পারলেন এমপি মান্নান: মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় মিলেছে যানজট থেকে স্বস্তি

নিউজ সোনারগাঁ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড, যা অনেকের কাছে থানা রোড নামেও পরিচিত। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সোনারগাঁ ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় সরু হওয়ায় এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকত।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় অনেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধি যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলেও তা স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান মোগরাপাড়া এলাকার যানজট নিরসনে সরাসরি উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বড় বড় শপিংমল, বাজার, রেস্তোরাঁ, স্কুল-কলেজ ও বাসস্ট্যান্ড থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে এখানে আসেন। পাশাপাশি শতাধিক অটোরিকশা, সিএনজি ও বিভিন্ন কোম্পানির ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো।
এর সঙ্গে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার আশপাশে রাস্তার উপর গড়ে ওঠা অবৈধ ফুটপাত ও হকারদের দোকান যানজটকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও রাজনৈতিক নানা কারণে আগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় যানজট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন এমপি মান্নান। পরে তিনি সরেজমিনে মোগরাপাড়া এলাকায় গিয়ে অবৈধ ফুটপাত ও দোকান উচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন কয়েকদিন ধরে অভিযান চালিয়ে মোগরাপাড়া ফুটওভার ব্রিজ এলাকা ও চৌরাস্তায় থাকা হকার ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের সহায়তায় প্রতিদিন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজও পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। এতে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। এখন লোকজন তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবে মোগরাপাড়ায় এসে কেনাকাটা করে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *