পরকালের আজাব থেকে মুক্তির আমল

পবিত্র রমজানের তৃতীয় দশক চলছে। এই দশক জাহান্নাম হতে মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দশ দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের প্রচুর পরিমাণে জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করবেন। তাদের নরক হতে নিষ্কৃতি প্রদান করবেন। তবে কিছু আমল জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের সহায়ক হতে পারে। মহান আল্লাহর মুক্তি দানকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সেগুলোর মধ্য হতে অন্যতম হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ- নিষেধ মেনে চলা। তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ নিষেধ মেনে চললে এবং তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং জান্নাত লাভ করা যাবে। এ ব্যাপারে কুরআনে এসেছে, ‘যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ মতো চলে, তিনি তাকে জান্নাতগুলোতে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতঃস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হলো বিরাট সাফল্য। পক্ষান্তরে যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা নিসা: ১৩-১৪)
জাহান্নাম হতে মুক্তি পাওয়ার আরেকটি উপায় হলো রমজান মাসের রোজা রাখা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে এই দিনের বদলে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন’ (মুসলিম: ২৬০১)।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) আরও বলেন, মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিনে ও রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন’ (মুসনাদে আহমদ)। অন্য একটি হাদিসেও রোজাকে জাহান্নাম হতে প্রতিরক্ষার ঢাল বলে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রোজা ঢালস্বরূপ’ (বুখারি : ১৯০৪)।
রোজা পালন করার কারণে মহান আল্লাহ কেবল জাহান্নাম হতে মুক্তি দেবেন তা নয়, বরং রোজাদারদের জান্নাতেও প্রবিষ্ট করাবেন। এমনকি রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি স্বতন্ত্র ফটক রয়েছে। এই ফটক দিয়ে কেবল তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। হজরত সাহল (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন নিশ্চয়ই জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি ফটক রয়েছে, কেয়ামতের দিন এই ফটক দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? তখন রোজাদারগণ দাঁড়াবেন এবং জান্নাতে গিয়ে প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের প্রবেশ করা শেষ হবে তখন ফটকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।’ (বুখারি : ১৮৯৬)
জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের অন্য আরেকটি উপায় হলো মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা জীবন চলার পথে আমাদের অনেক গুনাহ হয়। প্রচুর অন্যায়, অপরাধ ও পাপ হয়ে যায়। এ জন্য এসব অপরাধ হতে ক্ষমাশীল আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা না করলে আমাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে। তাই জাহান্নাম হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও’। আবার কোনো ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের প্রার্থনা করলে জাহান্নাম বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দিয়ে দাও’ (ইবনে মাজাহ: ৪৩৪০)।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *