নিউজ সোনারগাঁ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জোটভুক্ত জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও খেলাফত মজলিসের রিক্সা প্রতীককে ঘিরে বিভক্তি এখন প্রকাশ্যে।
জোটের দুই দলই দাবি করছে, এই আসনে তাদের প্রার্থীই চূড়ান্ত। ফলে ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। কখনো শোনা যাচ্ছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী আসছেন, আবার খেলাফত মজলিসের সমর্থকরা দাবি করছেন, রিক্সা প্রতীকই বহাল থাকবে।
সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১০টি দল নিয়ে একটি জোট গঠিত হয়। জোট ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহজাহান শিবলিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই জামায়াতে ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
জামায়াত সমর্থকরা প্রার্থীর অগোচরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মানববন্ধন ও প্রচারণা শুরু করে। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন মাহমুদের নেতৃত্বে মোগরা চৌরাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের দায়িত্ব জামায়াত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেনকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এর জবাবে আজ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান শিবলি তার প্রার্থিতা বহাল রাখার দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এলে বিষয়টি নিয়ে জোটের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জোটের মনোনীত প্রার্থীকে অনেক ভোটার চিনে না। পাশাপাশি বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীর বিপরীতে লড়াই করতে জামায়াতে ইসলামের মতো সংগঠিত ও শক্তিশালী প্রার্থী প্রয়োজন বলে স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছে।
তিনি আরও জানান, ভোটারদের অসন্তোষ ও মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে গত শনিবার রাতে ঢাকায় জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রিকশা প্রতীকের পরিবর্তে জামায়াত সমর্থিত ড. ইকবাল হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে নামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।
সূত্র মতে, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহজাহান শিবলি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন। তবে তিনি যদি তা না দেন, তাহলে আগামীকাল রবিবার থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী প্রকাশ্যে নির্বাচনী মাঠে নামবেন।

Leave a Reply