সোনারগাঁয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৯ নং পেরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা (সাম্মী) নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মানতে অনাগ্রহ দেখান। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজের ইচ্ছামতো দায়িত্ব পালন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে তার দুর্ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ জানান, সহকারী শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা প্রায়ই কাউকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং বিষয়টি জানতে চাইলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাকে একাধিকবার শোকজ করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দিন দিন তার আচরণ আরও কঠোর হয়ে উঠছে, যা বিদ্যালয়ের পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মীর মাসুম বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে ওই শিক্ষিকাকে অনুপস্থিত পান। পরে তাকে তলব করে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি ওই কর্মকর্তার সঙ্গেও অসদাচরণ করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
একাধিক অভিভাবক জানান, এ অবস্থায় তারা তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, উক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *