বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়নের সেকেরহাট এলাকায় রতন ভুঁইয়া নামে এক ব্যক্তির পৈত্রিক ৩ শতাংশ জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমিতে ইট দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা এবং বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সরেজমিনে সেকেরহাট চৌরাস্তার পাশে লায়েরবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রতন ভুঁইয়ার দাবি করা জমিতে ইট দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী রতন ভুঁইয়া জানান, তার বাবা আমির হোসেন ভুঁইয়া পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৩ শতাংশ জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটির খারিজ ও খাজনার কাগজপত্রও তার নামে রয়েছে। তবে তার এক চাচাতো ভাই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই জমি অন্য এক নারীর কাছে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রতন ভুঁইয়ার অভিযোগ, তার ৩ শতাংশ জমি নিয়ে জালিয়াতি করে ৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এরপর থেকে তাকে জমিতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি ও তার পরিবার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করায় জমিতে থাকা তার মেজো ভাইয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অভিযুক্তরা জমিতে ইট দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে তার ভাই বাধা দেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং বারবার তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে।
রতন ভুঁইয়া বলেন, “আমি আমার জমি বিক্রি করতে চাই না। এই জমিতে আমি থাকব। আমার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি আমার জমি ফেরত চাই। অন্যথায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দলিলপত্রের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল, ভুক্তভোগীকেই টিসি দিল বিদ্যালয়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্কুল চলাকালে বাইরে ঘোরাফেরা করায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী ছাত্রী সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি এলাকার বাসিন্দা এবং বাবা পেশায় পোশাক কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী ছেলে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার ভাড়াটে। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক ও মা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভাইরাল ভিডিও তাঁদের নজরে এসেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছে। এ সময় একটি ছেলে পেছন থেকে এক স্কুলছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে পেছন থেকে তাকে আবার লাথি মারা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। তখন অভিযুক্ত ছেলে পেছন থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে থাকা কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও করে রাখে। বৃহস্পতিবার তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ছেলেটিকে সালিসে কান ধরে ওঠবস করানোর আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছেলেটিকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি মেয়েকে আমি লাথি মেরেছি, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সে জন্য আমি মাফ চাচ্ছি। এই ভুল আমার দ্বারা আর হবে না। আমি কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে লাথি মারার ভিডিওটি এক মাস আগের। স্কুলের সময় বাইরে ঘোরাফেরা করায় স্কুলের স্যাররা বিচার করে আমার মেয়েকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে।’ অভিযুক্ত ছেলেটির কোনো বিচার হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কাজকর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়াতে পারব না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।’
জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্কুল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে টিসি দিয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি স্কুলের বাইরে, তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে।














