পরিমল বিশ্বাস | সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী, জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মসজিদের উন্নয়ন এবং একটি দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামতের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল মুজাহিদ মল্লিক।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে তিনি বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক জামে মসজিদ, জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য এবং নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের একটি অসহায় পরিবারের ঘর মেরামতের উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ প্রদান করেন।
এ সময় আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, “আমি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহযোগিতায় কাজ করে যাব। সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল-কলেজসহ সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে চাই। আপনাদের সেবা করার সুযোগ যেন সব সময় পাই, সে জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”
স্থানীয়রা এ সহায়তার জন্য আল মুজাহিদ মল্লিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
Category: ইউনিয়ন
-

সোনারগাঁয়ে মসজিদ ও দরিদ্র পরিবারের ঘর মেরামতে আর্থিক সহায়তা দিলেন মুজাহিদ মল্লিক
-

সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সিসি রাস্তা ভাঙার অভিযোগ, সোনারগাঁয়ে জনদুর্ভোগ
সোলায়মান হাসান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সিসি ঢালাই রাস্তা অনুমোদন ছাড়াই ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কাবিখা প্রকল্পের আওতায় এলাকায় প্রায় এক হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ওই প্রকল্পে ব্যবহৃত ভেকু (খননযন্ত্র) চলাচলের সুবিধার্থে চলাচলযোগ্য সিসি রাস্তার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ভেকু দিয়ে রাস্তাটি ভাঙা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমি কারও অনুমতি নিইনি। নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি ভেঙেছি। কাজ শেষে আবার রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ভাঙা আইনসঙ্গত নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কার স্বার্থে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি সাধারণ মানুষের নিয়মিত চলাচলের পথ নয়। অথচ প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান সিসি সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ করে রাস্তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রাস্তা ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম ভুইয়াসহ স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো অবকাঠামো অপসারণ বা ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজ সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। -

সোনারগাঁয়ে কৃষকের ঢেঁড়স বাগান ও ৮০টি কলাগাছ কেটে নষ্ট, অভিযোগ দায়ের
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ এলাকায় এক কৃষকের জমির ফসল ও কলাগাছ রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোতাহার তালতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা কৃষক মোতাহারের ১০ শতাংশ জমিতে থাকা ফসলি ঢেঁড়স গাছ এবং প্রায় ৮০টি কলাগাছ কলাসহ কেটে ফেলে। এতে তার প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোতাহার বলেন, “রাতের আঁধারে কে বা কারা আমার জমির ফসল ও কলাগাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে আমার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও আমার সরিষা ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছিল, যার ফলে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনার কারণে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আমি তালতলা তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। -

যে কারণে মদিনা শপিংমলে আগুন লাগে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শপিংমলের নিচতলার ফায়ার ইকুইপমেন্ট রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় বৈদ্যুতিক মিটার, তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দোকানদারদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কেট মালিক নবী হোসেন বলেন, প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। -

শম্ভুপুরায় গৃহবধূ ঝুমুরের মৃত্যুর ঘটনায় জনির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নে গৃহবধূ ঝুমুরের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে প্রতারণা, মানসিক নির্যাতন ও হুমকির মুখে পড়ে ঝুমুর আত্মহননে বাধ্য হয়েছেন। তারা অভিযুক্ত জনির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা বাসেদ মিয়া অভিযোগ করেন, ঝুমুরের স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে জনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার পর জনি তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ের দাবিতে গত রোববার জনির বাড়িতে গেলে ঝুমুর নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন বলে দাবি পরিবারের।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদ আলী, ইউপি সদস্য শামিম, এজাজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদ আলী। তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঝুমুর ইউপি সদস্য শামিমের এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলছেন।”
ইউপি সদস্য শামিম বলেন, “ঝুমুরের সঙ্গে জনির সম্পর্ক ছিল বলে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার আলোচনা হয়েছিল।” তবে আইনগতভাবে এমন সমঝোতা বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জনি পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি নিউজ করে যা করার করেন।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। -

সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার শনির আখড়া এলাকা থেকে সাত বন্ধু সোনারগাঁয়ের মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় ঘুরতে আসে। একপর্যায়ে তারা মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় পাঁচজন তীরে উঠতে পারলেও মেরাজ (১৫) ও কায়েস (১৩) নামে দুই ছাত্র নদীতে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মেরাজ বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং ঢাকার দড়িয়া এলাকায় বসবাস করত। অপর নিহত কায়েস শনির আখড়ার একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র।সোনারগাঁ নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন হায়দার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সাতজন ছাত্র মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় ঘুরতে এসে নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় দুইজন পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
-

সোনারগাঁয়ের মেঘনা ফেরিঘাটে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ
নিউজ সোনারগাঁ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে ফাহিম ও মেরাজ নামে দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকার শনির আখড়া এলাকা থেকে ৮ বন্ধু সোনারগাঁয়ে ঘুরতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় ৬ জন নিরাপদে তীরে উঠতে পারলেও ফাহিম ও মেরাজ নিখোঁজ হয়।
ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মেঘনা ফেরিঘাট এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রের সন্ধান মেলেনি। -

বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় মানড়া গ্রামের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, তার ছেলে শাকিল হোসেনকে বিদেশে মাসিক এক লাখ টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৯ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাব ও নগদে ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন জানান, বিদেশে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা চাইলে তাকে নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি মতিঝিলে অবস্থিত অফিসে টাকা চাইতে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিচার না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলার বাদী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার বক্তব্য শুনে আমরা মর্মাহত। চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ফারুক আহমেদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক আহমেদ বলেন, “বাদীর সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। বরং আমি তার কাছে টাকা পাব। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করব।”
মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। -

সোনারগাঁয়ে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালত বিষয়ক বার্ষিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বার্ষিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পেইনের প্রতিপাদ্য ছিল, “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম্য আদালতে।”
অনুষ্ঠানে গ্রাম্য আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে সচেতন করতে এ আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতের ওপর চাপও কমে।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে উপস্থিত সাধারণ জনগণের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ ভুঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা গ্রাম্য আদালত সমন্বয়কারী মনিরুল ইসলাম মনির, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আসিয়া বেগম, উর্মি আক্তার ও নার্গিস আক্তারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় ১২০ জন নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা গ্রাম্য আদালতের সেবাকে আরও জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। -

সোনারগাঁয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়িতে চুরির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাড়ির কাজের মহিলার স্বামীকে অভিযুক্ত করেছেন বাড়ির মালিক। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ তারিখের পর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সালাউদ্দিন মাসুম বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এ সুযোগে বাড়িতে সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কোন দিন চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
সালাউদ্দিন মাসুম জানান, গত ৫ জুন তার বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে বাড়ির কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। ঈদুল আজহার সময় তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে এসে ঈদ উদযাপন করেন। ঈদ শেষে তারা চলে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি জানতে পারেন যে তার বাড়িতে চুরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তাদের বাড়িতে কর্মরত এক গৃহকর্মীর স্বামী আলমগীর চুরির সঙ্গে জড়িত। তার বাড়িতে চুরির কিছু মালামাল পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চুরি হওয়া মালামালের পরিমাণ এবং এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। -

সোনারগাঁয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ আটক ২
নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনারগাঁয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ আটক ২
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১২ জুন) অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, জামপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ (৪০) এবং একই এলাকার শাহিন মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত শহীদসহ কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরে এবং সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে তার হাত ও মুখ বেঁধে পরনের কাপড় খুলে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে কক্ষে রেখে চলে যায়। সন্ধ্যায় তার স্বামী বাড়িতে ফিরে এলে তিনি পুরো ঘটনা জানান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার হোসেন বলেন, “সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।” -

সোনারগাঁয়ে শপিংমলের মোবাইলের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, প্রায় দেড় কোটি টাকার মোবাইল খোয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রিন্সিপাল-১০০ শপিংমলে অবস্থিত আমিনুল টেলিকমে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১৪৬টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ধরা পড়ে।
দোকানের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে তারা বাসায় চলে যান। শুক্রবার সকালে দোকানে এসে দেখতে পান দোকানের দুটি তালা ভাঙা। পরে শাটার খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে দোকান এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। ডিসপ্লেতে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ১৪৬টি মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে।
তারা আরও জানান, একটি আধুনিক শপিংমলে দিনের আলোয় এমন চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক। ঘটনার পর মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরা পরীক্ষা করতে গিয়ে জানা যায়, দোকানের ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বড় শপিংমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে এত দুর্বল হতে পারে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চুরি হওয়া মোবাইলগুলোর মধ্যে কিছু আইফোন সরাসরি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এসব মোবাইলের সবগুলোর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।প্রিন্সিপাল হাড্রেট প্লাজার একজন নিরাপত্তা কর্মী জানান, আমরা প্রতিদিন সকাল ৯টায় মার্কেট খুলে দেই। এসময় দোকানদার থেকে শুরু করে কাষ্টমার ডুকে কে চুর কে চুর না আমরা কিভাবে বুঝবো। এছাড়া এসময় মার্কেট থেকে কাউকে বড় কোন ব্যাগ নিয়েও বের হতে দেখিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। -

সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমান। অভিযানটি দুপুর পর্যন্ত চলে।
এসময় মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম শেখসহ পুলিশ সদস্যরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ বা দখলের চেষ্টা করা হলে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়।
-

সোনারগাঁয়ে ঝালমুড়ির দাম চাওয়ায় বিক্রেতাকে পিটিয়ে আহত
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের রাউতগাঁও এলাকায় ঝালমুড়ির দাম চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিক্রেতাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পেচাইন এলাকার মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪০) ঝালমুড়ি বিক্রির জন্য রাউতগাঁও এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন (৪৫) তার কাছ থেকে ঝালমুড়ি খান।
খাওয়া শেষে শফিকুল ইসলাম মূল্য দাবি করলে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি কাঠের চেলা দিয়ে শফিকুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে শফিকুল ইসলামের মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা আহত শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামান্য কয়েক টাকার জন্য এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ::: -

সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বেলাব এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলাব এলাকায় সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিমের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে মো. আলাউদ্দিন পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বাড়িটি দীর্ঘদিন নির্জন থাকায় সেখানে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। আলাউদ্দিনের পরিবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ জুন বিকেলে পেরাব এলাকার আরিফের ছেলে শাওন (২৫), লিটনের ছেলে সাব্বির (২৬), দুলালের ছেলে রাতুল (২৫), ওমেদের ছেলে আবির (২৩) এবং অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আলাউদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের টিন কুপিয়ে ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় আলাউদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪৮) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলাউদ্দিনের পরিবার জানায়, হামলাকারীদের ভয়ে তারা বর্তমানে বাড়িছাড়া অবস্থায় রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী রুনা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, “এটি একটি সাজানো ঘটনা। আমরা এর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” -

সোনারগাঁয়ে ছেলের আত্মহত্যার শোকে বাবারও মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দমদমা গ্রামে পারিবারিক সমস্যার জেরে উজ্জ্বল নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন উজ্জ্বল। এসব সমস্যার ভার সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে উজ্জ্বলের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, শোকাহত অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
একই পরিবারের বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দমদমা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, উজ্জ্বল একজন পরিচিত ও মিশুক মানুষ ছিলেন। তার অকাল মৃত্যু এবং সেই শোক সইতে না পেরে বাবার মৃত্যুর ঘটনা সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।