Category: আরো খবর

  • সোনারগাঁয়ে গরুর মাংস ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত ৩

    সোনারগাঁয়ে গরুর মাংস ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত ৩

    সোনারগাঁয়ে গরুর মাংস ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত ৩
    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গরুর মাংস ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে অজ্ঞাত ছিনতাইকারী দল। এ সময় ছিনতাইকারীদের হামলায় আমিন (১৬) নামে এক কর্মচারী গুরুতর আহত এবং মো. হযরত (৪০) ও ওয়াসিম (৪০) আহত হয়েছেন।
    শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেরিখালী ব্রিজের নিচে ইউটার্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, তার তিন কর্মচারী পিকআপযোগে গজারিয়া এলাকায় গরু কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে একটি সিএনজিতে করে আসা ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত পিকআপের গতি রোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং গামছায় মোড়ানো ১০ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলায় আমিন গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
    সোনারগাঁও থানার ওসি মহিবুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • তিন হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনের ফাঁসির দাবিতে নয়াগাঁওয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    তিন হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনের ফাঁসির দাবিতে নয়াগাঁওয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

    নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম:

    সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও তিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নয়াগাঁওবাসী। আজ বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও পরে নয়াগাঁও সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আলাউদ্দিন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় নয়াগাঁও গ্রামে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার নেতৃত্বে ২০২১ সালের ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি দুইদিনে টানা হামলায় সাইদুল (২৬), সমর আলী (৫২) ও আলী আহাম্মদ (৭০) নামে তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ওই হামলায় অন্তত ৩০টি বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন।

    স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখনো পর্যন্ত আলাউদ্দিনের বিচার নিশ্চিত হয়নি। এমনকি গত ৫ তারিখের পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিলেও সম্প্রতি কয়েকজন বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় তিনি পুনরায় গ্রামে ফিরতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। গ্রামবাসীর আশঙ্কা, আলাউদ্দিন যদি আবার এলাকায় ফিরে আসে, তাহলে পূর্বের মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হবে।

    তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলাউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী যেন এলাকায় ফিরে আসতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলাউদ্দিনের ফাঁসির দাবি জানান তারা।

  • সোনারগাঁয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছত্রছায়ায় খাস জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ

    সোনারগাঁয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ছত্রছায়ায় খাস জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ

    নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাদুরচর এলাকায় সরকারি খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার রাস্তা-ঘাট ও কৃষিজমি।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আস্থা ফিড কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেনের মাধ্যমে এই মাটি কাটা ও বিক্রি করা হচ্ছে। ইকবাল হোসেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতাকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

    স্থানীয়রা জানান, ওই চক্রটি জ্যোৎস্না বেগম নামের এক নারীর ৩৬ শতাংশ ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়। এছাড়া লাদুরচর মৌজার প্রায় ২৪০ শতাংশ সরকারি খাস জমি থেকে তিন লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় আস্থা ফিড কোম্পানিতে। জমিগুলো দখলে নিতে ভুয়া দলিল তৈরি করারও অভিযোগ রয়েছে।

    এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ইকবাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ কৃষকদের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মামলা ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মুখোমুখি হতে হয়।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আস্থা ফিড কোম্পানির কর্মকর্তা শরীফ বলেন, “আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমি থেকেই মাটি কেটেছি। আমাদের কোনো কর্মী রাজনীতি করলে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।”

    নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নবনিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। মাটি কাটার বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

    সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন জানান, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আপাতত মাটি কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।”

  • বন্দরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট, ১০ জন আহত

    বন্দরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট, ১০ জন আহত

     

