Blog

  • সোনারগাঁয়ের সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    সোনারগাঁয়ের সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

     পলাশ শিকদার, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননাসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইটের রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ইনায়া ফাউন্ডেশন

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের হলরুমে ইনায়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সরকার।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনায়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান ভূইয়া, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য আবু ছাদেক মো. এসহাক ও আবু সায়েম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন অতিথিরা।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সরকার বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের ফল। তাদের এ সাফল্য বিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের জন্যও গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, তাদের সৎ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।

    ইনায়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেই জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চলাচলের সুবিধার্থে একটি ছোট ইটের রাস্তার কাজও ইনায়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সামাজিক ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইনায়া ফাউন্ডেশন আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

  • কাঁচপুরের ইউটার্নে ছিনতাইকারীদের দাপট, নিরাপত্তাহীনতায় রাতের যাত্রীরা

    কাঁচপুরের ইউটার্নে ছিনতাইকারীদের দাপট, নিরাপত্তাহীনতায় রাতের যাত্রীরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাড়ের ইউটার্ন এলাকা যেন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই সেখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।

    অভিযোগ রয়েছে, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। কখনো চলন্ত যানবাহনে ঢিল বা ভারী বস্তু ছুড়ে চালককে নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা, ব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    এ সময় বাধা দিতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ২০২৩ সালে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও তার ভাই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

    সর্বশেষ হামলার শিকার এনজিবি আহ্বায়ক

    সবশেষ গত সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে পাঠাও মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে বাসায় ফেরার পথে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাড়ের ইউটার্ন এলাকায় সশস্ত্র ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন নিউ জেনারেশন অব বাংলাদেশ (এনজিবি)-এর আহ্বায়ক মেহরাব হোসেন প্রভাত।

    ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, চলন্ত মোটরসাইকেলে পেছনে বসা প্রভাতকে অন্ধকার থেকে ছুটে এসে মাথায় আঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক ও প্রভাত সড়কে ছিটকে পড়েন।

    মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও প্রভাতের বাম চোয়াল ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। আঘাতের পর তিনি ঠিকমতো চোখে দেখতে পারছিলেন না বলেও জানা গেছে।

    এ সময় ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে পিঠে থাকা ব্যাগটি টানাহেঁচড়া করার সময় ঘটনাস্থলে একটি ট্রাক চলে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে ট্রাকচালক ও হেলপার ট্রাক থেকে নেমে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

    প্রভাতের স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, ট্রাকচালক ও হেলপারের উপস্থিতির কারণেই ওই মুহূর্তে আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি।

    পরে খবর পেয়ে সহকর্মী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসাসেবা সীমিত থাকায় পরে সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন।

    আগেও ঘটেছে প্রাণঘাতী ছিনতাই

    কাঁচপুর সেতু ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত পৌনে ৯টায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. সিফাত তার বন্ধু সাগর শেখ (১৯) বাড়ি ফেরার পথে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। সিফাতের সঙ্গে থাকা দুই হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন সিফাতের বন্ধু ছিনতাইকারীদের হাত থেকে পালিয়ে গেলে সিফাতকে একা পেয়ে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ওই ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে সিফাতের সঙ্গে থাকা নগদ দুই হাজার টাকা ও তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুতই সটকে পড়ে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিফাতের মামা আল-ইমাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীদের আসামি করে মামলা দায়ের করলেও পুলিশ কোনো ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

    এমনকি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে ছয়টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছিল র‍্যাব-১১। আবার আগস্টেও একই এলাকার একটি ঝোপ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও সুইচ গিয়ার উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

    এসব ঘটনায় কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাড়ের অন্ধকার ও নির্জন অংশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    পুলিশি উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

    ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিরাতেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ইউটার্ন এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল বা দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখা যায় না।

    তাদের দাবি, ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে চান না। মামলা বা অভিযোগ করতে গেলে বাড়তি ঝামেলা ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। ফলে প্রকৃতপক্ষে এখানে কতটি ছিনতাই হচ্ছে, তার সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া কঠিন।

    অন্যদিকে, কয়েক বছর ধরেই কাঁচপুর সেতু ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের অভিযোগ উঠে আসছে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছিল।

    তবে সর্বশেষ মেহরাব হোসেন প্রভাতের ওপর হামলার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও অভিযুক্তদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

    তাদের প্রশ্ন—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে যদি সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের দাপট থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

    স্থানীয়দের দাবি, কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিমপাড়ের ইউটার্ন ও আশপাশের অন্ধকার এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি স্থাপন এবং ছিনতাইপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক জানান, “পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। ছিনতাই চক্রকে গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে।”

  • সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, মাদক মামলায় ৩ ও পরোয়ানাভুক্ত ২ জনসহ গ্রেপ্তার ১২

    সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, মাদক মামলায় ৩ ও পরোয়ানাভুক্ত ২ জনসহ গ্রেপ্তার ১২

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক মামলায় ৩ জন, পরোয়ানাভুক্ত ২ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ১ জন এবং মাদকসেবী ৬ জনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
    পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
    গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক মামলায় রয়েছেন শিরিনা আক্তার (৩০), মাসুম (৪৮) ও মো. ইউসুফ (৩২)। পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন মাহিম (২২) ও আলী আক্কাস (২৭)।
    এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে মো. রাব্বি সরকার (২৭), মো. ওমর ফারুক (৪৩), মো. সাদেক হোসেন (২৬), মো. মাসুম আলম (৩০), তৌহিদুর রহমান সিয়াম (২৫) ও মো. রিফাত হোসেন (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
    পুলিশের তথ্যমতে, নিয়মিত মামলায় মো. ছানোয়ার হোসেন (৪৬) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
    সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৮

    সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৮

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক মামলায় এক আসামি ও সাত মাদকসেবীসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
    সোমবার (৩১ আগস্ট) সোনারগাঁ থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়।
    গ্রেপ্তার হওয়া মাদক মামলার আসামি হলেন মো. ফারুক হোসেন (৪৪)। তিনি সোনারপুর এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে।
    এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নুর আলম (৪৮), বকুল হোসেন (২৮), দীন ইসলাম (৩৫), মো. মাসুম রানা (২৯), কবির হোসেন (৩২), মো. রিফাত (২২) ও জহিরুল ইসলাম রাজু (২৭)কে। তাদের মধ্যে কয়েকজন সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এবং মো. রিফাত সিদ্ধিরগঞ্জের মিছিরগঞ্জ কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা।
    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আটজনকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • সোনারগাঁও সরকারি কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান খন্দকার দিল আফরোজার বিদায় সংবর্ধনা

    সোনারগাঁও সরকারি কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান খন্দকার দিল আফরোজার বিদায় সংবর্ধনা

    নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গেলেন সোনারগাঁও সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষাবিদ খন্দকার দিল আফরোজা। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছে কলেজের শিক্ষক পরিষদ।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) সোনারগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে আবেগঘন পরিবেশে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ২৮ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপনা থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গমন করেন।

    সোনারগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আশরাফুজ্জামান অপু, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ মোজ্জাম্মেল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক শেখ মোহাম্মদ আলী আক্কাস।

    অনুষ্ঠানে খন্দকার দিল আফরোজার বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন, প্রাতিষ্ঠানিক অবদান ও কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবু সাইদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদিউজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম হায়দার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনির হোসেন, দর্শন বিভাগের প্রভাষক মাহবুবা ফাতিমা জুঁই, মার্কেটিং বিভাগের আনোয়ার হোসেন, আইসিটি বিভাগের প্রধান আল মামুন সিকদার, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান শাহ আলীসহ শিক্ষক এলিজা আক্তার, সোহেল রানা, জুয়েল মিয়া, নিলুফা ইয়াসমিন, এনামুল গনি, হোসনে আরা পান্না এবং অন্যান্য সহকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, খন্দকার দিল আফরোজা দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। একই সঙ্গে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম বিদায়ী শিক্ষক খন্দকার দিল আফরোজার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অবসরজীবনের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সোনারগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে খন্দকার দিল আফরোজার হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিদায় শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • কোক স্টুডিওর শুটিংয়ে বড় সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগে মানববন্ধন

    কোক স্টুডিওর শুটিংয়ে বড় সরদার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগে মানববন্ধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন বড় সরদার বাড়িতে ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া এবং শুটিংয়ের সময় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁ জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে ‘সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গন’ ও ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোনারগাঁ বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম সূতিকাগার। প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন বড় সরদার বাড়ি জাতীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। অথচ ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র সিজন-৪-এর শুটিংয়ের জন্য সংরক্ষিত এই স্থাপনাটি মাত্র ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    তাদের অভিযোগ, বিশেষজ্ঞদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত চার দিন ধরে শুটিংয়ের কাজে ভারী লাইটিং সরঞ্জাম, বড় জেনারেটরসহ বিভিন্ন ভারী সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। স্থাপনার দেয়াল ও কাঠামোগত অংশে পেরেক, গজাল ও রড ঠুকে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

    সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস বলেন, বড় সরদার বাড়ি সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণে অতীতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এমন একটি স্পর্শকাতর জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা কীভাবে নামমাত্র মূল্যে বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

    শুটিংয়ের কারণে দৃশ্যমান ক্ষতির পাশাপাশি স্থাপনাটির ভেতরের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করার দাবি জানান তিনি।

    সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বড় সরদার বাড়ি শুধু ইট-কাঠের স্থাপনা নয়; এটি সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। বাণিজ্যিক স্বার্থে জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পেছনে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা তদন্ত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং সুজন সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সুবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সহসভাপতি কবি রহমান মুজিব এবং সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, “আমরা সঠিক ও নিয়মানুসারেই কোক স্টুডিওর কাছে ৬ লাখ টাকা ভাড়ায় বড় সরদার বাড়িটি ভাড়া দিয়েছি। তবে বড় সরদার বাড়ি ভাঙার বিষয়টি সঠিক নয়। শুটিংয়ের ফলে এমন অবস্থা হয়নি; এ অবস্থা পূর্ব থেকেই ছিল। তারপরও আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী মেইনটেন্যান্সের কাজ পরিচালনা করছি।

  • সোনারগাঁয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর হুগলা এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২১ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে সোনারগাঁ থানা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
    অভিযুক্তরা হলেন চর হুগলা এলাকার মো. ইয়ামিন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম খলিল (৩০)।
    ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার স্বামী প্রায় দেড় বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    অভিযোগে বলা হয়, এ সময় মো. ইয়ামিন জোরপূর্বক ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন এবং মো. ইব্রাহিম খলিল মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
    পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ইয়ামিন তাকে প্রায় আট মাস ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইয়ামিন তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
    গর্ভপাত করতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর এবং পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
    ভুক্তভোগী জানান, বর্তমানে তিনি তিন সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
    সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
    তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

  • সোনারগাঁয়ে ২ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    সোনারগাঁয়ে ২ হাজার ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বিসমিল্লাহ সিএনজি পাম্পের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
    গ্রেপ্তার নারী হলেন দুলু বেগম (৬০)। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার গোলবাড় এলাকার মৃত আলী নেওয়াজের স্ত্রী।
    পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. সফিউদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুলু বেগমকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
    এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
    সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার

    সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত তিনজন ও মাদকসেবনের অভিযোগে সাতজনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সোনারগাঁ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তার পরোয়ানাভুক্ত তিনজন হলেন, পেকিরচর এলাকার দিলু মিয়ার ছেলে আরিফ, কাঁচপুর এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে মো. তোফাজ্জল ওরফে তুহিন এবং আষাড়িয়ার চর এলাকার জিন্নত আলীর ছেলে সাদেকুর রহমান (৩৫)।

    এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার সজল (২৮) ও রিফাত (২৮), সোনারগাঁয়ের মহজমপুরের মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২), চৌরাপাড়ার ইব্রাহিম (৩০), রংপুরের বচ্চুনা এলাকার মো. নাজমুল (২০), শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকার মো. মাসুম রানা (৪০) এবং রংপুরের মডেলপাড়া এলাকার হাসান (১৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    সোনারগাঁ থানা পুলিশ আরও জানায়, মাদকসেবন ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালও চলমান থাকবে।

  • সোনারগাঁয়ে দুই হাসপাতালকে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, কর্মচারীর কারাদণ্ড

    সোনারগাঁয়ে দুই হাসপাতালকে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, কর্মচারীর কারাদণ্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে একটি হাসপাতালের এক কর্মচারীকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
    রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের নয়াপুর ও জামপুর ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নির্দেশনায় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
    অভিযান সূত্রে জানা যায়, নয়াপুর জেনারেল হাসপাতাল ও আল সিফা হাসপাতালে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, সেবার মূল্য তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা, নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন কার্যক্রম পরিচালনা এবং ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
    এছাড়া, আল সিফা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত কর্মচারী দিয়ে প্যাথলজি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
    এসব অনিয়মের দায়ে আল সিফা হাসপাতালকে ২ লাখ টাকা এবং নয়াপুর জেনারেল হাসপাতালকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব জরিমানা করা হয়।
    এ সময় আল সিফা হাসপাতালের এক কর্মচারী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্যাথলজি পরীক্ষা পরিচালনা করায় তাকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
    অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে সোনারগাঁ উপজেলার অন্যান্য বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
    অভিযানকালে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্তসহ সোনারগাঁ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সোনারগাঁয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ৫ যানবাহনকে জরিমানা

    সোনারগাঁয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ৫ যানবাহনকে জরিমানা

    নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে শব্দদূষণকারী পাঁচটি যানবাহনের মালিককে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।
    রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও সাদীপুর সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন সরকার। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক টিটু বড়ুয়া।
    এ সময় সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আতাউর রহমানসহ সোনারগাঁ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন সরকার জানান, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬-এর ৮(১) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫(২) ধারায় পাঁচটি শব্দদূষণকারী যানবাহনের মালিককে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনগুলোতে ব্যবহৃত পাঁচটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।
    তিনি আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সোনারগাঁয়ের যেসব এলাকায় সোমবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

    সোনারগাঁয়ের যেসব এলাকায় সোমবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

    নিজস্ব প্রতিবেদক :
    সোনারগাঁ প্রতিনিধি: লাইনের ওপর গাছপালা কাটাকাটি ও রাইট অব ওয়ে (Right of Way) কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দুটি এলাকায় প্রায় সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
    নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মেঘনাঘাট সাব-জোনাল অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঝাউচর ও কান্দারগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
    যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে:
    ঝাউচর: সম্পূর্ণ এলাকা
    কান্দারগাঁও: সম্পূর্ণ এলাকা
    বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। আবার কাজের প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা কম-বেশিও হতে পারে।
    সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • সোনারগাঁয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১৮

    সোনারগাঁয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১৮

    সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দিনব্যাপী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।
    নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মাদক মামলার দুই আসামি গোলজার হোসেন (৩৫) ও সাগর (২২) এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মো. আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
    এ ছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে সজল, রিফাত, রবিন, আবুল হোসেন, রাজু, মোক্তার হোসেন, আক্তার হোসেন, আজিজুল হক, আলী আকবর, কাওসার, আল আমিন, বাছেদ, আবুল কালাম, তৌফিকুল ইসলাম শাওন ও সোহাগসহ আরও ১৫ জনকে আটক করা হয়।
    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ১৫ জনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের জন্যও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
    সোনারগাঁ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    🔴 নজরদারিতে সোনারগাঁ
    পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • সোনারগাঁয়ের ২৩ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

    সোনারগাঁয়ের ২৩ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

    নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের কারণে এসব এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হবে।

    বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার সম্ভাব্য এলাকাগুলো হলো— মুগারচর, টেকপাড়া, মনাইরকান্দি, রামগোবিন্দের গাঁও, চৌধুরীর গাঁও, তাতুয়াকান্দি, চরগোয়ালদি, ভিটিকান্দি, হোসেনপুর, চেলারচর, দশদোনা, নয়াগাঁও, গজারিয়া পাড়া, একরামপুর, নবীনগর, এলাহিনগর, ইসলামপুর, গোবিন্দপুর, ফতেপুর, ফরদি, বানিয়াচং, শম্ভুপুরা ও দড়িগাঁও।

    নির্ধারিত সময়ে এসব এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগেই সম্পন্ন করে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এসব এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে।

  • রয়েল রিসোর্টে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল: মামুনুল হক

    রয়েল রিসোর্টে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল: মামুনুল হক

    সোনারগাঁ প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। সভাটি দলের সোনারগাঁ থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনের স্মরণে আয়োজন করা হয়।

    মামুনুল হক বলেন, পাঁচ বছর আগে রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় তাকে ঘিরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেটি ছিল তাকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্র। তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পরবর্তীতে ফেঁসে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

    ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ অবস্থানকালে মামুনুল হককে স্থানীয় একদল ব্যক্তি ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ওই সময় মামুনুল হক ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই নারী তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

    সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, ‘তৌহিদী জনতার’ তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা আকুতি-মিনতি করেছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে রয়েল রিসোর্ট এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

    রয়েল রিসোর্টের ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ সময় তাকে কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।

    মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধ করতে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব মামলা প্রত্যাহার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, কারাবাসের সময় তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যু হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমী সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • সোনারগাঁয়ে সাংবাদিক সুমনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

    সোনারগাঁয়ে সাংবাদিক সুমনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সদস্য, দৈনিক সংবাদের সোনারগাঁ প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের ভয়, চাপ বা হয়রানি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
    বক্তারা আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে মামলার অভিযোগ ও এর প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকৃত অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।
    এ সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পক্ষপাতহীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সাংবাদিকরা।
    মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।