সোনারগাঁয়ে সরকারি রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার ফতেকান্দি এলাকায় সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতাসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফতেকান্দি গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব অনিক খাঁন সিয়ামের সঙ্গে প্রতিবেশী তাইজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত ২ এপ্রিল তাইজুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

তাইজুল ইসলামের অভিযোগ, মামলার বিষয়টি জানার পর গত মঙ্গলবার রাতে অনিক খাঁন সিয়ামের লোকজন মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। বুধবার সকালে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা এর প্রতিবাদ করলে অনিক খাঁন সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় তাইজুল ইসলামের ভাতিজা আবুল বাশারের দুটি ঘর ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা তমিজউদ্দিন বলেন, “সরকারি হালটের ওপর ঘর নির্মাণ এবং রাস্তা দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
তাইজুল ইসলাম বলেন, “জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো অধিকার কারও নেই। প্রতিবাদ করায় আমার ভাতিজার ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অনিক খাঁন সিয়াম। তিনি বলেন, “রাস্তা বন্ধ বা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক শাকিল সাইফুল্লাহ বলেন, “এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে ৯৯৯ থেকে একটি কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *