সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সিসি রাস্তা ভাঙার অভিযোগ, সোনারগাঁয়ে জনদুর্ভোগ

সোলায়মান হাসান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সিসি ঢালাই রাস্তা অনুমোদন ছাড়াই ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কাবিখা প্রকল্পের আওতায় এলাকায় প্রায় এক হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ওই প্রকল্পে ব্যবহৃত ভেকু (খননযন্ত্র) চলাচলের সুবিধার্থে চলাচলযোগ্য সিসি রাস্তার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ভেকু দিয়ে রাস্তাটি ভাঙা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমি কারও অনুমতি নিইনি। নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি ভেঙেছি। কাজ শেষে আবার রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ভাঙা আইনসঙ্গত নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কার স্বার্থে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যে মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি সাধারণ মানুষের নিয়মিত চলাচলের পথ নয়। অথচ প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান সিসি সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ করে রাস্তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রাস্তা ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম ভুইয়াসহ স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ নিরসনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো অবকাঠামো অপসারণ বা ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজ সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *