Tag: ৯ জনের বিরুদ্ধে এজাহার

  • সোনারগাঁয়ে নারীকে মারধরের পর বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    সোনারগাঁয়ে নারীকে মারধরের পর বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক নারীকে মারধর, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। নিহত নারীর ভাই মো. রাব্বি (২০) এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
    এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোসাঃ মরিয়ম (৩৫) এর সঙ্গে ইকবাল হোসেনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছরের একটি কন্যা ও ১৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
    অভিযোগে বলা হয়, ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
    গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনসহ ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে প্রবেশ করে মাদক সেবন শুরু করেন। মরিয়ম প্রতিবাদ করলে ইকবালের নির্দেশে আরমান, দিপু ও হিরন তাকে দুই হাত ধরে আটকে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ইয়ামিন তাকে কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারেন। এতে তার চোখের নিচে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
    এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, দিপু পিস্তল দিয়ে মরিয়মের ডান হাতের কব্জি ও পিঠে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল দিয়ে তার পিঠে আঘাত করেন। পরে ইয়ামিন তার হাতেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
    পরে আরমানের দেওয়া অজ্ঞাতনামা একটি ট্যাবলেট ইকবাল ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মকে জোর করে খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
    অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মরিয়মকে মৃত ভেবে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
    পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মরিয়মকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
    নিহতের ভাই রাব্বি এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বেআইনি মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
    তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।