Tag: সোনারগাঁয়ে লম্বা হচ্ছে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রার্থীর সংখ্য

  • সোনারগাঁয়ে লম্বা হচ্ছে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা

    সোনারগাঁয়ে লম্বা হচ্ছে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা

    নিউজ সোনারগাঁ: আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা গত ৫ তারিখে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা নেন অন্তভর্তি সরকার। অন্তভর্তি সরকারের প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলে দেশের নির্বাচনের জন্য বিএনপি সহ অন্যান্য সমামনা দলগুলো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। গত মাসে অর্ন্তবতিকালীন সরকারের প্রধান লন্ডনে তারেক জিয়ার সাথে বৈঠক করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভব্য তারিখ ঘোষনা করেছেন। এদিকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে ধানের শীর্ষের মনোনয়ন প্রার্থির সংখ্যাও লম্বা হচ্ছে। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে হাফ ডজনের বেশী মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়নের জন্য মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, ওয়ালিউর রহমান আপেল, ওয়াহিত ইমতিয়াজ বকুল, আশা ইস্কান্দার ও মুজাহিদ মল্লিক। তবে আশা ইস্কাদার এর বিষয়টি এখনো পরিস্কার না হলে চাউর আছে তিনি জিয়া পরিবারের ও সোনারগাঁয়ের মেয়ে পুত্রবধূ হওয়ায় তার নাম সামনে আসছে।

    দলীয় সুত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে যে ৭জন বিএনপি থেকে মনোনয়নের জন্য মাঠে গণসংযোগ করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আছেন সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম। রেজাউল করিম বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম ও নেতাকর্মীদের পাশে দেখা না গেলেও ৫ই আগষ্টের পর তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিগত দিনে তিনি তিনবারের এমপি ছিলেন সে কারণে দলীয় নেতাদের পরিচিত মুখ আর সে কারণে রেজাউল করিমের মনোনয়নের জন্য মাঠে কাজ করছেন। তবে বয়সের কারণে তিনি আগের মতো দলের নেতৃত্ব ও সভা সমাবেশে উপস্থিত কথা ও চলাচল করতে পারেন না বলে জানান নেতাকর্মীরা।

    এদিকে, ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন সোনারগাঁ থেকে মনোনয়নের জন্য সোনারগাঁয়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেন দলের হাইকমান্ড যদি তাকে সোনারগাঁ থেকে মনোনয়ন দেন তাহলে তিনি এখান থেকে ধানের শীষ প্রতিকে মাঠে লড়বেন।

    মনোনয়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি গত ১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে সোনারগাঁ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। মান্নান দু:সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে হামলা মামলা ও জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন।  সে কারণে তিনি শতভাগ আশাবাদি দল তাকে এবারও মুল্যায়ন করবে। যদি ৫ তারিখের পর তার নেতাকর্মীদের কর্মকান্ড কিছুটা বির্তকিত হয়েছেন তারপরও মনোনয়নের বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদি।

    ওয়ালিউর রহমান আপেল তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরী শেষ করে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত সময়গুলোতে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে না থাকলে প্রতিবারই মনোনয়নের জন্য মাঠে কাজ করেছেন। এছাড়া সে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বন্ধু ও সর্স্পকে ভায়েরা। সে হিসেবে এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

    অপরদিকে, মনোনয়নের জন্য মাঠে কাজ করছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিত বিন ইমতিয়াজ বকুল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ও কেন্দ্রীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে ব্যক্তিগত সর্স্পক। তার হাতে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ। নেতা হিসেবেও তিনি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। সে কারণে মনোনয়নের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সোনারগাঁয়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন।

    এদিকে, নতুন করে নাম শোনা যাচ্ছে আশা ইস্কাদারের নাম। যিনি শহীদ জিয়া পরিবারের সদস্য ও আহসানউল্লাহ মনির ছেলের বউ। জিয়া পরিবারের হওয়ায় তিনি নাকি সোনারগাঁয়ের বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে চাউর আছে। তবে তিনি সোনারগাঁবাসীর কাছে একেবারেই অপরিচিত মুখ।

     

    এদিকে, মান্নানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুজাহিদ মল্লিক আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ছেড়ে এবার নিজেই মনোনয়নের জন্য মাঠে নেমেছেন। গত কয়েকদিন আগে মুজাহিদ মল্লিক নিজেই ধানের শীষের মনোনয়নের জন্য ঘোষনা দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    বিএনপির সূত্র মতে, চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাবেন তা নির্ধারণ করবেন দলের হাইকমান্ড। তবে ইতোমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঠপর্যায়ে তৎপরতা নির্বাচনী আবহ তৈরি করছে।