    বন্দরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বন্দর থানার ২৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি সফর আলী (৫০) সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় বন্দর থানার ২৬ নং ওয়ার্ডের রামনগর ইস্পাহানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে ইছাক (৪০), রশিদ (৪০), জহিরুল (৩২), শফিকুল (৪৫), মামুন (৩৫), ও বেলায়েত (১৬) নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর পক্ষের আহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষনিক ভাবে জানা যায়নি।। আহতদের মারাত্মক অবস্থায় উদ্ধার করে বন্দর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এ ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা সফর আলীর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড সোনাচড়া এলাকার মৃত মো. আলী কিছু দিন পূর্বে তালতলা রি-রোলিং মিলে প্লেট পড়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাদী স্বামী সফর আলী ও এড. বিল্লাল হোসেন মধ্যস্থতায় মো. আলীর স্ত্রীকে দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেন।

    এরপর থেকে, মৃত মো. আলীর স্ত্রী থেকে কিছু ব্যক্তিরা চাঁদা দাবি করতে থাকে। এই চাঁদা দাবির ঘটনা জানতে পেরে বাদী সফর আলী প্রতিবাদ করলে, রাসেল ও আল আমিন গংদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও তর্কাতর্কী হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত শুক্রবার বিকেলে রামনগর ইস্পাহানী এলাকায় রাসেল, আল আমিন, অমানত, মনির, মামুন ডাকাতসহ অজ্ঞাত নামা ৫-৭ জন সন্ত্রাসী ধারালো দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সফর আলী’র বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বসত বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ভাংচুর করে এবং ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বন্দর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     

  • সোনারগাঁয়ে চাঁদা না পেয়ে কারখানায় তালা দিলেন সাবেক চেয়ারম্যান বিডিআর এর ভাগিনা বিএনপি নেতা গাফ্ফার

    সোনারগাঁয়ে চাঁদা না পেয়ে কারখানায় তালা দিলেন সাবেক চেয়ারম্যান বিডিআর এর ভাগিনা বিএনপি নেতা গাফ্ফার

    নিউজ সোনারগাঁ টুয়েন্টিফোর ডটকম: সোনারগাঁয়ে চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (বিডিআর) এর ভাগিনা কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাফ্ফার এর বিরুদ্ধে।

    জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবাবায়ক আব্দুল গাফফারের সঙ্গে সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. শফিউদ্দিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শফিউদ্দিনের বাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় তাঁর একটি প্লাস্টিক রিসাইকেলিং কারখানা রয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ জন কাজ করেন। দুই মাস ধরে গাফফার তাঁর বাড়ির ম্যানেজার সাদেক মিয়ার মাধ্যমে শফিউদ্দিনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ টাকা না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেবে না বলে হুমকি দেন গাফফার। চাঁদার টাকা না পেয়ে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাফফারের নেতৃত্বে সাদেক মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, সৈকত, শাওন, শুভসহ ১০-১২ জনের একটি দল কারখানার শ্রমিকদের বের করে দিয়ে শফিউদ্দিনের

    সমকাল

    কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সিসি টিভি ফুটেজ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এ ঘটনায় শফিউদ্দিনের স্ত্রী নারগিছ সুলতানা গত মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানা ও সেনাবাহিনীর বিশনন্দী সেনাক্যাম্পে অভিযোগ করেছেন।

    মো. শফিউদ্দিন জানান, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের প্রভাবে তাঁর ভাগনে গাফফার এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে তিনি তাঁর কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া গাফফারের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল কাউয়ুমের ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে দখল করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মের বিচার দাবি করেন তিনি।

    মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গাফফার ১০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ ওই কারখানায় তালা ঝুলিয়েছে।

    সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল বারী বলেন, কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • গরমে মুমিনের করণীয়

    গরমে মুমিনের করণীয়

    প্রকৃতির পরিবর্তন ও শীত-গ্রীষ্মের আবর্তন আল্লাহর হুকুমে হয়। আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বকে একটি প্রাকৃতিক নিয়মে চালিত করেন। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। এই ঘোরার সময় পৃথিবী সূর্যের দিকে সামান্য হেলে থাকে। পৃথিবী আবার তার নিজ অক্ষেও ঘোরে, তাই বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ কখনো সূর্যের কাছে চলে যায়, আবার কখনো উত্তর গোলার্ধ। যখন যে অংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে তখন সেই অংশ খাড়াভাবে বেশিক্ষণ ধরে সূর্যের আলো ও তাপ পায়। আর তখন সেই অংশে বেশি গরম পড়ে। এ সময় থাকে গ্রীষ্মকাল। একটা অংশ সূর্যের কাছে থাকা মানে তার উল্টো দিকের অংশটা থাকবে সূর্য থেকে দূরে। আর দূরে থাকলে সেই অংশটা কম আলো ও তাপ পাবে। তখন সেই অংশে থাকে শীতকাল। শীত ও গ্রীষ্মের ব্যাপারে হাদিসের ব্যাখ্যা হলো, শীত ও গ্রীষ্মের তীব্রতা আসে জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে।
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করে বলে, হে রব, আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। মহান আল্লাহ তখন তাকে দুটি নিশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি নিশ্বাস শীতকালে, আরেকটি গ্রীষ্মকালে। কাজেই তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা পেয়ে থাকো।’ (বুখারি : ৩২৬০)
    তীব্র তাপদাহে মানুষ ও পশু-পাখি হাহাকার করছে। এমন প্রচণ্ড গরমে এক পশলা বৃষ্টির জন্য মুমিনরা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। শস্য ফলানোসহ পশু-পাখির খাবারের জন্য যেমন বৃষ্টি দরকার, তেমনি তীব্র তাপপ্রবাহে সৃষ্ট নানা জটিলতা ও কষ্ট থেকে মুক্তি পেতেও আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি খুবই প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরই দরবারে বৃষ্টি কামনা করে নামাজ পড়া ও দোয়া করা সুন্নত। ইসলামি পরিভাষায় এই দোয়ার নাম ‘ইসতিসকা’ বা সিক্তকরণের দোয়া এবং নামাজের নাম ‘সালাতুল ইসতিসকা’ বা ‘বৃষ্টি কামনায় নামাজ’। বস্তুত যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা নানা প্রতিকূলতায় পাপমোচনের জন্য আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ অন্তরে তওবা-ইস্তেগফার করতে হয়। কেউ অন্যের হক বা অধিকার নষ্ট করলে, তা ফেরত দিয়ে দোয়া করতে হয়। তবেই আল্লাহ তায়ালা মানুষের মনোকামনা পূরণ করেন এবং বৃষ্টি দিয়ে নিসর্গ সিক্ত করেন। এ নামাজ মাঠে গিয়ে আদায় করার আগে একাধারে তিন দিন রোজা রাখতে হয়। তারপর এলাকার ইমাম ও মুসল্লিরা চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিনে মাঠে গিয়ে নামাজ আদায় করবেন। মাঠে যাওয়ার আগে এবং পরে সবাই তওবা করবেন। তওবা করলে বৃষ্টি বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
  • ঈদের ছুটি কল্যাণময় হবে যেসব আমলে

    ঈদের ছুটি কল্যাণময় হবে যেসব আমলে

    পবিত্র মাহে রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ অবসর মিলছে ধর্মপ্রাণ মানুষের। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে, আসন্ন ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি সব শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী এবং চাকরিজীবী মানুষ। ঈদের এ ছুটিতে খুব সহজেই যে কাজগুলো করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন সওয়াব অর্জন করা যায়, এমন কয়েকটি কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
    পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া : শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন অনেক ইবাদত আছে, যেগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না; অথচ তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনই একটি বিষয় হচ্ছে আপন পরিবারস্থ লোকদের সময় দেওয়া। পরিবারের প্রতি উদাসীন ও অমনোযোগী থাকা একটি পাপ। কর্মজীবী ও চাকরিজীবী মানুষ কর্মের ব্যস্ততায় পরিবারকে যথাযথ সময় দিতে পারে না; তাই ছুটির এ সময়গুলোতে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুবর্ণ একটি সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিবারকে সময় দিতেন, তাদের সঙ্গে আনন্দ-বিনোদনে শরিক হতেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে আনন্দ দেওয়ার জন্য তার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) এক সফরে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। বহুদিন পর; আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা।’ (আবু দাউদ : ২৫৭৮)
    আত্মীয়স্বজনের খবর নেওয়া : একজন সফল মানুষের মধ্যে যেসব ভালো গুণ থাকতে হয়, তার অন্যতম একটি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আর তাদের খোঁজখবর নেওয়া ও সাধ্য অনুযায়ী তাদের জন্য খরচ করা। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুফল, দুনিয়ার জীবনেও পাওয়া যায়, এক হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি : ৫৯৮৫)
  • পরকালের আজাব থেকে মুক্তির আমল

    পরকালের আজাব থেকে মুক্তির আমল

    পবিত্র রমজানের তৃতীয় দশক চলছে। এই দশক জাহান্নাম হতে মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দশ দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের প্রচুর পরিমাণে জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করবেন। তাদের নরক হতে নিষ্কৃতি প্রদান করবেন। তবে কিছু আমল জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের সহায়ক হতে পারে। মহান আল্লাহর মুক্তি দানকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সেগুলোর মধ্য হতে অন্যতম হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ- নিষেধ মেনে চলা। তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ নিষেধ মেনে চললে এবং তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং জান্নাত লাভ করা যাবে। এ ব্যাপারে কুরআনে এসেছে, ‘যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মতো চলে, তিনি তাকে জান্নাতগুলোতে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতঃস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হলো বিরাট সাফল্য। পক্ষান্তরে যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা নিসা: ১৩-১৪)
    জাহান্নাম হতে মুক্তি পাওয়ার আরেকটি উপায় হলো রমজান মাসের রোজা রাখা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে এই দিনের বদলে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন’ (মুসলিম: ২৬০১)।
    হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) আরও বলেন, মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিনে ও রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন’ (মুসনাদে আহমদ)। অন্য একটি হাদিসেও রোজাকে জাহান্নাম হতে প্রতিরক্ষার ঢাল বলে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রোজা ঢালস্বরূপ’ (বুখারি : ১৯০৪)।
    রোজা পালন করার কারণে মহান আল্লাহ কেবল জাহান্নাম হতে মুক্তি দেবেন তা নয়, বরং রোজাদারদের জান্নাতেও প্রবিষ্ট করাবেন। এমনকি রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি স্বতন্ত্র ফটক রয়েছে। এই ফটক দিয়ে কেবল তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। হজরত সাহল (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন নিশ্চয়ই জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি ফটক রয়েছে, কেয়ামতের দিন এই ফটক দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? তখন রোজাদারগণ দাঁড়াবেন এবং জান্নাতে গিয়ে প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের প্রবেশ করা শেষ হবে তখন ফটকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।’ (বুখারি : ১৮৯৬)
    জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের অন্য আরেকটি উপায় হলো মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা জীবন চলার পথে আমাদের অনেক গুনাহ হয়। প্রচুর অন্যায়, অপরাধ ও পাপ হয়ে যায়। এ জন্য এসব অপরাধ হতে ক্ষমাশীল আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা না করলে আমাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে। তাই জাহান্নাম হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও’। আবার কোনো ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের প্রার্থনা করলে জাহান্নাম বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়ে দাও’ (ইবনে মাজাহ: ৪৩৪০)।
  • বরিশালের প্রাচীন কসবা ‘আল্লাহর মসজিদ’

    বরিশালের প্রাচীন কসবা ‘আল্লাহর মসজিদ’

