সোনারগাঁয়ে অনাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় আম-লিচুর ফলনে বিপর্যয়, লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা

নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চলতি মৌসুমে আম ও লিচুর ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ এবং দফায় দফায় শিলাবৃষ্টির কারণে লিচুর ফুল ও মুকুল ঝরে পড়েছে। একইভাবে খরার প্রভাবে আমের মুকুলও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আশানুরূপ ফলন হয়নি। ফলে ফলের আকার ও স্বাদে পরিবর্তন এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি আম গাছ রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ কম হলেও স্থানীয় চাহিদা মেটাতে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শীত শেষে গাছে মুকুল আসার পর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র খরায় সেই মুকুল শুকিয়ে ঝরে পড়েছে। ফলে অনেক গাছে এখন নতুন পাতার উপস্থিতি দেখা গেলেও ফলনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রায় ১০৮ হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সাড়ে ৩ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে সাধারণত প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়। তবে চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাগান ঘুরে দেখা গেছে, কদমি, চায়না-৩, মোজাফফরপুরী, এলাচি ও পাতি জাতের লিচু চাষ হলেও কদমি জাতের আধিক্য বেশি। কিন্তু এবার প্রতিটি গাছে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যেখানে একটি ছড়ায় সাধারণত ২০-৩০টি লিচু থাকে, সেখানে এখন মাত্র ২-৩টি দেখা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের।

বাগান মালিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত তাপদাহ ও শিলাবৃষ্টির কারণে কীটনাশক কার্যকর হয়নি। ফলে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়েছে এবং ফল ঝরে পড়েছে। গত বছর প্রতি পিস লিচু ৭-৮ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ৪-৫ টাকায়ও ক্রেতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে করে অনেকেই শ্রমিকের মজুরি নিজেদের পকেট থেকে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

লিচু চাষিরা বলেন, তীব্র গরমে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, ফলে লিচুর আকার ছোট হয়েছে এবং বাজারমূল্য কমে গেছে। সার্বিকভাবে এবারের মৌসুম তাদের জন্য হতাশাজনক।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর বাগানের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে এবং উৎপাদন ৭৫০ মেট্রিক টনে পৌঁছানোর আশা ছিল। কিন্তু তাপদাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কমে গেছে। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সীমিত পরিসরে স্প্রে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সরকারি কোনো আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সহায়তা সীমিত রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *