিরে।
জরুরি বিভাগ এমন একটি জায়গা, যেখানে কয়েক মিনিটের দেরিও কখনো কখনো রোগীর জীবনে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় সেখানে প্রত্যাশিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না।
চিকিৎসকের পরিবর্তে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা ওয়ার্ড বয় দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে।
সেলাই করা, ইনজেকশন দেওয়া, শ্বাসকষ্টের রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া কিংবা জরুরি ওষুধ প্রয়োগের মতো কাজ প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এখানে প্রশ্ন কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
যে সেবা ছিল, সেটিও কি হারিয়ে যাচ্ছে?
একসময় সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ ছিল। বর্তমানে এসব সেবার কিছু অংশ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডেন্টাল ইউনিটের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবাও নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে রোগীদের অভিযোগ।
প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
একসময় এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থাও ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে জটিলতা দেখা দিলে অনেক গর্ভবতী নারীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন প্রসূতি মাকে যখন রাতের বেলায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হয়, তখন তার স্বজনদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়, সেটি কাগজে-কলমে হিসাব করা যায় না।
সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিকে?
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হন, সেটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সঙ্গে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যোগসাজশ রয়েছে। নানা অজুহাতে রোগীদের বাইরে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
অবশ্য এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অভিযোগের ধোঁয়াশার মধ্যে টিকে থাকতে পারে না।
অ্যাম্বুলেন্স: বিপদের সময় আরেক বিপদ
রোগী যখন সংকটাপন্ন, তখন অ্যাম্বুলেন্সই হতে পারে জীবন রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও এর ভাড়া নিয়ে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। কখনো ২ হাজার, কখনো ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দরকষাকষির পরও অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় বলে স্বজনদের দাবি।
একজন দরিদ্র পরিবারের মানুষ যখন তার স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করা তার জন্য কতটা নির্মম, তা সহজেই অনুমেয়।
তাই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া, রসিদ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা কোথায়?
চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে শুধু রোগের সঙ্গে লড়তে হয় না, অনেক সময় নিজের সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও পকেটমারির অভিযোগ পাওয়া যায়। রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকর নজরদারি এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
খাতায় রোগী, বাস্তবে কতজন?
হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও উপস্থিতির সংখ্যা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
কাগজে-কলমে বেশি রোগী দেখানো হলেও বাস্তবে সিটে কম রোগী থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ সরকারি হাসপাতালের রোগী সংখ্যা, ওষুধ, খাবার, জনবল ও বাজেটের সঙ্গে এসব তথ্য সরাসরি সম্পর্কিত।
তাই রোগী ভর্তি ও উপস্থিতির তথ্য নিয়মিতভাবে যাচাই করা দরকার।
রাজনীতি নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা
হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কেউ যদি দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখান, তাহলে তার প্রভাব পড়ে সরাসরি রোগীর ওপর।
সরকারি হাসপাতালে পদ থাকা আর হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা এক বিষয় নয়।
একজন চিকিৎসক কোথায় পোস্টেড, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন কি না।
নয় মাসের ক্ষোভ, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়
এই হাসপাতালের অনিয়ম ও দুরবস্থা নিয়ে গত প্রায় নয় মাস ধরে লেখালেখি ও প্রতিবাদ চলছে। জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ ও সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত অভিযোগের পরও কি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এসেছে?
যদি না এসে থাকে, তাহলে কোথায় সমস্যা?
পরিদর্শনের অভাব? জবাবদিহিতার অভাব? নাকি অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত হচ্ছে না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।
ভয় নয়, দরকার সত্য বলার পরিবেশ
একটি সরকারি হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ হওয়া উচিত নয়। সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ কিংবা সাধারণ রোগীর প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে।
সত্য তুলে ধরতে গিয়ে যদি কেউ ভয় পান, তাহলে সেটি আরও বড় উদ্বেগের বিষয়।
কারণ যেখানে প্রশ্ন করা যায় না, সেখানে অনিয়ম সহজেই বেড়ে ওঠে।
মানুষ হাসপাতাল চায়, সিন্ডিকেট নয়
সোনারগাঁওয়ের মানুষ বড় কোনো দাবি করছেন না।
তারা চান জরুরি বিভাগে চিকিৎসক থাকুক।
চান প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাক।
চান পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সচল থাকুক।
চান প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত হোক।
চান সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হোক।
চান হাসপাতালের চত্বর পরিষ্কার থাকুক।
চান রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
আর সবচেয়ে বেশি চান, সরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের যেন অযথা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটতে না হয়।
শেষ কথা
সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু একটি ভবন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, প্রত্যাশা ও অধিকার।
যে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পেছনে স্থানীয় মানুষের অবদান রয়েছে, যে হাসপাতাল একসময় হাজারো মানুষের চিকিৎসার ভরসা ছিল, সেই হাসপাতাল কোনোভাবেই অবহেলা, অনিয়ম কিংবা স্বার্থান্বেষী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে না।
অভিযোগগুলো সত্য হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যেসব অভিযোগ সত্য নয়, সেগুলোরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কঠোর তদারকি।
সোনারগাঁওয়ের ছয় লাখ মানুষের স্বাস্থ্য কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়। একজন রোগীর জীবন, একজন মায়ের নিরাপদ প্রসব, একজন শিশুর চিকিৎসা কিংবা একজন বৃদ্ধের শেষ আশ্রয় কোনো সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে পারে না।
সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবার মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। হাসপাতালের দেয়ালে শুধু নতুন রং নয়, ফিরে আসুক সেবার প্রাণ। ফিরে আসুক মানুষের বিশ্বাস।
বিশেষ করে, সোনারগাঁওয়েরই সুযোগ্য ভূমিপুত্র হিসেবে বর্তমানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার আন্তরিক উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতায় দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ তৈরি হবে, এমন প্রত্যাশা সোনারগাঁওবাসীর। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ।
কারণ হাসপাতালটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি সোনারগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের। আর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
Tag: সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সেবার নামে প্রহসন
-

সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সেবার নামে প্রহসন, অনিয়ম দূর্ভোগের করুন চিত্র.. হাজী মোহাম্মদ মহসিন