    মসজিদ মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্র। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলমানরা যেখানেই নিজেদের বাসস্থান গড়ে তোলে সেখানেই তৈরি করে এক বা একাধিক মসজিদ। আর এই মসজিদ ঘিরেই আবর্তিত হয় মৌলিক ইসলাম চর্চা। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আমাদের দেশে এখনও রয়েছে অসংখ্য পুরোনো ঐতিহাসিক মসজিদ। যার মধ্যে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বরিশালের কসবা আল্লাহর মসজিদও একটি। বরিশাল জেলাধীন গৌরনদী উপজেলার বড় কসবা গ্রামে অর্থাৎ বর্তমান গৌরনদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত।
    এ মসজিদ নির্মাণের সঠিক তারিখ সংযুক্ত কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তবে জনশ্রুতি আছে, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে এই জঙ্গলকে চাষাবাদের উপযোগী করার জন্য এক দল লোক জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করার সময় এ মসজিদটির সন্ধান পায়। মসজিদের কোনো প্রতিষ্ঠাতা বা নির্মাণকারীর সন্ধান না পেয়ে তখন ওই এলাকার মুসলমানরা এর নাম রাখে ‘আল্লাহর মসজিদ’। কেউ কেউ এটাও বলেন যে, সাবহি খান নামক এক ব্যক্তি ষোল শতকের প্রথমদিকে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে ইতিহাসে নির্মাতার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না।
    মসজিদটির গঠনশৈলী দেখলে তৎকালীন অনুন্নত বঙ্গের মুসলিম শাসক আর নির্মাতাদের অসাধারণ নির্মাণ কৌশল আর সূক্ষ্ম রুচি ও চিন্তাধারায় বিস্মিত হতে হয়। কসবা মসজিদের ভূমি-নকশা, অভ্যন্তরীণ বিন্যাস, ছাদের গম্বুজের অবস্থান, প্রবেশ দরজার অবস্থান ও অলংকরণ, চারকোণের বুরুজ ইত্যাদি দেখলে একে বাগেরহাটের খান জাহান নির্মিত ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং খুলনার মসজিদকুঁড় মসজিদের মতোই বলে মনে হবে। খান জাহানি স্থাপত্যরীতির সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ মিল থাকায় মনে করা হয় যে, খান জাহান আলী কর্তৃক এ অঞ্চল মুসলিম অধিকারে আসার পর পনেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে কসবা মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১১.৬৮ মিটার অর্থাৎ ৩৮ ফুট করে। বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার বড় কসবা এলাকায় অবস্থিত নয় গম্বুজবিশিষ্ট এই ঐতিহ্যবাহী ‘আল্লাহর মসজিদ’। মসজিদটির ছাদের ওপরে তিন সারিতে মোট নয়টি গম্বুজ রয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ চারটি পাথরের স্তম্ভের ওপর ভর করে দণ্ডায়মান। মনে করা হয় স্তম্ভগুলো আগ্নেয় শিলাজাত ব্যাসল্ট কিংবা ডলেরাইট পাথর দিয়ে নির্মিত।
  • মহিমান্বিত শবে কদর ও জুমাতুল বিদা

    মহিমান্বিত শবে কদর ও জুমাতুল বিদা

    আজ ১৪৪৫ হিজরি সনের রমজান মাসের তৃতীয় দশকের বিদায়কালীন শুক্রবার তথা শেষ জুমার দিন ‘জুমাতুল বিদা’। আর পবিত্র মাহে রমজানের ২৫ তারিখ। পবিত্র মাসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছি আমরা। আজই হবে এ বছরের রমজানের শেষ জুমা। এ দিনটি জুমাতুল বিদা নামে আখ্যায়িত। অবশ্য অভিধাটি পরিচিত হয়েছে সাম্প্রতিককালে। নিকট অতীতেও ‘জুমাতুল বিদা’ পরিভাষার ব্যবহার কিংবা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার নজির পাওয়া যায় না। তবে মৌলিক চেতনা ও ভাবধারা বিবেচনায় দিনটি গুরুত্বের অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত থাকতে পারে না।
    সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় জুমার দিনের বৈশিষ্ট্য, রমজান মাসে তাতে মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং রমজানের শেষ প্রান্তের বৈশিষ্ট্য-এ তিনের সমন্বয়ে এ দিনটির আলাদা মর্যাদা প্রমাণ হয়। উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সপ্তাহের প্রতিটি দিনেই ইবাদতের বিধান রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে বা মসজিদে সমবেত হয়ে সম্মিলিত আকারে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা মুসলমানদের প্রাত্যহিক কর্তব্য। তবুও সপ্তাহের একটি দিনে আরও বড় আকারে সম্মিলিত ইবাদত বা জুমার নামাজের বিধান মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য যেমন বাড়িয়ে দেয়, তেমন সামাজিক ও সামষ্টিক পর্যায়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে পরিবেশ তৈরি করে।
    আগামীকাল শনিবার ২৬ রমজান দিবাগত রজনিতে ‘লাইলাতুল কদর’ পালন করা হবে, যা আমাদের দেশে ‘শবে কদর’ নামে পরিচিত। এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। সাপ্তাহিক জুমার নামাজ মুসলমানদের বৃহত্তর জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। রমজান মাসের জুমাবার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময়। জুমাতুল বিদাসহ মাহে রমজানের প্রতি জুমাবারে ইবাদত-বন্দেগিতে অধিকতর সওয়াব লাভের সুবর্ণ সুযোগ থাকে। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটি মাস ত্যাগ-তিতিক্ষার সঙ্গে সিয়াম সাধনার পর এ দিনটিতে জুমার নামাজ আদায় করে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানান। পবিত্র কুরআনে শুক্রবারের নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জোরালো দিকনির্দেশনা দিয়ে সব মুসলমানকে এই দিন মসজিদে একত্র হয়ে জুমার নামাজ আদায়ের তাগিদ প্রদান করা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)
  • শবে কদরে যে দোয়া পড়বেন

    শবে কদরে যে দোয়া পড়বেন

    শবে কদর একটি মহিমান্বিত রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ মানুষের মুক্তি ও পথের দিশা দানের জন্য নাজিল করেছেন পবিত্র কুরআন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মুমিন-মুসলমানরা বিশেষ এ রাতটির জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করেন। এ রাতের উপস্থিতি কেউ জানতে পারলে তাকে নবীজি (সা.) বিশেষ দোয়া পড়তে বলেছেন। তবে রমজানের যেকোনো সময় সুন্দর অর্থপূর্ণ দোয়াটি পড়া যায়। শেষ দশকে বেশি বেশি পড়া উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত।
    আয়েশা (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী দোয়া পড়ব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি বলবে-‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি তো ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন (ইবনে মাজা : ৩৯৮২)। তাই মুমিন মুসলমানের উচিত, লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি এ দোয়া পড়া।
  • জাকাত আদায়ে উদাসীনতা নয়

    জাকাত আদায়ে উদাসীনতা নয়

    নামাজ-রোজার মতোই জাকাত একটি ফরজ বিধান। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার শৃঙ্খলা ও সামাজিক ভারসাম্য অটুট রাখার জন্য জাকাত ফরজ করেছেন। সমাজের সব মানুষের আর্থিক সঙ্গতি সমান নয়। কেউ অনেক বিত্তবৈভবের অধিকারী হয় কেউ, বা এক বেলার খাবার জোগাড়ের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়। আর্থিক এই বৈষম্য প্রাকৃতিক। কেউ চেষ্টা করেও তাকে বিলোপ করতে পারবে না। ইসলাম এক্ষেত্রে সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ বিধান দিয়েছে। ইসলাম সম্পত্তিতে মানুষের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে, কিন্তু সব সম্পদ কিছু ব্যক্তির কাছে সঞ্চয় করে রাখার অধিকার দেয় না। মেধা মনন ও যোগ্যতা দিয়ে কেউ অঢেল সম্পত্তির মালিক হতে পারে। কিন্তু বছরান্তে তার সম্পত্তিতে গরিব দুঃখী ও নিস্ব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এটা কুরআনের বিধান। আল্লাহর বিধান। কেউ যদি আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে বা উপেক্ষা করে তা হলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
    নবীজি (সা.) এর ইন্তেকালের পর একশ্রেণির লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। তখন হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর খেলাফতকাল। খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। হজরত ওমর ফারুক (রা.) আশ^স্ত হতে পারছিলেন না। তিনি বললেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, যেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত নবী, তার সঙ্গে যুদ্ধ করা যায় না। সে নিরাপদ হয়ে যায়। হজরত আবু বকর (রা.) হুংকার দিয়ে বললেন, যেই ব্যক্তি নামাজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে আমি তার সঙ্গে লড়াই করব। নবীজির সময় যারা জাকাত দিয়েছে তারা যদি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে আমি যুদ্ধ করব। আমি জীবিত থাকতে ইসলামের মধ্যে কোনো ক্ষতি সাধন হতে দেব না। পরে হজরত ওমর (রা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা হজরত আবু বকরের হৃদয় খুলে দিয়েছেন। নবীজির ইন্তেকালের পর প্রথম ফেতনা এটাই ছিল। হজরত আবু বকর (রা.) এর কঠোর পদক্ষেপে সে ফেতনা নির্মূল হয়।
    জাকাত যদি কেউ অস্বীকার করে তা হলে তার ঈমান থাকবে না। সে কাফের হয়ে যাবে। আর কেউ যদি জাকাত আদায় না করে তা হলে সে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন, ‘এবং যারা স্বর্ণ ও রুপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সে দিন বলা হবে) এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা রেখেছিলে। সুতরাং, এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ করো জমা করে রাখার’ (সুরা তাওবা : ৩৪-৩৫)
  • প্রাপ্তি ও অর্জনের হিসাব মেলানোর সময়

    প্রাপ্তি ও অর্জনের হিসাব মেলানোর সময়

    পবিত্র রমজান মাসের একেবারে শেষ প্রহরে উপনীত আমরা। রমজানের দুই মাস আগে থেকে আমরা দোয়া করেছিলাম, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তিনি বড় মেহেরবানি করে আমাদের সে দোয়া কবুল করেছেন। আমাদের সবগুলো রোজা রাখার তওফিক দিয়েছেন। নিশ্চয়ই একজন মুমিনের জন্য এই মুহূর্তটা বড়ই আনন্দের। কৃতজ্ঞতায় সেজদাবনত হওয়ার মুহূর্ত। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে এ কথাও ভাবনার বিষয়, যে আবেদন নিয়ে রমজান এসেছিল আমি সেই আবেদনে কতটুকু সাড়া দিতে পেরেছি। যে শিক্ষা রমজান আমাকে দিতে চেয়েছে আমি তা গ্রহণ করতে পেরেছি কি? আল্লাহ তায়ালা মুমিনের জন্য রমজান উপহার দিয়েছেন একটি বিশেষ উদ্দেশে। তা হলো তাকওয়া অর্জন করা।
    আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)। তাকওয়ার সরল অর্থ হলো, আল্লাহর আদেশগুলো যথাযথভাবে মানা এবং নিষেধগুলো থেকে পরিপূর্ণরূপে বিরত থাকা।
    রমজান এসে আমাদেরকে এই দুটি জিনিসের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রথমত, রোজা, নামাজ, তেলাওয়াত, দোয়া, দান, সহমর্মিতা, সংযম ও সততার গুণে গুণান্বিত হওয়ার প্রতি নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। দ্বিতীয়ত, পাপাচার, অশ্লীলতা, মিথ্যা ও পরনিন্দাসহ যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে অভ্যস্ত করেছে। সুতরাং, রমজানের এই শেষ প্রহরে অবশ্যই একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে, রমজানের উদ্দেশ্য অর্জন হয়েছে কি না? সঙ্গে সঙ্গে দৃঢ়প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে সামনের দিনে রমজানের দেওয়া শিক্ষাগুলো ধরে রাখার।
  • ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ

    ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ

    পবিত্র রমজানে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে যে ঈদ অনুষ্ঠিত হয়, তাকে ঈদুল ফিতর বলা হয়। ঈদ মানে খুশি। ইসলাম ধর্মের বিধানে দুটি ঈদ নির্ধারিত হয়েছে। রাসুল (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করলেন, সেখানে দেখতে পেলেন শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই বছরে দুদিন আনন্দ-উৎসব করে থাকে। সাহাবিদের মধ্যেও তেমন আবেগ-আগ্রহ পরিলক্ষিত হওয়ায় মহান আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) বার্ষিক দুটি ঈদ তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের ঘোষণা দিলেন (হুজ্জাতুল্লাহিল-বালিগা)।
    রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবে, যেদিন সব আত্মা-অন্তর (কেয়ামতের দিন) মারা যাবে, সেদিন তার অন্তর মরবে না। অর্থাৎ কেয়ামত দিবসের কঠিন বিপজ্জনক অবস্থা ও মহা আতঙ্কের মধ্যে যখন সবাই ভীতসন্ত্রস্ত ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে তখন এই ঈদের রাতে ইবাদতকারী বরং হাসিখুশির মধ্যে কাটাবে।’ (তাবারানি)
    ঈদের রাতের ফজিলত বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত-রাসুল (সা.) বলেন, রমজান মাসের শেষ রজনিতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার জন্য ক্ষমা ও দানের ফয়সালা করেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ওই রাতটিই কি শবে কদর? রাসুল (সা.) বলেন, না। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে কর্মচারী যখন কাজ বুঝিয়ে দেয় তখন তার পাওনাও পরিশোধ করে দেওয়া হয় (মুসনাদে আহমদ)।
    রাসুল (সা.) বোঝাতে চেয়েছেন, রোজাদারের আমল এদিন শেষ হয়। আর তখন আল্লাহ তায়ালার ঘোষণামাফিক যার যা প্রতিদান তা দেওয়া হয়। তাই ঈদের রাতে তওবা, ইস্তিগফার ও ইবাদতে মশগুল থাকা চাই। এ প্রসঙ্গে ‘আল মাওসূয়াতুল ফিকহিয়া আল কুয়েতিয়া’ নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘মুস্তাহাব হচ্ছে, উভয় ঈদের রাতে আল্লাহর ইবাদত, জিকির, তেলাওয়াত ও তাসবিহ-তাহলিলে মশগুল থাকা।’
  • ঈদুল ফিতরের ফজিলত ও আমল

    ঈদুল ফিতরের ফজিলত ও আমল

    পবিত্র মাহে রমজান শেষে এলো ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের অর্থ হচ্ছে রোজা ভাঙার উৎসব। তবে মুসলমানের আনন্দোৎসব আর অমুসলিমের আনন্দোৎসবে ভিন্নতা রয়েছে। মুমিনরা আনন্দোৎসব করে আল্লাহর পছন্দনীয় আমলের মাধ্যমে। কেননা মুসলমানের জীবন ও চিন্তা হয় আখেরাতকেন্দ্রিক। আসলে ঈদুল ফিতর আনন্দ ও ইবাদত দুটির সমন্বিত রূপ। এ আনন্দ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এতে নেই কোনো অশ্লীলতা ও পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দ শুধুই সওয়াব ও পুণ্যময়তা। সংযুক্ত আছে ইবাদতের নিষ্ঠা ও কর্তব্যের তাগিদ। ধনীর সঙ্গে যেন দুঃখী ও দুস্থরা আনন্দে সমান অংশীদার হয়ে ওঠে, প্রতিষ্ঠিত হয় সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এ জন্য ইসলাম ধনীদের ওপর ওয়াজিব করেছে সদকাতুল ফিতর। ঈদের জামাতে শরিক হওয়ার আগেই এই ফিতরা আদায়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যাতে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় সম্পদের সুষম বণ্টনের অনিবার্যতা। ফলে এ আনন্দ ছড়িয়ে যায় হৃদয় থেকে হৃদয়ে। শিশু-কিশোর থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার দেহ-মনে ঈদের ছোঁয়া লাগে। হতদরিদ্র, এতিম ও ছিন্নমূল মানুষের মুখেও হাসি ফোটে কিছু টাকা ও কিছু নতুন কাপড় পেয়ে।